রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

সুন্দরবনে বাঘিনীর প্রত্যাবর্তন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণের নতুন আশাবাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে বাঘিনীর প্রত্যাবর্তন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণের নতুন আশাবাদ

সম্পাদকীয়

আমাদের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। প্রায় ছয় মাস মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়াই করার পর, নিবিড় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় সুস্থ হয়ে অবশেষে সুন্দরবনে ফিরছে গুরুতর আহত একটি রয়েল বেঙ্গল বাঘিনী। রোববার বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাঘিনীটিকে তার চিরচেনা প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো গুরুতর আহত বাঘকে উদ্ধার করে, দীর্ঘমেয়াদি ও আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ করে বনে ফিরিয়ে দেওয়ার এমন সফল উদ্যোগ নেওয়া হলো। এই ঘটনাটি নিঃসন্দেহে দেশের বন্য প্রাণী সুরক্ষায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সবার জন্য এক বিরাট সাফল্য এবং বড় অনুপ্রেরণা।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা অবৈধ ছিটকা ফাঁদে আটকে পড়েছিল প্রায় ১০ বছর বয়সী এই বাঘিনীটি। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় তার সামনের বাঁ পায়ের চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন বিভাগ সময়মতো উদ্ধার না করলে হয়তো সুন্দরবনের এই অমূল্য সম্পদটি আমাদের হারাতে হতো। উদ্ধার পরবর্তী সময়ে খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চলে তার জীবন বাঁচানোর লড়াই। অস্ত্রোপচার, নিয়মিত ড্রেসিং ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর বাঘিনীটি এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং প্রাকৃতিকভাবে শিকার করতে সক্ষম।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি প্রমাণ করে যে সঠিক সময়ে উদ্ধার, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা থাকলে সংকটাপন্ন বন্য প্রাণীকেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এই ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদের ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের দক্ষতা ও বন বিভাগের আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সুন্দরবনের মতো একটি সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ভূমিকা অপরিসীম। একটি বাঘিনীকে সুস্থ করে বনে ফিরিয়ে দেওয়া মানে কেবল একটি প্রাণীর জীবন রক্ষা করা নয়, বরং সুন্দরবনের বংশবৃদ্ধির ধারা ও বাস্তুতন্ত্রকে আরও সুসংহত করা।

তবে এই আনন্দের খবরের সমান্তরালে যে অন্ধকার দিকটি আমাদের ভাবিয়ে তোলে, তা হলো সুন্দরবনে শিকারিদের পেতে রাখা অবৈধ ছিটকা ফাঁদ। জাতীয় পশু হিসেবে বাঘ যেখানে আমাদের গর্ব, সেখানে বনের ভেতরে অবাধে ফাঁদ পেতে বাঘ বা হরিণ শিকারের এই অপচেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগের। আজ বন বিভাগের আন্তরিকতায় এই বাঘিনীটি রক্ষা পেলেও, নজরদারির অভাবে কত বন্য প্রাণী নীরবে-নিভৃতে প্রাণ হারাচ্ছে, তার হিসাব আমাদের জানা নেই।

আমরা বাঘিনীটির এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাই এবং আশা করি বন বিভাগ তার অবমুক্তির পর উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সুন্দরবনের ভেতরে টহল ব্যবস্থা জোরদার, অবৈধ শিকারিদের দমন এবং বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বন্য প্রাণী রক্ষায় এই ধরনের সফল চিকিৎসার অবকাঠামো আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সুন্দরবনকে বন্য প্রাণীদের জন্য একটি নিরাপদ ও শঙ্কাহীন অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তবেই এই ধরনের সাফল্যের প্রকৃত সার্থকতা আসবে।

 

Ads small one

পাটকেলঘাটায় ২০ বছর ধরে বেহাল দূর্বাডাঙ্গা-গাছা সড়ক, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় ২০ বছর ধরে বেহাল দূর্বাডাঙ্গা-গাছা সড়ক, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটা থানার দূর্বাডাঙ্গা-গাছা গ্রামের ১ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কটি স্থায়ীভাবে মেরামত না করায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকার হাজারো মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ এখন চরমে, বিশেষ করে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাময় ও চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে যেমন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, খলিসখালি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোজাফফর রহমানের আমলে রাস্তাটি মাটি দিয়ে উঁচু করা হয়েছিল, যার ফলে সে সময় সাময়িক কিছুটা স্বস্তি মিলেছিল। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য পঙ্কজ কুমার এলাকার মানুষের যাতায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বছরের পর বছর ধরে চলা এই দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

 

প্রাথমিকে বৃত্তির ফলাফলে পাইকগাছায় সেরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
প্রাথমিকে বৃত্তির ফলাফলে পাইকগাছায় সেরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলায় ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সদ্য প্রকাশিত ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, এই বিদ্যালয় থেকে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে মোট ৩২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ২৪ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ জন ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) এবং ৫ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। উল্লেখ্য, এবার পুরো পাইকগাছা উপজেলায় মোট ৫৩ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে, যার মধ্যে ১৯ জনই এই বিদ্যালয়ের।
শিক্ষার্থীদের এই গৌরবময় সাফল্যে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম আমিনুর রহমান লিটু ও সাবেক প্রধান শিক্ষক মিলি জেসমিনসহ সকল সহকারী শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলম ও সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিয়ার রহমান। এই সাফল্যে এলাকায় আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।

 

পাইকগাছার ভোলানাথ সুখদা সুন্দরী পুজা মন্দির কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছার ভোলানাথ সুখদা সুন্দরী পুজা মন্দির কমিটি গঠন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অশোক কুমার ঘোষকে সভাপতি ও সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধানকে সাধারণ সম্পাদক করে পুনরায় বাজার খোলার ভোলানাথ সুখদা সুন্দরী সর্বজনীন পূজা মন্দিরের ত্রি বার্ষিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১১ জুলাই সন্ধ্যায় পূজা মন্দিরে আয়োজিত সাধারণ সভায় সভাপতিত্বে করেন মন্দির কমিটির সভাপতি অশোক কুমার ঘোষ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্দির কমিটির নিরজ্ঞন কুমার ঘোষ, শিক্ষক অবসরপ্রাপ্ত বিমল কান্তি ঘোষ, গৌতম বিহারী ঘোষ, অধ্যাপক পিজুষ কান্তি ঘোষ, রজ্ঞন ভদ্র, শেখর রজ্ঞন ভদ্র, তরুন কুমার ঘোষ, অনুপ ঘোষ, সুপ্রিয় ঘোষ, অলোকেশ ঘোষ, প্রদিপ রায়, নারায়ণ ঘোষ, আশুতোষ রায়, অমল বিশ্বাস, স্বপন বিশ্বাস, বিশ্বনাথ রায়, সমর ঘোষ, পুরোহিত অপু চক্রবর্তীসহ অনেকে।