সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

শহরের মানুষ কিছুটা চিকিৎসা সুবিধা পেলেও গ্রামের অধিকাংশ জায়গায় এখনো ভালোভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই ১ লাখের মধ্যে ৮০ শতাংশ থাকবে নারী স্বাস্থ্যকর্মী। এই মানুষগুলোর দায়িত্ব হবে গ্রামে গ্রামে, ঘরে ঘরে যাওয়া। শহরেও তারা থাকবে। তবে আমরা জোর দেব, গ্রামের মানুষের ওপরে বেশি। তারা বিশেষ করে পরিবারের নারীদের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা চালাবে।’

শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তারেক রহমান বলেন, তারা (নতুন নিয়োগকৃত স্বাস্থ্যকর্মী) বিশেষ করে পরিবারের নারী যারা আছেন, যারা সংসার দেখাশোনা করেন, তাদের সচেতন করবে যে কোন খাবারটি খেলে ডায়াবেটিস হবে না, কোন খাবারটি খেলে কার্ডিও হবে না, বা লাইফস্টাইল কী হলে তাঁর হার্টের সমস্যা হবে না, কোন খাবারটি খেলে কিডনির রোগ হবে বা কিডনির রোগ হবে না, এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করবে। হাইজিন সম্পর্কে তাদের সংশোধন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি ধীরে ধীরে সামগ্রিকভাবে পুরা দেশে অসুস্থ যত বেশি সংখ্যক মানুষকে সুস্থ রাখা। তার ফলে স্বাভাবিকভাবে যারা হাসপাতালে আসবে, পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হয়ে তাঁদের যাতে বেটার চিকিৎসা দেওয়া যায়। অসুস্থ মানুষের সংখ্যা যখন কম হবে, আমাদের জন্য সুবিধা হবে টেককেয়ার করতে। আমরা যদি মানুষকে সচেতন করতে পারি, সচেতনতার মাধ্যমে আমরা যদি অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি, তাহলে যাঁরা অসুস্থ হবেন তাঁরা বেটার সার্ভিস পাবেন।’

সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সমস্যার বিষয়টি উত্থাপন করে তা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘আজ বৃষ্টি হচ্ছে। কারও জন্য সুবিধা, কারও জন্য অসুবিধা। এই বৃষ্টির কারণে আমি যখন শহরের দিকে আসছি, বৃষ্টির কারণে দেখেছি বিভিন্ন জায়গায় একটু একটু করে পানি জমে গিয়েছে এবং বৃষ্টি যদি আরেকটু বেশি হয়, হয়তো এরই ভেতরে অনেক জায়গা আছে, যেখানে কিছু জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে যাবে। তবে কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছিলেন, চট্টগ্রামের কিছু নিউজ এসেছিল। যদিও সেটার মধ্যে পরে আমরা দেখেছি, পুরোপুরি সত্যতা ছিল না। যাই হোক, আমরা দেখেছি যে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল যেটা আছে, সেটা ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে। এই সকল কিছু বিষয় মাথার মধ্যে রেখে বিবেচনা করে আমরা খাল খনন কর্মসূচি সারা দেশে দিয়েছি। আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল যেটা আছে, সেটা শুধু সিলেট সিটি করপোরেশন নয়, এই সমস্যা ঢাকাতে আছে, এই সমস্যা অন্য অনেক শহরগুলোতে আছে। আমাদের জন্য যেটি একটি বড় সমস্যা হচ্ছে। যেভাবে আমরা মাটির নিচে যে পানি আছে, এটিকে যে টেনে তুলছি, এ ছাড়া কৃষিকার্যের জন্য একই কাজ আমরা করছি, এটি ধীরে ধীরে একটি ভয়াবহ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পানিটাকে যাতে আমরা ব্যবহার করতে পারি, জলাবদ্ধতাও যাতে না হয়, মানুষেরও কষ্ট না হয়, সেটি কৃষির সুবিধার জন্য হোক, পানি থেকে মানুষের ব্যবহার সুবিধার জন্যই হোক, আমরা খালগুলো খনন করতে চাচ্ছি দেশে, যাতে অতিরিক্ত যে পানি থাকবে, সে পানিটাকে যাতে আমরা ধরে রাখতে পারি এবং প্রয়োজনের সময় আমরা সেটিকে মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানে আসার আগেই সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, সেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এসেছি। এই কাজটি সম্পন্ন হলে আমরা ধরে নিতে পারি, ইনশা আল্লাহ সিলেট শহরে জলাবদ্ধতা হবে না। তবে অবশ্যই এখানে আরেকটি বিষয় আমাদের খেয়াল রাখা প্রয়োজন। যে সমস্যাটি শুধু সিলেটে নয়, যে সমস্যাটি আমাদের প্রায় সবগুলো শহরে আছে, সামগ্রিকভাবে হয়তো সমগ্র দেশেই আছে। সুরমা নদীতে বিভিন্ন পলিথিন থেকে আরম্ভ করে, প্লাস্টিক থেকে আরম্ভ করে, পড়তে পড়তে স্তরটা বেশ পুরো হয়ে গিয়েছে।’ লন্ডনের কিছু বিশেষজ্ঞদের মতামতের সূত্র ধরে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতেও প্রায় দুই মিটার ময়লার স্তর জমেছে বলেও তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি অসম্ভব রকম বিষাক্ত হয়ে গিয়েছে। এভাবে যদি সব নদী বিষাক্ত হতে থাকে, তাহলে একটা অসম্ভব ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে আমরা ধাবিত হচ্ছি। কাজেই এ বিষয়ে আমাদের মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি করপোরেশনকে আমি অনুরোধ করব, অবশ্যই আপনারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করবেন, মানুষ যাতে সেবা পায়। কিন্তু একই সাথে পাশাপাশি যদি আপনারা মানুষকে সচেতন করার জন্য উদ্যোগ নেন, ভালো। যেমন প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজ যেকোনো বর্জ্য হোক না কেন, এই জিনিসগুলো যত্রতত্র যাতে আমরা না ফেলি।’ দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনের ভেতরে থাকা বিদ্যালয়ে এমন সচেতনতা চালাতে তিনি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু বাই রোডে সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ার অবস্থা এতই খারাপ, প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। আমরা সরকার গঠন করার পর এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তখন জানতে পারলাম, জায়গা অধিগ্রহণের সমস্যা রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়ে আমি আশা করছি, ইনশা আল্লাহ দ্রুত সময়ে আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। কাজটি শুরু করলে ইনশা আল্লাহ শেষ তো একসময় হবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা ইনশা আল্লাহ শেষ করতে পারব। তার ফলে যাতায়াতের এত কষ্ট মানুষকে ভোগ করতে হবে না।’

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘শুধু রাস্তা আমাদের বাড়ালেই যে সমস্যার সমাধান হবে তা না। একই সাথে আমরা যদি রেলওয়ে ব্যবস্থাকেও ডেভেলপ করতে চাই। সারা দেশে কীভাবে রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করা যায়, রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করলে স্বাভাবিকভাবে অধিকাংশ মানুষ এটিতে যাতায়াত করবেন, এটিতে খরচ কম হবে। রাস্তা যতই বড় করতে থাকি, ততই গাড়ি নামবে রাস্তায়, ট্রাফিক বাড়বে। এ ছাড়া জনসংখ্যার ভিত্তিতে আমরা পৃথিবীর খুব সম্ভবত অষ্টম স্থানে আছি। কিন্তু আমরা ল্যান্ড ওয়াইজ যদি চিন্তা করি, আমাদের দেশটা হয়তো অত বড় না, অনেক দেশ থেকে ছোট। বাংলাদেশ হচ্ছে একটি কৃষিপ্রধান দেশ। সে জন্য রাস্তা যদি নির্মাণ করি, আমরা একই সাথে কিন্তু আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর খাবার তো আমরা বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করা সম্ভব না। আমরা আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটিভাবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কাজেই এটিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে, সে জন্য অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন দরকার। তবে আমরা রাস্তার ক্ষেত্রে রেলটাকে ডেভেলপ করতে চাই। এ সময় সিলেটের রেল যোগাযোগকে ডাবল লাইন কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে বিএনপি সরকার ভাবছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল আছে। এই হাসপাতালটি আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুত যাতে চালু হতে পারে। একই সাথে আমরা এরপর এটাকে চেষ্টা করব এক্সপ্যান্ড করে ১২০০ শয্যার একটি হাসপাতালে নিতে।’

