বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না: ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না: ইরান

পশ্চিম এশিয়া ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছেন এক ইরানি বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ খবর জানিয়েছে।

তেহরানভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আব্বাস আসলানি সম্প্রতি সিনহুয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কয়েক সপ্তাহের সংঘাত এবং ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের পরও তেহরান দুর্বলতা বা আত্মসমর্পণের কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

বর্তমানে ইরানের মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া বলে জানিয়েছেন তিনি।

আসলানি জানান, ইরানের জ্বালানি, বিজ্ঞান, চিকিৎসা এবং শিল্প অবকাঠামোতে হামলা প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সামরিক এবং কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এই হামলাগুলোকে ‘যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। বিশেষ করে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো শান্তিপূর্ণ স্থাপনায় হামলা বড় ধরনের আঞ্চলিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি আরও বলেন, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছিল। তবে ইরান বেশ ভালোভাবে পাল্টা জবাব দিয়েছে।

আসলানির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ভেনেজুয়েলার মডেলে বিবেচনা করে ভুল হিসাব কষেছিল। কিন্তু বাস্তবে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতাও অটুট রয়েছে।

প্রসঙ্গত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানসহ কয়েকটি ইরানি শহরে যৌথ হামলা চালায়। এতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক লোকজন নিহত হন। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সম্পদের পাশাপাশি কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

Ads small one

দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পাইকগাছার দুই ভায়রা ভাইয়ের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পাইকগাছার দুই ভায়রা ভাইয়ের

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা থেকে ট্রাকযোগে তরমুজ বিক্রি করে দিনাজপুর থেকে ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আপন দুই ভায়রা ভাইর করুন মৃত্যু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানাগেছে, বুধবার দিনগত গভীর রাতে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সোনামুখি শৌল্লা এলাকার মাদরাসা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, পাইকগাছা উপজেলরা ভিলেজ পাইকগাছার মোঃ হানেফ মোড়ল ( ৫৬) ও বেতবুনিয়া গ্রামের মোঃ শরিফুল সানা ( ৪৫)। নিহত দুই জনেই আপন ভায়রা ভাই। তারা দুই জন প্রতিবছরের ন্যায় এ মৌসুমেও শ্বশুর বাড়ি গড়ইখালীর পাতড়াবুনিয়া-আমিরপুর এলাকায় তরমুজ আবাদ করেন। সেই উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করতে গিয়েছিল দিনাজপুর।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে ঢাকা মেট্রো-ট ২২-২৮৯৭ নম্বরের একটি আলু বোঝাই ট্রাক এবং যশোর-ট ১১-২৮৫৮ নম্বরের একটি ভুষি বোঝাই ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাক দুটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শরিফুলের মৃত্যু হয় এবং মোঃ হানিফ মোড়ল (৫০) বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশ টার দিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

নিহতরা পাইকগাছার পতড়াবুনিয়ার কেরামত গাইনের দুই জামাতা। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহতদের পরিবারে ও বাড়ী এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

 

পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে র‌্যালি শেষে হলরুমে এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমদ। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

মেডিকেল অফিসার ডাঃ অর্ণব ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী, ডাঃ মো. জহুরুল ইসলাম, ডাঃ সঞ্জয় কুমার মন্ডল, ডাঃ শাকিলা আফরোজ।

সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ, নবোলকের প্রতিনিধি ফারহানা আফরোজ, ওয়ার্ল্ড ভিশনের মার্শিয়া হাওদার, সিনিয়র স্টাফ নার্স রেহানা পারভীন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক রুহুল কুদ্দুস এবং প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র শিকারীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তাপপ্রবাহ, বিদ্যুৎঘাটতি ও অন্ধকারের অন্তর্লিখন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
তাপপ্রবাহ, বিদ্যুৎঘাটতি ও অন্ধকারের অন্তর্লিখন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশে গ্রীষ্ম মানেই তাপদাহ, আর তাপদাহ মানেই বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ-এই বাস্তবতা নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি কেবল মৌসুমি চাপের সীমা অতিক্রম করে একটি গভীর কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজশাহী, খুলনা বিভাগসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপপ্রবাহের সঙ্গে বিদ্যুৎঘাটতি যেভাবে একসঙ্গে প্রকট হয়েছে, তা আমাদের বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, পরিকল্পনার অসামঞ্জস্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

