অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ ছোবল: নিঃস্ব হচ্ছে বহু পরিবার, বাড়ছে সামাজিক সংকট
কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সঙ্গে মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে নানা ধরনের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এর সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছেন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। দ্রুত টাকা আয়ের আশায় এসব প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ করে একসময় সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন অনেকেই। এর প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সমাজজীবনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজেই বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করা যাচ্ছে। শুরুতে অল্প টাকা দিয়ে খেললেও ধীরে ধীরে অনেকেই বেশি অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত হন। একপর্যায়ে হারানো টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় আরও বেশি অর্থ ব্যয় করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন জুয়ার অন্যতম ভয়াবহ দিক হলো-এতে আসক্ত ব্যক্তি নিজের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও অর্থ খরচ করতে পারেন। কেউ কেউ ধারদেনা, ব্যক্তিগত সঞ্চয় কিংবা পরিবারের প্রয়োজনীয় অর্থও এতে ব্যয় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সংসারে তৈরি হচ্ছে অশান্তি, পারিবারিক কলহ ও নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পড়াশোনা ও কর্মজীবনে মনোযোগ হারানোর পাশাপাশি অনেকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অভিভাবকদের অনেকেই সন্তানদের মোবাইল ব্যবহার ও অনলাইন কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি অবৈধ জুয়া ও বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত প্ল্যাটফর্ম, প্রচার-প্রচারণা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে তরুণদের সচেতন করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সহজে ও দ্রুত ধনী হওয়ার কোনো নিশ্চিত পথ নেই। অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের আশায় পা বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত অনেকেই আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক ও পারিবারিক সংকটের মুখোমুখি হতে পারেন।
তাই অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও কর্মমুখী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অবৈধ জুয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।












