সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আশাশুনিতে ৩৯টি খাল চিহ্নিত করে পুনঃ খননে এমপির ডিও লিটার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ৩৯টি খাল চিহ্নিত করে পুনঃ খননে এমপির ডিও লিটার

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলায় পয়ঃ নিস্কাশন ব্যবস্থা অটুট রাখা এবং জনভোগান্তি লাঘব ও নির্বিঘœ ফসল উৎপাদনে জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে ৩৯টি খাল চিহ্নিত করে জাতীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ডিও লেটার প্রদান করেছেন। সোমবার (১ জুন) বেলা ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে মতবিনিময় শেষে এমপি রবিউল বাশার ডিও লেটার প্রেরণ করেন।

এমপি রবিউল বাশার ইতিপূর্বে উপজেলার সকল খালের পুনঃ খননের জন্য ডিও লেটার দিয়েছিলেন। এসব খালের মধ্যে প্রথম অগ্রাধিকার ভিত্তিক ৩৯টি খাল চিহ্নত করতে মত বিনিময় সভা করা হয়। সভায় এমপি রবিউল বাশার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম, এসও আলমগীর, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস সবুর, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওঃ আনওয়ারুল হক, অফিস সেক্রেটারী মাওঃ রুহুল কুদ্দুছ, এমপির পিএস শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

 

সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইতিপূর্বে প্রেরিত ডিও লেটারের তালিকার ভিতর থেকে সদর ইউনিয়নের পূর্ববিল খাল, বলাবাড়িয়া খাল, শবদলপুর খাল, বেতুয়ার বিল খাল, শ্রীকলস খাল, শ্রীউলার উত্তর পুইজালা, কলিমাখালী, নছিমাবাদ, কাকড়াবুনিয়া, মহিষকুড়, শ্রীউলা ডিএস ১১ খাল, প্রতাপনগরের কোলা, কল্যাণপুর স্লুইস গেট খাল, কুড়িকাহুনিয়া, কানাখালী খাল, শোভনালীর সংকরমনি, লতাখালী, বসুখালী, ঝিয়ামারী, শোভনালী শাখা খাল, আনুলিয়ার ঘাষটিয়া, গজালী, নায়াখালী, গদাইপুর, ভোলানাথপুর, খাজরার কাটাখালী, বসুখালী, চেউটিয়া নদী খাল জলমহল, চেউটিয়া (উত্তর বাইনতলা হতে কালকির গেট), তুয়ারডাঙ্গা ও কালকি খাল, বড়দলের উৎপল সানার বাড়ি হতে রমজান সানার কালভার্ট, বামনডাঙ্গা স্লুইস গেটের উভয় পাশে তিতুখালী-২, বামনডাঙ্গা খাল, বুধহাটার সুর্য্যখালী, মাদ্রা, মাদ্রা ব্রাঞ্চ, উত্তর চাপড়া খাল এবং কাদাকাটি ইউনিয়নের তিতুখালী খাল চিহ্নিত করে ডিও লেটার প্রদান করা হয়।

 

এসব খাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পুনঃ খননের জন্য অনুমোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Ads small one

সাতক্ষীরায় যুবদলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও খাদ্য বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় যুবদলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও খাদ্য বিতরণ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ তারিকুল হাসান, জেলা যুবদলের সমন্বয়ক আইনাল ইসলাম নান্টা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভূট্টু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হানসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ সময় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা এবং দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদ জিয়ার দেশপ্রেম, নেতৃত্বগুণ ও উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দোয়া মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্রের অগ্রগতি কামনা করা হয়।

কমনওয়েলথ গেমসে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান শিরিন আক্তার: জেলা প্রশাসকের শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
কমনওয়েলথ গেমসে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান শিরিন আক্তার: জেলা প্রশাসকের শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ‘কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন দেশসেরা স্প্রিন্টার ও দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের এই মেগা ইভেন্টে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলা তথা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছে এক অনন্য গৌরব।
জানা গেছে, কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিতে স্কটল্যান্ড যাত্রার পূর্বে বাংলাদেশের এই চৌকস অ্যাথলেট সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক শিরিন আক্তারের এই গৌরবময় অর্জনের প্রশংসা করে বলেন, শিরিন আমাদের গর্ব। তিনি কেবল সাতক্ষীরা নয়, পুরো বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। আমাদের প্রত্যাশা, কমনওয়েলথ গেমসে তিনি বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। সাক্ষাৎকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শিরিন আক্তারও তার এই অগ্রযাত্রায় জেলা প্রশাসনসহ দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা ও দোয়া চেয়েছেন, যাতে তিনি দেশের জন্য সেরা সাফল্যটি ছিনিয়ে আনতে পারেন।

সম্পাদকীয়: সুন্দরবনের তিন মাসের বিশ্রাম ও উপকূলের প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: সুন্দরবনের তিন মাসের বিশ্রাম ও উপকূলের প্রস্তুতি

পহেলা জুন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বনবিভাগ। এই সময়ে বনের ভেতর মাছ ও কাঁকড়া শিকার, মধু আহরণ যেমন বন্ধ থাকবে, তেমনি বন্ধ থাকবে সব ধরনের পর্যটনও। মূলত জুন থেকে আগস্টÑএই তিন মাস সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও মৎস্য সম্পদের প্রজনন মৌসুম। প্রকৃতির নিয়মেই এই সময়ে নিভৃত পরিবেশ প্রয়োজন। তাই সুন্দরবনকে মানুষের আগ্রাসন থেকে সাময়িক মুক্তি দিয়ে যে ‘বিশ্রাম’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়।

সুন্দরবন কেবল আমাদের অহংকার নয়, এটি উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা সিডর-আইলার মতো প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এই বন বুক চিতিয়ে লাখো মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে। কিন্তু বছরের বাকিটা সময় এই বনের ওপর মানুষের যে চাপ থাকে, তা এককথায় নির্মম। তথ্যমতে, বছরে শুধু বৈধভাবেই লাখাধিকবার বনজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে হাজার হাজার পর্যটকের আনাগোনা। মানুষের এই অতি-উপস্থিতি, কোলাহল এবং যান্ত্রিক নৌযানের শব্দ বনের ভেতরের প্রাণীদের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। এই প্রেক্ষাপটে, বছরের নির্দিষ্ট একটা সময়ে বনের দরজা বন্ধ রাখা প্রকৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য অপরিহার্য।

তবে এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের মুদ্রার ওপিঠে রয়েছে একটি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট। সুন্দরবনের ওপর সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার বনজীবী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। এই তিন মাস মাছ, কাঁকড়া বা মধু সংগ্রহ বন্ধ থাকায় এই বিশাল জনগোষ্ঠী হুট করেই পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়বে। অভাবের তাড়নায় এই সময়ে পরিবারগুলো যাতে মহাজনদের চড়া সুদের ঋণের ফাঁদে না পড়ে, কিংবা জীবিকার তাগিদে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনে অনুপ্রবেশ না করে-সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

সরকারের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিবন্ধিত জেলে ও বনজীবীদের জন্য যে খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ চাল) দেওয়া হয়, তা যেন প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কাছে সময়মতো এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু চাল দেওয়াই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি এই তিন মাস তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তাও ভেবে দেখা দরকার।

পরিশেষে বলা যায়, সুন্দরবন বাঁচলে বাঁচবে উপকূল, আর উপকূল বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ। সুন্দরবনকে সাময়িক বিশ্রাম দেওয়ার এই উদ্যোগ তখনই শতভাগ সফল হবে, যখন বনের সুরক্ষার পাশাপাশি এর ওপর নির্ভরশীল মানুষগুলোর পেটের ভাত নিশ্চিত করা যাবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানবিক সংকটের টেকসই সমাধানÑএই দুইয়ের সমন্বয়েই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য আবার তার আপন রূপ ফিরে পাক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।