 

এই সংকটকে বোঝার জন্য কেবল বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলেই হবে না; বরং এর পেছনের কাঠামোগত কারণ, নীতিগত সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব-সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে-এটি একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া। গরমে ফ্যান, এয়ারকন্ডিশনার, পানির পাম্প-সবকিছুর ব্যবহার বেড়ে যায়।

 

শিল্পকারখানায়ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন বাড়ে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা একধাক্কায় কয়েক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে উৎপাদন হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম। ফলে তৈরি হচ্ছে ঘাটতি, যা লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সামাল দেওয়া হচ্ছে।

 

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো-এই চাহিদা কি সত্যিই অপ্রত্যাশিত? না, মোটেই নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতি বছরই তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়। কাজেই পরিকল্পনা থাকলে এই চাহিদা মোকাবিলা করা সম্ভব ছিল। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো-উৎপাদন সক্ষমতা ও বাস্তব উৎপাদনের মধ্যে বিশাল ব্যবধান।

 

দেশে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এর প্রধান কারণগুলো হলো: গ্যাস, কয়লা ও তেলের সরবরাহে ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় বাধা। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো গ্যাস পাচ্ছে না, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো কয়লার অভাবে বন্ধ বা আংশিক চালু, আর তেলচালিত কেন্দ্রগুলো তেলের উচ্চমূল্য ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে সীমিত উৎপাদনে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ক্রমেই আমদানিনির্ভর হয়ে উঠেছে।

 

কয়লা, এলএনজি, এমনকি বিদ্যুৎও আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহে বিঘœ ঘটলেই দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হয়। বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু সংকটের সময় এসব ত্রুটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। গত এক দশকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে। নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, উৎপাদন সক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এই বিনিয়োগের একটি বড় অংশ ছিল পরিকল্পনাহীন বা অসমন্বিত।

 

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগে জ্বালানির স্থায়ী উৎস নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এখন কেন্দ্র আছে, কিন্তু চালানোর মতো জ্বালানি নেই। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্র চালু থাকুক বা না থাকুক, সরকারকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হয়। এতে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে পরিকল্পনা অনেক সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

 

বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো-গ্রামাঞ্চলে এর প্রভাব অনেক বেশি। শহরে তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলেও গ্রামে দিনে ৮-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এই বৈষম্যের কারণগুলো হলো:শহরে শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেশি, তাই সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। গ্রামীণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা সীমিত সরবরাহকে “লোড ম্যানেজমেন্ট” করার সময় গ্রামকে সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া কিন্তু এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।

 

কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতি এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লোডশেডিং কেবল একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট। সেচব্যবস্থা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ না থাকলে কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারেন না। ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায়। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা রাতে পড়াশোনা করতে পারে না। পরীক্ষা সামনে থাকলেও তারা প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হয়। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়।

 

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকটকে পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখা যাবে না। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনও এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে প্রশ্ন হলো-এই ঝুঁকিগুলো কি আগে থেকে অনুমান করা যেত না? নিশ্চয়ই যেত। কিন্তু সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয়। জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার করা, লোডশেডিং বণ্টনে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা, বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, পরিকল্পনা প্রণয়নে রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করা, বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট কেবল একটি মৌসুমি সমস্যা নয়; এটি একটি কাঠামোগত ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।

 

তাপপ্রবাহ সাময়িকভাবে এই সংকটকে তীব্র করেছে, কিন্তু এর মূল কারণ নিহিত রয়েছে নীতিগত দুর্বলতা ও পরিকল্পনার ঘাটতিতে। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও ঘন ঘন ও তীব্র আকারে ফিরে আসবে। বিদ্যুৎ খাত একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মেরুদ-। সেই মেরুদ- যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে উন্নয়নের পুরো কাঠামোই ঝুঁকির মুখে পড়ে। অতএব, সময় এসেছে কাগুজে সক্ষমতার মোহ থেকে বেরিয়ে বাস্তবসম্মত, টেকসই ও জবাবদিহিমূলক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার। নইলে তাপপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকারই হবে আমাদের নিত্যসঙ্গী।

লেখক: সংবাদকর্মী