রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

কপিলমুনিতে এআই প্রযুক্তিতে কণ্ঠ নকল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে এআই প্রযুক্তিতে কণ্ঠ নকল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): সন্তান পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেÑএমন খবরে কোন মা-বাবার বুক না কাঁপে? আর এই আবেগ ও আতঙ্ককেই পুঁজি করেছে এক ভয়ংকর প্রতারক চক্র। খুলনার কপিলমুনিতে সম্প্রতি সক্রিয় হয়ে ওঠা এই চক্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে কণ্ঠ নকল করে অভিভাবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করে। এদের প্রধান কৌশলগুলো হলোÑ এআই অ্যাপের মাধ্যমে সন্তানের হুবহু কান্নাজড়িত কণ্ঠ তৈরি করা। ফোনে সন্তান সেজে মা-বাবাকে বলা হয়, আব্বু/আম্মু, পুলিশ আমাকে ধরেছে, আমাকে বাঁচান। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে পুলিশের গাড়ির হুইসেল বা সাইরেনের শব্দ শোনানো হয়। চক্রের সদস্যরা নিজেদের ডিবি পুলিশ বা এসআই পরিচয় দেয় এবং সাথে ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ আছে বলে ভয় দেখায়। মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে দ্রুত বিকাশের মাধ্যমে টাকা চাওয়া হয় এবং বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি কপিলমুনির একজন স্কুল শিক্ষক এই প্রতারণার শিকার হয়ে ৩৫ হাজার টাকা হারিয়েছেন। তবে ভাগ্য ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে বেঁচে গেছেন সাংবাদিক শেখ আব্দুল গফুর। গত ৯ মে বিকেলে তাকে ডিবি অফিসার ‘ফারুক’ পরিচয় দিয়ে ফোন করা হয়। সন্তানের মাদকসহ ধরা পড়ার নাটক সাজিয়ে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করা হলে সন্দেহ হওয়ায় তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এরপর থেকেই ওই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ মজুমদার। তার ছোট ভাই পল্টু মজুমদারের কণ্ঠ হুবহু নকল করে ফোন করা হলেও তিনি বিষয়টি ধরে ফেলেন এবং প্রতারকদের ফাঁদে পা দেননি।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে কৌশলে শিক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা ও মা-বাবার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে এই তথ্যগুলো ব্যবহার করেই সাজানো হয় অপহরণ বা গ্রেপ্তারের নাটক।

প্রতারক চক্রের এমন তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ফোন এলে আতঙ্কিত না হয়ে আগে সন্তানের প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করা উচিত। এ বিষয়ে সতর্কতা সংকেত দিয়ে পুলিশ আরও জানিয়েছেÑঅপরিচিত নম্বর থেকে সন্তানের বিপদ বা গ্রেফতারের খবর দিলে সাথে সাথে টাকা পাঠাবেন না। নিকটস্থ থানা বা সন্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করুন। এআই প্রযুক্তিতে কণ্ঠ নকল করা সম্ভব, তাই আবেগতাড়িত হওয়ার আগে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করুন।

Ads small one

নিজের ঘরেই পরবাসী মা: ‘আরা’র দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয় কান্নার স্বর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
নিজের ঘরেই পরবাসী মা: ‘আরা’র দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয় কান্নার স্বর

নিজস্ব প্রতিনিধি: শহরের মেহেদীবাগ এলাকার এক চিলতে ভবনের ভেতরে ১৯ জন প্রবীণের বসবাস। এই ছোট ঘরগুলো যেন এক একটি স্মৃতির মহাফেজখানা, যেখানে জমে আছে কেবলই অবহেলা আর বঞ্চনার গল্প। সাতক্ষীরার ‘আরা’ বৃদ্ধাশ্রমের এই বাসিন্দাদের ৯ জনই নারী, যারা জীবনের সবটুকু দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেও আজ ঠাঁই পেয়েছেন অন্যের দয়ায় গড়ে ওঠা এই আশ্রমে।

মিলি বিশ্বাসের গল্পটা অন্য দশটা সাধারণ মায়ের মতো হতে পারতো। নব্বইয়ের দশকে স্বল্প বেতনের চাকরিতে সংগ্রাম শুরু করে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজের উপার্জনে গড়েছেন দোতলা বাড়ি। বড় ছেলে ও ছোট ছেলে দুজনেই সচ্ছল, মেয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

কিন্তু অভিযোগের তির বড় ছেলের দিকে। মিলি বিশ্বাসের দাবি, কৌশলে সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর শুরু হয় নির্যাতন। নিজ বাড়িতেই পরবাসী হয়ে পড়া এই মা অবশেষে আশ্রয় নিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। ক্ষোভ আর অভিমানে নীল হয়ে যাওয়া এই জননী বলেন, “জীবনের শেষ সময়ে এসে বড় ছেলের মৃত্যু নিজের চোখে দেখে যেতে চাই।” এই চরম হাহাকার যেন কেবল একজন মায়ের নয়, বরং চরম অবহেলার শিকার এক সত্তার আর্তনাদ। আশ্রমের প্রতিটি ঘরেই লুকিয়ে আছে এমন আরও বহু দীর্ঘশ্বাস।

জাহানারা খাতুনের একসময় নাম ছিল করুণা বিশ্বাস। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাকে তার স্বামী অন্যের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে তার দাবি। নতুন জীবনে ধর্ম পরিবর্তন করে সন্তানদের মানুষ করলেও আজ তারা কেউ পাশে নেই। এক সন্তান সম্পর্ক অস্বীকার করেছে, অন্যজন রাখে না কোনো খোঁজ।

লাভলী খাতুন খুলনার খালিশপুরের এই নারীর জীবন যেন সংগ্রামের জীবন্ত দলিল। পঙ্গুত্ব বরণ করার পর স্বামী ছেড়ে গেলে গার্মেন্টস কর্মী আর দিনমজুর হিসেবে কাজ করে তিন মেয়েকে মাস্টার্স পাস করিয়েছেন। সেই মেয়েরা আজ প্রতিষ্ঠিত হলেও মায়ের ঠিকানা হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমের এই চার দেয়াল।

আশ্রমের ১৯ জন প্রবীণের দিন কাটে একঘেয়ে রুটিনে। ভোরে উঠে ওষুধ সেবন আর প্রার্থনা। এরপর জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকা বা বারান্দায় বসে শূন্যতায় চেয়ে থাকা। বিকেলে সামান্য হাঁটাহাঁটি আর আড্ডা থাকলেও অবচেতনে সবাই যেন কারো অপেক্ষায় থাকেন। পরিবার থেকে যোগাযোগ না থাকায় মোবাইল ফোনগুলোও অধিকাংশ সময় নীরব থাকে। রাতের আঁধারে পুরনো স্মৃতি আর সন্তানদের মুখ মনে করেই ভাঙা ঘুমে পার হয় তাদের সময়।

সীমিত সাধ্যের মধ্যেও এই প্রবীণদের আগলে রাখছে ‘আরা’ সংস্থা। আবাসন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, কেবল আশ্রয় দেওয়াই তাদের শেষ লক্ষ্য নয়, তারা চান এই প্রবীণদের আপন ঠিকানায় ফিরিয়ে দিতে। দীর্ঘমেয়াদী কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই শত শত প্রবীণকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে যাদের পরিবার কোনোভাবেই গ্রহণ করতে রাজি হয় না, তাদের জন্যই ‘আরা’ আজ শেষ ঠিকানা।

সপ্তাহে চার দিন মাছ, দুই দিন ডিম ও এক দিন মাংসের ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি অনেকটা ব্যক্তি-অনুদান নির্ভর। সরকারি সহযোগিতা পর্যাপ্ত নয় বলে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হয়।

 

 

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধসহ প্রায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (১০ মে) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর বিভিন্ন বিওপির সদস্যরা এই অভিযান পরিচালনা করেন।

 

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদরা, হিজলদী, কাকডাঙ্গা, কালিয়ানী বিওপি এবং ঝাউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। অভিযানে কলারোয়ার উত্তর ভাদিয়ালী থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ঔষধ, ফকির পাড়া থেকে ৩০ হাজার টাকার শাড়ি এবং কেরাগাছি এলাকা থেকে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল পার্টস জব্দ করা হয়।

এছাড়া সদর থানার গোবিন্দকাঠি ও কালিয়ানী আমবাগান এলাকা থেকে আরও প্রায় ৩ লাখ টাকার ঔষধ ও মোবাইলের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মালামালের মোট বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ টাকা। শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হচ্ছিল। বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। জনস্বার্থে এবং দেশের অর্থনীতি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।

 

 

 

কালিগঞ্জে অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে জমি আত্মসাৎ ও হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে জমি আত্মসাৎ ও হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন

সংবাদদাতা: অসুস্থ বাবার জমি জালিয়াতির মাধ্যমে লিখে নেওয়া এবং আপন ভাইসহ গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকেল ৩টায় উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা গ্রামে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

অভিযুক্ত জান্নাতুল বুশরা পেশায় একজন অধ্যাপিকা। মানববন্ধনে তার বড় ভাই ও শ্রীকলা জামে মসজিদের ইমাম আব্দুস সবুর অভিযোগ করেন, তাদের বাবা আব্দুর সাত্তার ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘকাল শয্যাশায়ী ছিলেন। এই সুযোগে তিন বছর আগে জান্নাতুল বুশরা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বাবার ৬ শতক বসতভিটা নিজের নামে লিখে নেন। গত ৩ এপ্রিল বাবার মৃত্যুর পর এই বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করে।

আব্দুস সবুর আরও জানান, জমি লিখে নেওয়ার পর জান্নাতুল বুশরা তাকে ও তার অসুস্থ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর গ্রামবাসী তাকে ওই ভিটায় তুলে দিলে আবারও উচ্ছেদের পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। তাকে হয়রানি করতে আদালতে মামলাও করেছেন ওই অধ্যাপিকা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী আব্দুস সবুর শিমুল, ফরিদা বেগম, স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম ও লুৎফন নেছা প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগ করেন, অধ্যাপিকা বুশরা বহিরাগতদের নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। তারা এই হয়রানি থেকে মুক্তি এবং পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা পেতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীসহ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।