মেয়ের চিকিৎসায় কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত মরিয়মের মায়ের
খুলনা আর্ট একাডেমির প্রাঙ্গণে খুলনা শিপইয়ার্ড স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণী শিক্ষার্থী মরিয়ম ইসলাম ক্যান্সারে আক্রান্ত তার মা মেয়ের চিকিৎসার জন্য গত ১৯ মে সাহায্যের জন্য কাগজ পত্র জমা দেয়। ২৬ মে দুই মেয়েকে নিয়ে খুলনা আর্ট একাডেমিতে সকাল ১০টার দিকে আসে তখন তিনি চিকিৎসার এত টাকা কোথায় পাবে এমন কথার প্রসঙ্গে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
আগামী জুন মাসের ১৬ তারিখ মরিয়মকে নিয়ে ভেলোরে সিএমসিতে চিকিৎসা করাতে যাবেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের অর্থ আছে, কিন্তু সন্তান নেই অথচ সেই অর্থ ব্যয় করার মতো উপযুক্ত জায়গাও নেই। তাদের প্রতি চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের আন্তরিক অনুরোধ, আপনারা এই নবীন শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করুন।
নিজেদের সন্তানের মতো মনে করে মরিয়মের মুখে আবার হাসি ফিরিয়ে দিন।চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস বলেন, “আমি একটি ছোট্ট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করি, যেখানে অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে পথচলা। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিজ অর্থায়নে মরিয়মের চিকিৎসার জন্য বড় ধরনের সহযোগিতা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”তাই খুলনা আর্ট একাডেমির অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় সংগ্রহ করা ৬,৩২০ টাকা এবং বর্ণমালা হ্যান্ডরাইটিং একাডেমির পক্ষ থেকে বাবু ধনঞ্জয় রায়ের প্রদান করা ১,১০০ টাকা মরিয়মের মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বর্ণমালা হ্যান্ডরাইটিং একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অক্ষর শিল্পী বাবু ধনঞ্জয় রায়, এস ও এস হারম্যান মেইনার স্কুল খুলনার চারু ও কারুকলার শিক্ষক চিত্রশিল্পী কাকন সরকার, খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস, সহকারী পরিচালক শিলা বিশ্বাস, মরিয়ম, তার মা ও ছোট বোন হুমায়রা, ১৭তম ব্যাচের নবীন চারুশিল্পী চিরঞ্জিত মন্ডল, মিলন দাস, নুসরাত জাহান জান্নাত এবং খুলনা আর্ট একাডেমির প্রচার সম্পাদক সৌহার্দ্য বিশ্বাস।অর্থ হাতে নিয়ে মরিয়মের মা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, দীর্ঘ নয় মাস ধরে মেয়ের অসুস্থতার কারণে তাদের পরিবারে হাসি-আনন্দ যেন হারিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করতে পারেননি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “যদি মেয়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ জোগাড় করতে না পারি, তাহলে শেষ পর্যন্ত আমার একটি কিডনি বিক্রি করে হলেও চিকিৎসা চালিয়ে যাবো।”এই সময় মরিয়মের ছোট বোন, প্লে-শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়রা, নিজের ইচ্ছায় কিছু বলার অনুমতি চায়। সে সকলকে সালাম দিয়ে বলে, “আমার আপু অনেকদিন ধরে অসুস্থ। আপনারা সবাই আমার আপুর জন্য দোয়া করবেন। যারা আমার আপুর জন্য সাহায্য করেছেন, আল্লাহ যেন তাদের সবাইকে ভালো রাখেন।”
শিশুটির নিষ্পাপ কথা, মরিয়মের মায়ের কান্না এবং মরিয়মের নীরব অনুভূতি সব মিলিয়ে একাডেমির প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন ও নিস্তব্ধ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।পরিসংখ্যান অনুযায়ী খুলনা সিটিতে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৭ জন মানুষের বসবাস। চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস বলেন, “আমরা যদি সবাই মাত্র ১ টাকা করে সাহায্য করি, তাহলেই একটি পরিবারের মুখে আবার হাসি ফুটতে পারে। ঈদের বন্ধ চলছে তাই”তিনি আরও ঘোষণা দেন, আগামী ১ জুন থেকে ৭জুন পর্যন্ত খুলনা আর্ট একাডেমিতে ছবি আঁকা, আবৃত্তি, সঙ্গীত , হাতের লেখা এবং চারুকলায় ভর্তি হলে ভর্তি ফি মরিয়ম ইসলামের চিকিৎসার জন্য প্রদান করা হবে।চিত্রশিল্পী কাকন সরকার মিলন বিশ্বাসের এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সাধুবাদ জানান।
পাশাপাশি বাবু ধনঞ্জয় রায় ও চিত্রশিল্পী কাকন সরকার তাদের আলোচনায় মরিয়মের চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতেও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।পরবর্তীতে যারা সাহায্য করতে ইচ্ছুক, তারা মরিয়মের মায়ের বিকাশ বা নগদ নম্বরে সরাসরি অর্থ পাঠাতে পারবেন। মরিয়ামের মায়ের নম্বর 01994991393 সবশেষে মরিয়ম ইসলামের সুস্থতা কামনা করে এবং সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করে আজকের এই সাহায্য ও আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি









