রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আড্ডা থেকে যেভাবে সিনেমার গান হয়ে এলো ‘এখানে কেউ নেই’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
আড্ডা থেকে যেভাবে সিনেমার গান হয়ে এলো ‘এখানে কেউ নেই’

আড্ডা থেকেই শুরু, শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নেয় সিনেমায়—এভাবেই তৈরি হয়েছে নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত চলচ্চিত্র বনলতা সেন-এর গান ‘এখানে কেউ নেই’। এমনটাই জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার।

গানটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। রহস্যময় ভিজ্যুয়াল, আবহসংগীত এবং কাব্যিক উপস্থাপনায় গানটি দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ছে।

বাপ্পা মজুমদার জানান, শুরুতে এই চলচ্চিত্রে কোনও গান রাখার পরিকল্পনা ছিল না। তবে এক রাতের আড্ডায় হঠাৎ করেই ‘এখানে কেউ নেই’ গানের ধারণা তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে সেটি পুরো সিনেমার অংশ হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, “আমাদের আড্ডার প্রায় পুরোটা জুড়েই থাকে গান, চলচ্চিত্র, সাহিত্য আর কবিতা। সেই আড্ডার মধ্যেই এই চলচ্চিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর (BGM)-এর প্রস্তাব আসে, যা আমি সানন্দে গ্রহণ করি।

মজার বিষয় হলো, শুরুতে এই ছবিতে কোনও গান থাকারই কথা ছিল না। কিন্তু কোনও এক রাতের আড্ডায় হঠাৎ করেই ‘এখানে কেউ নেই’ গানটি চলচ্চিত্রটির অংশ হয়ে ওঠে। বিষয়টি এখনও আমাদের সবাইকে সময়ে সময়ে অবাক করে। এই অসাধারণ স্ক্রিপ্টের অংশ হতে পারার সুযোগ দেওয়ার জন্য নির্মাতা উজ্জ্বলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”

গানটির কথা লিখেছেন বাপ্পা মজুমদার ও শাহান কবন্ধ। একই সঙ্গে গানটির সুর, সংগীত আয়োজন এবং কণ্ঠ দিয়েছেন বাপ্পা নিজেই। তার কণ্ঠের আবেগময় উপস্থাপনা গানটিকে আরও গভীরতা দিয়েছে বলে মনে করছেন শ্রোতারা।

গানটি প্রকাশের পর ইউটিউব ও ফেসবুকে দর্শকদের মধ্যে মিশ্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রের গানের মধ্যে এটি অন্যতম ভিন্নধর্মী ও রহস্যময় উপস্থাপনা।

চলচ্চিত্রটির ভিজ্যুয়াল নির্মাণও দর্শকদের নজর কেড়েছে। আলো-ছায়ার ব্যবহার, প্রতীকধর্মী দৃশ্য এবং চরিত্রগুলোর অভিব্যক্তিতে তৈরি হয়েছে এক ধরনের কাব্যিক ও রহস্যময় আবহ।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বনলতা সেন শুধু প্রেমের গল্প নয়; এতে রয়েছে নিঃসঙ্গতা, স্মৃতি এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনের ভেতরকার গল্প। সেই আবহেরই প্রথম ইঙ্গিত মিলেছে এই গানে।

এর আগে পোস্টার ও টিজার প্রকাশের পর থেকেই ছবিটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। এবার গান প্রকাশের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে যাওয়া বনলতা সেন হতে পারে বছরের অন্যতম আলোচিত চলচ্চিত্র।

সব কিছু ঠিক থাকলে ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বনলতা সেন।

Ads small one

কলারোয়ার কামারশালায় টুংটাং শব্দে ঈদের আগমনী বার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ার কামারশালায় টুংটাং শব্দে ঈদের আগমনী বার্তা

আরিফ মাহমুদ: ঈদুল আজহার আর খুব বেশি দিন বাকি নেই। এখনই চারদিকে ছড়াতে শুরু করেছে কোরবানির আমেজ। আর এই আমেজ সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে কলারোয়ার কামারশালাগুলোতে। কয়লার দগদগে আগুনে পুড়ছে লোহা, আর হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে ধারালো সব সরঞ্জাম। ‘টুংটাং’ শব্দের সেই চিরচেনা ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে, দুয়ারে কড়া নাড়ছে উৎসব।
কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস প্রস্তুত করা-সবখানেই অপরিহার্য দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। তাই বছরের অন্য দিনগুলোতে অলস সময় পার করলেও এখন দম ফেলার ফুসরত নেই কামারদের। কলারোয়া পৌর সদরের হাসপাতাল রোড থেকে শুরু করে উপজেলার চন্দনপুর, ফজলেপুর, বসন্তপুর, দেয়াড়া, কেঁড়াগাছি, সোনাবাড়িয়া ও কেরালকাতাসহ বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদের কামারশালাগুলো এখন মুখর। কেউ পুরোনো সরঞ্জামে শান দিচ্ছেন, কেউ বা ফরমাশ অনুযায়ী লোহা পিটিয়ে তৈরি করছেন নতুন দা-বটি।
সরেজমিনে বিভিন্ন কামারশালা ঘুরে দেখা যায়, আগুনের তীব্র তাপে ঘেমে নেয়ে একাকার কারিগররা। একহাতে হাঁপর টেনে আগুন জ্বালিয়ে রাখছেন, অন্যহাতে লাল টকটকে লোহা পিটিয়ে নিখুঁত রূপ দিচ্ছেন কাক্সিক্ষত অস্ত্রের। তবে কারিগরদের চোখে-মুখে ক্লান্তির চেয়ে ব্যস্ততার আনন্দই বেশি। বছরের এই একটা সময়েই যে তাঁদের সুদিন ফেরে!
তবে এবারের বাজারে উপকরণের বাড়তি দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই। কামারদের ভাষ্য, লোহা ও কাঠের কয়লার দাম গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি, যার প্রভাব পড়ছে তৈরি পণ্যের দামেও।
বামনখালী ফজলেপুর গ্রামের কারিগর উত্তম সেন কর্মকার বলেন, “আমরা মূলত গাড়ির স্প্রিং ও সাধারণ লোহা দিয়ে দা, বটি ও ছুরি তৈরি করি। স্প্রিংয়ের লোহার তৈরি জিনিসের টেকসই ও ধার বেশি হয়, তাই দামও একটু বেশি। এবার ভালো একটি দা ওজন ও মানভেদে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বটি ৩৫০ টাকা এবং ছোট-বড় ছুরি মিলছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে।”
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে, কামারশালাগুলোর এই ব্যস্ততা আর হাতুড়ির আওয়াজ ততই তীব্র হবে। চেনা এই টুংটাং শব্দ যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর কোরবানির ঈদ আর মাত্র কয়েক দিন দূরে।

 

 

 

 

 

ঈদ উপলক্ষে ৪ বন্দির সাজা মওকুফ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ঈদ উপলক্ষে ৪ বন্দির সাজা মওকুফ

 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানবিক বিবেচনায় চার বন্দির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করে তাদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

রবিবার (২৪ মে) কারা অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের আওতায় চারজন কয়েদির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই তারা কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।

মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বন্দিরা হলেন— ফরিদপুর জেলা কারাগারের নাঈম শিকদার, খুলনা জেলা কারাগারের মো. ইসলাম শেখ, রাঙ্গামাটি জেলা কারাগারের পলাশ বড়ুয়া এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের আব্দুল মালেক।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের আওতায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

লবণাক্ততার আগ্রাসন ও দুর্যোগ: উপকূলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
লবণাক্ততার আগ্রাসন ও দুর্যোগ: উপকূলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে একসময় মাটির তৈরি দেওয়াল আর খড়ের ছাউনির ঘরই ছিল সাধারণ মানুষের প্রধান আশ্রয়। কৃষি-নির্ভর এই জনপদে যুগ যুগ ধরে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে এই মাটির ঘরেই বাস করত। তবে ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র পর থেকে মাটির ঘর নির্মাণ এ অঞ্চলে নেই বললেই চলে। আইলার পর বুলবুল, আম্পান, ইয়াসের মতো একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলের মাটি ও মানুষের জীবনকে ওলটপালট করে দিয়ে গেছে। জলোচ্ছ্বাসের লোনা পানি বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় সংকুচিত হয়েছে কৃষিজমি, আর তাতেই হারিয়ে যেতে বসেছে উপকূলের চিরচেনা এই মাটির ঘর।
স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলের বেলে-দোঁয়াশ ও এঁটেল মাটি মিশিয়ে ম- তৈরি করা হতো। এরপর হাতের সুনিপুণ কারুকাজে মাটির ‘চাফ’ (দলা) কেটে ধাপে ধাপে তৈরি হতো ঘরের মজবুত দেওয়াল। কিন্তু ক্রমাগত প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাটির দেওয়াল ধসে আসবাবপত্র নষ্ট হওয়া এবং শিশুসহ মানুষ চাপা পড়ার ঘটনার পর থেকে এই ঘরের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমতে থাকে। এর ওপর বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাটির সংকট। চিংড়ি ঘেরের কারণে লোনা পানি ঢুকে টপ-সয়েলের (মাটির উপরিভাগ) বুনট নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে ঘর তৈরির উপযোগী আঠালো মাটি এখন আর পাওয়াই যায় না।
উপকূলের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বকালিনগর গ্রামে এখনো কোনোমতে টিকে আছে একটি মাটির ঘর। ঘরের কারিগর কৃষক শ্যামাপদ বৈদ্য বলেন, “এখন আর মাটির ঘর চোখেই পড়ে না। অথচ ২০-২৫ বছর আগে পৌষ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত মাটির দেওয়াল তৈরির কাজে আমাকে দিন-রাত ব্যস্ত থাকতে হতো। এই ঘরগুলোতে খরচ কম, আরাম বেশি। বাইরে ঝড়-বৃষ্টি হলেও ভেতরে সহজে টের পাওয়া যেত না। এখনকার বেড়ার ঘরে সামান্য বাতাসেই বুক কাঁপে। আগেকার মাটির উঁচু ঘর চোর-ডাকাতদের থেকেও নিরাপদ ছিল।”
শ্যামাপদ বৈদ্যের স্ত্রী কৃষ্ণা রানী বৈদ্য বলেন, “আইলার আগে আমাদের তিনটি মাটির ঘর ছিল, সব ভেঙে গেছে। এবার খরচ ও পরিশ্রম কমাতে শুধু গোয়ালঘরটা আবার মাটি দিয়েই তৈরি করছি। বছরে একবার গোবর-মাটি দিয়ে লেপে দিলেই এক বছর চলে যায়।”
স্থানীয় শিক্ষক মনোজিৎ কর্মকার বলেন, “আগে গ্রামে প্রায় সব ঘরই ছিল মাটির। মানুষ তখন শান্তিতে থাকত, রোগবালাই কম ছিল। মাটির ঘর তৈরির জন্য গ্রামে কিছু লোকায়ত জ্ঞানসম্পন্ন প্রবীণ মানুষ ছিলেন। বছরের শুরুতে পৌষ-মাঘ মাসে কৃষিজমির বিশেষ মাটি তুলে ঘর বাঁধার প্রস্তুতি নেওয়া হতো। মাটি পেটানো, শুকানো আর ধাপে ধাপে দেওয়াল তুলতে তিন-চার মাস সময় লেগে যেত।” তিনি আফসোস করে বলেন, মাটির ঘরের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মাটির হাঁড়ি, পাতিল, কলসের ব্যবহারও এখন বিলুপ্তির পথে।
বেসরকারি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় সমন্বয়কারী শাহিন ইসলাম এই পরিস্থিতিকে ‘সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার নীরব বিপ্লব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “উপকূলে মাটির ঘর ছিল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের ঐতিহ্য। একান্নবর্তী পরিবারগুলোতে থাকার ঘর, গোয়াল ঘর, খড় রাখার ঘরÑসবই মাটির তৈরি হতো। এগুলো ছিল প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বেঁচে থাকার প্রতীক। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভূগর্ভস্থ এবং উপরিভাগের পানি ও মাটি অতিরিক্ত লবণাক্ত হয়ে পড়েছে, যা মাটির স্বাভাবিক আঠালো বুনট নষ্ট করে দিয়েছে। মাটি ও পানির সংকটে এ অঞ্চলের কুমারদের পেশাও বদলে যাচ্ছে।”
শাহিন ইসলাম আরও বলেন, উপকূলে লবণ পানির এই আগ্রাসন ও জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রুখতে না পারলে শুধু মাটির ঘরই নয়, প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্যকেও টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।