বন্ধ কলকারখানা চালুর কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এই কলকারখানাগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব চালু করব। যদি দরকার হয় আমরা প্রাইভেটাইজ করব সেগুলোকে। যারা এগুলো চালাতে আগ্রহী, তাদের কাছে আমরা হ্যান্ডঅভার করব। এই কাজটি শুরু করতে পারলে একদিকে সারা দেশে বহু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। একই সাথে আমরা চেষ্টা করছি দেশে এবং বিদেশে যাঁরা বিনিয়োগকারী আছেন, তাদের উৎসাহিত করার জন্য। যাতে তারা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মিল-কারখানা অথবা সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি যেটাই হোক, তারা যাতে বিনিয়োগ করেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সিলেটে একটি আইটি পার্ক করা হয়েছিল। পার্কটি সেভাবে সচল নেই। এই আইটি পার্কটি নিয়ে অলরেডি আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমাদের যে মন্ত্রণালয় আছে, তারা কাজ করছে। ইনশা আল্লাহ, দ্রুত সময়ে আমরা এটা চালু করতে সক্ষম হব। আমাদের তরুণ সমাজের অনেক সদস্য আছে, যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করেন, আইটির বিভিন্ন কাজ করেন, ডাটা প্রসেসিংয়ের কাজ করেন, তাদের আমরা ওখানে সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন আড়াই মাস বয়সে একটি শিশু কিন্তু হাঁটতে পারে না। শিশুটাকে হাঁটতে হলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমান সরকারের বয়স আড়াই মাসের মতো। তবে আমরা এরই মধ্যে যেসব কমিটমেন্ট দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম, সেই কমিটমেন্টগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।’

সিলেটে আজ বিকেলে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাওয়া নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের ছোট-ছোট ছেলেমেয়েদের ভেতর থেকে ভবিষ্যতে ভালো খেলোয়াড় বের করে আনতে চাই। তারই অংশ হিসেবে আমরা আজকে সিলেটের মাটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এটা শুরু করব। এর ভেতর থেকে নিশ্চয়ই আমরা এমন কিছু খেলোয়াড় বের করে নিয়ে আসতে পারব, যারা ভবিষ্যতে ইনশা আল্লাহ দেশের জন্য স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নিয়ে আসবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে দেশের সুনাম তারা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।’

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা সুনন্দা রায়। অনুষ্ঠানে দর্শক সারিতে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানসহ সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজসহ নানা শ্রেণি-পেশার কয়েক শ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

আজ সকালে ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে করে সিলেটে আসেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সাড়ে ১০টার দিকে তিনি নগরের দরগাগেট এলাকায় হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে ১০টা ৫৫ মিনিটে সিলেট সার্কিট হাউস-সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় সুরমা নদীর উভয় পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যাপ্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর নগর ভবন প্রাঙ্গণে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

পরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খালের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুপুর ১২টায় বাসিয়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। সেখান থেকে ফিরে তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে বিশ্রাম নেবেন। বেলা তিনটায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকেল পাঁচটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় যোগ দিয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

Ads small one

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব সভার বক্তারা বলেন বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশ সফল করতে সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্যসহ সব ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ ও সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর: উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সেক্রেটারি ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
কলারোয়া: উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী ও জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, সেক্রেটারি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আশাশুনি: আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আশাশুনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রচারণাকালে সড়কের যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সমাবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।


লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আশাশুনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, সহ-সম্পাদক এস এম শহিদুজ্জামান বাবলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড সম্পাদক হাফেজ আব্দুল করিম, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন এবং আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‎তালা: ‎“খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে তালায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির উদ্যোগে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‎লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তালা সদর ওয়ার্ড সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান রিপনসহ দলীয় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আগামী ২০ জুন শনিবার বেলা ২টায় খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের সমাবেশ সফল করার জন্য তালা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত গফুর সানার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের জামাল সানা, শরিফুল ইসলাম, রেজাউল সরদার, বাবু গাজী ও হযরত আলী সানার সঙ্গে বাদীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাদী জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি যাওয়ার পথে জামাল সানার বাড়ির সামনে ওয়াপদা রাস্তার ওপর পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে।
এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছোট ভাই দ্বীন মোহাম্মদ সানা, ভাগ্নে জসিম ও সাহিদুল, এবং চাচাতো ভাগ্নে তরিকুল ইসলাম সানাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ২০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাদীর স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আহতদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে।