মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এআই ট্রাফিক জরিমানার নামে সাইবার ফাঁদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
এআই ট্রাফিক জরিমানার নামে সাইবার ফাঁদ

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার জেরে সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থার কারণে চালকদের মধ্যে জরিমানা বা মামলার ভয়ও বেড়েছে। আর সেই ভয়কেই এবার অস্ত্র বানিয়েছে সাইবার প্রতারকরা।

ভুয়া জরিমানার এসএমএস পাঠিয়ে সাধারণ গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। সরকারি নোটিশের আদলে পাঠানো এসব মেসেজে থাকে ভুয়া পেমেন্ট লিংক। অনেকেই যাচাই না করে লিংকে ক্লিক করছেন, আর মুহূর্তেই খালি হয়ে যাচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারকরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা চালাচ্ছে। প্রথমে চালকদের মোবাইলে ট্রাফিক বিভাগের বার্তার মতো দেখতে একটি এসএমএস পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ থাকে— নির্দিষ্ট কোনও সড়কে গাড়িটি গতিসীমা অতিক্রম করেছে বা ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করেছে। এরপর বলা হয়, এআই ক্যামেরায় ধরা পড়ায় নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।

মেসেজের সঙ্গে দেওয়া হয় একটি লিংক, যা দেখতে সরকারি ওয়েবসাইট বা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মতো। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ফিশিং বা ক্লোন সাইট। কোথাও .gov.bd-এর মতো ডোমেইন ব্যবহার করা হয়, কোথাও আবার bit.ly বা অন্য সংক্ষিপ্ত লিংকের মাধ্যমে ফাঁদ তৈরি করা হয়।

শুধু তাই নয়, চালকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতেও কৌশল নেয় প্রতারকরা। এসএমএসে বলা হয়— ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে অর্থদণ্ড দ্বিগুণ হবে। এমনকি, লাইসেন্স বাতিল বা আইনি ব্যবস্থারও হুমকি দেওয়া হয়। আতঙ্কে অনেকেই আর বিস্তারিত যাচাই করেন না।

এই প্রতারণার শিকার হয়ে শুধু জরিমানার টাকা নয়, অনেক ক্ষেত্রে পুরো ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রতারণার শিকার হওয়া মোটরসাইকেল চালক আসাদুল ইসলাম বলেন, “গত সপ্তাহে আমার মোবাইলে একটা মেসেজ আসে। সেখানে বলা হয়, প্রগতি সরণিতে আমার বাইক স্পিড লিমিট অতিক্রম করেছে। জরিমানা দেওয়ার জন্য একটি লিংক ছিল। আমি বিকাশ দিয়ে টাকা দিতে যাই। কিছুক্ষণ পর দেখি অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার টাকা উধাও।”

আবদুর রাকিব নামে এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ভিডিও বার্তায় জানান, তিনি বাইক না চালিয়েই এ ধরনের প্রচারণামূলক মেসেজ পেয়েছিলেন। প্রথমে তার কাছেও বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিলে ডিসকাউন্টের কথাও বলা হয়। পরে বুঝতে পারেন এটা প্রতারকদের কাজ।

সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত ওটিপি ও পিন সংগ্রহ করাই প্রতারকদের প্রধান লক্ষ্য। ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর ব্যবহারকারীদের বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিতে বলা হয়। এরপর ওটিপি বা পিন ইনপুট করার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পেয়ে যায় প্রতারক চক্র।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসল ও ভুয়া ট্রাফিক নোটিশের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সরকারি নোটিশ সাধারণত নির্ভরযোগ্য ডোমেইন থেকে আসে এবং সেখানে সরাসরি পিন বা ওটিপি চাওয়া হয় না। অন্যদিকে, প্রতারণামূলক লিংকে প্রায়ই বানান ভুল, অস্বাভাবিক ওয়েব ঠিকানা বা অতিরিক্ত ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয় দেখা যায়।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা চালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, কোনও জরিমানার মেসেজ পেলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে ট্রাফিক পুলিশের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে গিয়ে গাড়ির নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে। সন্দেহজনক কোনও লিংকে ক্লিক করা বা সেখানে আর্থিক তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আরও বলেন, কোনও অবস্থাতেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন, কার্ডের সিভিভি নম্বর বা ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। প্রতারণামূলক কোনও মেসেজ পেলে সেটির স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে নিকটস্থ থানা বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ মে এ ধরনের প্রতারণা নিয়ে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ট্রাফিক জরিমানার নামে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে নগরবাসীর কাছে ভুয়া বার্তা পাঠানো হচ্ছে। এসব এসএমএস সম্পূর্ণ বানোয়াট ও অসত্য।

ডিএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ লঙ্ঘনের ঘটনায় এআই বা ভিডিও মামলার ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোনও যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হলে সংশ্লিষ্ট মালিকের ঠিকানায় ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। এছাড়া প্রয়োজনে শুধুমাত্র ০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানো হয়ে থাকে বলেও জানানো হয়েছে।

ডিএমপি আরও জানায়, ট্রাফিক জরিমানার অর্থ কেবল অনুমোদিত অনলাইন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম— উপায় ও সিবিবিএলের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়। কোনও অবস্থাতেই ট্রাফিক বিভাগ মোবাইল ব্যাংকিং পিন, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি জানতে চায় না।

ট্রাফিক এআই বা ভিডিও মামলা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে ডেল্টা-৩ শাখা, ০১৩২০-০৪২২০৭, ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি।

Ads small one

হাম ও উপসর্গে আরও ১০ মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
হাম ও উপসর্গে আরও ১০ মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার ২৬ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৩ শিশু।

মঙ্গলবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৯ জন এবং নিশ্চিত হামে ১ জন মারা গেছে। সোমবার (২৫ মে) মারা যায় ১৭ শিশু।

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৫৫৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৮৮ শিশু। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৬৭ জন।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৮ হাজার ৭৭২ শিশু। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫২ হাজার ৫৩০ জন।

এটিএম বুথে টাকা নেই, মানুষ যাবে কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এটিএম বুথে টাকা নেই, মানুষ যাবে কোথায়?

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে নগদ অর্থ সংকট ও আর্থিক দুর্বলতার পুরোনো চিত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক এটিএম বুথে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও বুথ পুরোপুরি বন্ধ, কোথাও আবার সীমিত করা হয়েছে টাকা উত্তোলনের পরিমাণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলায় বিধিনিষেধ। ফলে ঈদের আগে নগদ টাকার ওপর নির্ভরশীল সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

ব্যাংকারদের ভাষ্য, কোরবানির ঈদের সময় প্রতিবছরই নগদ টাকার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পশু কেনাবেচা, ঈদ কেনাকাটা, গ্রামের বাড়িতে যাওয়া এবং উৎসবকেন্দ্রিক বাড়তি ব্যয়ের কারণে মানুষ এই সময় ব্যাংক ও এটিএম বুথে বেশি ভিড় করেন। কিন্তু এবার সেই বাড়তি চাহিদার সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক অস্থিরতা এবং নতুন নোট সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত জটিলতা।

চাহিদামতো টাকা পায়নি ব্যাংকগুলো

একাধিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে এটিএম সচল রাখতে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ চেয়েছিলেন। কিন্তু চাহিদার পুরোটা সরবরাহ করা হয়নি। ফলে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের সীমিত নগদ ব্যবস্থাপনা দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঈদের সময় এটিএম বুথে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি টাকা লাগে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও উপজেলা পর্যায়ের বুথগুলোতে চাপ বেশি পড়ে। কারণ ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ও বড় শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে বুথের সংখ্যা কম হওয়ায় দ্রুত টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

একটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বুথগুলোতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার কোটি টাকার চাহিদা তৈরি হয়েছে। সিআরএম মেশিনে জমা হওয়া টাকার একটি অংশ পুনর্ব্যবহার করা গেলেও পুরো চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না।

নতুন নোটে প্রযুক্তিগত জটিলতা

এবার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে নতুন গভর্নরের স্বাক্ষরযুক্ত নোট। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটিএম মেশিন সাধারণত নতুন নোট শনাক্ত করতে কিছুটা সময় নেয়। কিন্তু এবার নতুন নোট বাজারে ছাড়ার আগে এটিএম সফটওয়্যার ও যন্ত্রগুলোকে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি।

ফলে অনেক ক্ষেত্রে মেশিন টাকা আটকে দিচ্ছে অথবা নোট শনাক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত নতুন নোটের সঙ্গে এটিএম মেশিনের পুরোপুরি সামঞ্জস্য আনতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। কিন্তু ঈদের চাপের মধ্যে সেই সুযোগ পাওয়া যায়নি।

ব্যাংকারদের মতে, পুরোনো নকশার নোটে শুধু গভর্নরের স্বাক্ষর পরিবর্তন হওয়ায় শুরুতে সমস্যা হবে না বলে ধারণা করা হয়েছিল। বাস্তবে দেখা গেছে, মেশিনগুলো নতুন স্বাক্ষরযুক্ত নোট শনাক্ত করতে সমস্যায় পড়ছে।

দুর্বল ব্যাংকের গ্রাহকদের ভোগান্তি বেশি

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনিয়ম, জালিয়াতি ও ঋণ কেলেঙ্কারিতে দুর্বল হয়ে পড়া কয়েকটি ব্যাংকের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এসব ব্যাংকের অনেক এটিএম বুথ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের গ্রাহকরা অন্য ব্যাংকের বুথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

কিন্তু ঈদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে গিয়ে অনেক ব্যাংক এখন নিজেদের গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর ফলে অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের বুথগুলোতে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের চাপ অত্যন্ত বেশি। কিন্তু নিজেদের গ্রাহকদের চাহিদাই পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিজস্ব গ্রাহকদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

নগদ সংকট নাকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা?

বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য বলছে, চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে এবং এটিএম বুথ সচল রাখতে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, সব ব্যাংককে সার্বক্ষণিক এটিএম সেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কোথাও সমস্যা থাকলে দ্রুত সমাধানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, নির্দেশনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়নে বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংক আর্থিক সংকটে রয়েছে, তারা পর্যাপ্ত নগদ ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এটিএম সংকট শুধু ঈদকেন্দ্রিক সাময়িক সমস্যা নয়; এটি দেশের ব্যাংক খাতের গভীর দুর্বলতারও প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে অনেক ব্যাংকের ওপর গ্রাহকদের আস্থা কমে গেছে। ফলে সামান্য চাপেই সেবাব্যবস্থায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

পশুর হাটে বিশেষ ব্যাংকিং ব্যবস্থা

এদিকে নগদ টাকার চাহিদা সামাল দিতে কোরবানির পশুর হাটসংলগ্ন বেশ কিছু ব্যাংক শাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পশুর হাট ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাট এলাকায় বিশেষ লেনদেন সেবা চালু রাখা হয়েছে।

এসব শাখা ঈদের আগের রাত পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এছাড়া তৈরি পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট কিছু শাখায় গভীর রাত পর্যন্ত লেনদেনের সুবিধা রাখা হয়েছে, যাতে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে সমস্যা না হয়।

ডিজিটাল লেনদেনেও বাড়ছে নির্ভরতা

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটিএম সংকটের কারণে মোবাইল ব্যাংকিং, কিউআর কোড, পস মেশিন ও অনলাইন লেনদেনের ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। তবে কোরবানির পশুর হাটে এখনো বড় অংশের লেনদেন নগদ নির্ভর হওয়ায় নগদ টাকার চাহিদা কমছে না।

তাদের মতে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাংকগুলোকে শুধু এটিএম বুথ বাড়ালেই হবে না; বরং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নগদ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃব্যাংক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে হবে। না হলে প্রতি ঈদেই গ্রাহকদের একই ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।

সাতক্ষীরা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন সাংবাদিক হাসান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন সাংবাদিক হাসান
সাতক্ষীরা জেলা গণঅধিকার পরিষদের নবগঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (সুপার ফাইভ) পদে নির্বাচিত হয়েছেন তরুণ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠক হাসানুর রহমান হাসান। এ উপলক্ষে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, সাবেক ভিপি এবং বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী জনাব নুরুল হক নূর-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দলের সাক্ষরিত প্যাডে এই কমিটি ঘোষণা করেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নুরুল হক নূর ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন।
এক প্রতিক্রিয়ায় হাসানুর রহমান হাসান বলেন, “দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমার ওপর যে আস্থা ও ভালোবাসা রেখেছেন, তার প্রতিদান দিতে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংগঠনের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ। আমি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি। জয় হোক ন্যায়, অধিকার ও জনগণের।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা সাংবাদিক হাসানুর রহমান হাসান ছাত্রজীবনে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে সাতক্ষীরার রাজপথে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
জুলাই আগষ্টের ফ্যাসিবাদের পতন আন্দোলনে সহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি একাধিকবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন এবং কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ। তিনি বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন আনন্দ টেলিভিশনের ও দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার তৈলকুপী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোসলেম সরদারের ছোট ছেলে হাসানুর রহমান হাসান সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি সাংবাদিকতা, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। মাসিক “ভালো কাজ” গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্ব ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখতে পারেন হাসানুর রহমান হাসান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি