রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

১৪ বছর পর নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
১৪ বছর পর নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ

এশিয়ান বিচ গেমসে নারী কাবাডির সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারলেও বড় এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে পৌঁছে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই আসর থেকে পদক পুনরুদ্ধার করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০১২ সালের পর এশিয়ান বিচ গেমসের কাবাডিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম পদক।

চীনের সানিয়ায় এশিয়ান বিচ গেমস নারী কাবাডির ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের শক্তিশালী দেয়াল টপকাতে পারেনি বাংলাদেশ। সেমিফাইনালের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ভারতের কাছে ৫০-৩১ পয়েন্টে পরাজিত হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে ফাইনালে পৌঁছাতে না পারলেও খালি হাতে ফিরছে না বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে খেলার নিয়ম অনুযায়ী নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ পদক। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশের নারী দলটি র‍্যাংকিংয়ে তৃতীয় স্থান নিয়ে আসর শেষ করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় ডিফেন্ডার ও রেইডারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেন বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর ছিল ভারত ২২, বাংলাদেশ ১৫। মাত্র ৭ পয়েন্টের ব্যবধান থাকায় বিরতি পর্যন্ত ম্যাচে ফেরার ভালো সম্ভাবনা ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ভারতের অভিজ্ঞ রেইডারদের পয়েন্ট সংগ্রহের ঝড়ে ব্যবধান দ্রুত বাড়তে থাকে। শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরবোর্ডে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫০, আর বাংলাদেশ থামে ৩১ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত ১৯ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় নিয়ে ম্যাচ শেষ করে ভারত।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে ত্রাহি দশা, সঙ্গে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে ত্রাহি দশা, সঙ্গে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরায় বৈশাখের শুরুতেই জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে তীব্র দাবদাহে। একদিকে আগুনঝরা রোদ, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। এতে বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিÑসবখানেই নাভিশ্বাস দশা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলাবাসী।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সাতক্ষীরায় তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় (৮৫-৯০%) অনুভূত তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী ৫-৬ দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা ক্ষীণ, ফলে গরমের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
গত এক সপ্তাহ ধরে সাতক্ষীরা সদরসহ সাতটি উপজেলায় দিনে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। রাতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ছে। সদরের ধুলিহর এলাকার কৃষক ইমরান হোসেন বলেন, “সারাদিন মাঠে কাজ করে রাতে যে একটু ঘুমাব, তার উপায় নেই। রাত ১২টায় কারেন্ট গিয়ে আসে ভোরে। হাতপাখা ঘুরিয়েই রাত পার করতে হচ্ছে।”
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। শহরের জজকোর্ট এলাকার দোকানদার আলতাফ হোসেন জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম ও কোল্ড ড্রিংকস গলে নষ্ট হচ্ছে। জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা সামাল দেওয়ার উপায় নেই ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে। একই অবস্থা শহরের সেলুন, ওয়েল্ডিং ও কম্পিউটার কম্পোজের দোকানগুলোতেও।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকলেও লোডশেডিংয়ের সময় ওটি ও আইসিইউ ছাড়া কোথাও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। শিশু ওয়ার্ডের এক রোগীর স্বজন সালমা বেগম বলেন, “বাচ্চার শ্বাসকষ্টের জন্য নেবুলাইজার দিতে গিয়ে দেখি কারেন্ট নেই। এই গরমে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।” জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে হিট স্ট্রোক ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার লাইট বা মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। ডিবি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলাম বলেন, “স্কুলে সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কিছুই ব্যবহার করা যাচ্ছে না।”
সাতক্ষীরার অর্থনীতির মূল ভিত্তি চিংড়ি ও বোরো চাষ এখন বড় ঝুঁকিতে। আশাশুনির ঘের মালিক ফারুক হোসেন জানান, তীব্র গরমে ঘেরের পানি শুকিয়ে অক্সিজেন সংকট দেখা দিচ্ছে। এয়ারেটর চালানোর মতো বিদ্যুৎ না থাকায় মাছ মরে ভেসে উঠছে। অন্যদিকে, সেচ পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় বোরো ধান চিটা হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৩০ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮৫-৯০ মেগাওয়াট। সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জানান, চাহিদার তুলনায় ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট রুটিন মানা হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ বলেন, “লোডশেডিং হলেও যেন একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে করা হয়, যাতে মানুষ প্রস্তুতি নিতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও সেচ পাম্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ দেওয়া প্রয়োজন।”
তীব্র গরমে একটু বৃষ্টির জন্য যখন হাহাকার চলছে, তখন অনিয়মিত লোডশেডিং জেলাবাসীর কষ্টকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত হাতপাখা আর বৃষ্টির প্রার্থনাই যেন সাতক্ষীরাবাসীর একমাত্র অবলম্বন।

 

কলারোয়ায় ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসব

oppo_0

সংবাদদাতা: কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির ধুম পড়েছে। পুকুর বা ঘের খননের নামে অবৈধ ভেকু মেশিন দিয়ে দিনরাত কাটা হচ্ছে তিন ফসলি জমির মাটি। এসব মাটি ড্রামট্রাক ও ট্রাক্টরে করে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি কমছে, অন্যদিকে ধুলাবালি ও কাদায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকির অভাবে ‘মাটিখেকো’ চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে এই অবৈধ কারবার চালিয়ে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
সরেজমিনে কেরালকাতা ইউনিয়নের নাকিলা উত্তরপাড়া ও বহুড়া দক্ষিণপাড়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অন্তত তিনটি স্থানে বড় বড় গর্ত করে মাটি কাটা হচ্ছে। ৮ থেকে ১২ ফুট গভীর করে মাটি তোলায় পাশের জমিগুলোও এখন ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, যশোরের শার্শা উপজেলার বেলতলা এলাকার নূর ইসলাম, নাকিলা গ্রামের কিতাব আলী ও পুটুনি গ্রামের রাশেদসহ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মাটি বহনের কাজে ব্যবহৃত অবৈধ ট্রাক্টরের কারণে গ্রামের কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলোর কঙ্কালসার অবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব রাস্তা কাদায় সয়লাব হয়ে যায়, যার ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে রাস্তায় চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন কৃষক বলেন, আইন থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই। চোখের সামনে তিন ফসলি জমিগুলো পুকুর হয়ে যাচ্ছে। জমির উর্বর শক্তি নষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে এলাকায় খাদ্যঘাটতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরিফুল ইসলাম বলেন, “ফসলি জমি নষ্ট করে বা ঘের খননের নামে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এই চক্রের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শ্যামনগরে অসহায় হত-দরিদ্রদের মাঝে জাতীয় নাগরিক পার্টির বস্ত্র বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে অসহায় হত-দরিদ্রদের মাঝে জাতীয় নাগরিক পার্টির বস্ত্র বিতরণ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা’র শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নে ১০০জন হত দরিদ্রদের মাঝে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) ৬নং শংকরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর আয়োজনে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্র শক্তির উদ্যোগে শ্যামনগর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য ও বস্ত্র বিতরণ করেন সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক মোঃ কামরুজ্জামান (বুলু)।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব মো. নাজমুল ইসলাম, সদস্য শেখ আব্দুল্লাহ, জেলা শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক আল ইমরান, সদস্য সচিব আব্দুস সবুর, জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক হাসিবুল হাসান রুমন, সদস্য সচিব বক্তিয়ার হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব আবু সুফিয়ান।
আরও বক্তব্য রাখেন, শ্যামনগর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব মো. ফারুক হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক মেহেদী হাসান, কাশিমাড়ি ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. আব্দুল জব্বার পিয়াদা প্রমুখ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব জিএম মোখলেছুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক সহ উপজেলা এনসিপি ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্র শক্তির মুখ্য সংগঠক মুজাহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি ইনসাফের দল। এদল সবসময় দেশের কল্যাণ কাজ করার জন্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই দেশের স্বার্থে কোন আন্দোলন হলে সকলকে এনসিপি পাশে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেওয়ার জন্য আহবান করেন।