কপিলমুনিতে এআই প্রযুক্তিতে কণ্ঠ নকল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা
পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): সন্তান পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেÑএমন খবরে কোন মা-বাবার বুক না কাঁপে? আর এই আবেগ ও আতঙ্ককেই পুঁজি করেছে এক ভয়ংকর প্রতারক চক্র। খুলনার কপিলমুনিতে সম্প্রতি সক্রিয় হয়ে ওঠা এই চক্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে কণ্ঠ নকল করে অভিভাবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করে। এদের প্রধান কৌশলগুলো হলোÑ এআই অ্যাপের মাধ্যমে সন্তানের হুবহু কান্নাজড়িত কণ্ঠ তৈরি করা। ফোনে সন্তান সেজে মা-বাবাকে বলা হয়, আব্বু/আম্মু, পুলিশ আমাকে ধরেছে, আমাকে বাঁচান। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে পুলিশের গাড়ির হুইসেল বা সাইরেনের শব্দ শোনানো হয়। চক্রের সদস্যরা নিজেদের ডিবি পুলিশ বা এসআই পরিচয় দেয় এবং সাথে ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ আছে বলে ভয় দেখায়। মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে দ্রুত বিকাশের মাধ্যমে টাকা চাওয়া হয় এবং বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি কপিলমুনির একজন স্কুল শিক্ষক এই প্রতারণার শিকার হয়ে ৩৫ হাজার টাকা হারিয়েছেন। তবে ভাগ্য ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে বেঁচে গেছেন সাংবাদিক শেখ আব্দুল গফুর। গত ৯ মে বিকেলে তাকে ডিবি অফিসার ‘ফারুক’ পরিচয় দিয়ে ফোন করা হয়। সন্তানের মাদকসহ ধরা পড়ার নাটক সাজিয়ে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করা হলে সন্দেহ হওয়ায় তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এরপর থেকেই ওই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ মজুমদার। তার ছোট ভাই পল্টু মজুমদারের কণ্ঠ হুবহু নকল করে ফোন করা হলেও তিনি বিষয়টি ধরে ফেলেন এবং প্রতারকদের ফাঁদে পা দেননি।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে কৌশলে শিক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা ও মা-বাবার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে এই তথ্যগুলো ব্যবহার করেই সাজানো হয় অপহরণ বা গ্রেপ্তারের নাটক।
প্রতারক চক্রের এমন তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ফোন এলে আতঙ্কিত না হয়ে আগে সন্তানের প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করা উচিত। এ বিষয়ে সতর্কতা সংকেত দিয়ে পুলিশ আরও জানিয়েছেÑঅপরিচিত নম্বর থেকে সন্তানের বিপদ বা গ্রেফতারের খবর দিলে সাথে সাথে টাকা পাঠাবেন না। নিকটস্থ থানা বা সন্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করুন। এআই প্রযুক্তিতে কণ্ঠ নকল করা সম্ভব, তাই আবেগতাড়িত হওয়ার আগে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করুন।






