কপিলমুনির বাজারে এক মাস ধরে পড়ে আছেন বৃদ্ধ, পরিচয় মেলেনি
কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাশিমনগর বাজারে গত এক মাস ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছেন প্রায় ৮০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধ। শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ এই বৃদ্ধ কথা বলতে পারেন না, শরীরজুড়ে পচন ধরেছে। অমানবিক নিষ্ঠুরতায় যাঁকে এখানে ফেলে রেখে গেছে সেই ‘পাষ-দের’ খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, কাশিমনগর জামে মসজিদের সামনে অবস্থিত ছাগলের হাটের চাঁদনীতে শুয়ে আছেন জরাজীর্ণ এক বৃদ্ধ। গায়ে একটি শার্ট ও পরনে হাফপ্যান্ট। দীর্ঘ এক মাস ধরে নড়াচড়া করতে না পারায় মল-মূত্র লেগেই তাঁর সারা শরীর থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা নাক চেপে পাশ দিয়ে হাঁটছেন, কিন্তু তাঁর পরিচয় জানার বা তাঁকে উদ্ধার করার উদ্যোগ যেন কারও নেই।
স্থানীয় এক চা দোকানি জানান, গত ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন আগে একটি ভ্যানে করে দুই ব্যক্তি তাঁকে হাটের চাঁদনীতে বসিয়ে রেখে যায়। কিছু সময় পর ওই ব্যক্তিরা ভ্যান নিয়ে চলে যায়। তিনি বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ হয়তো স্বজনদের রেখে গেছেন, কিন্তু এক মাস পার হয়ে গেল, কেউ আর ফিরে এল না। আমরা অনেক ডাকাডাকি করেছি, কিন্তু তিনি একটি শব্দও করতে পারেননি।”
স্থানীয় বাসিন্দা জিএম মোস্তাক আহমেদ বলেন, “বৃদ্ধটির পরিচয় জানার জন্য আমরা বহু চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি নির্বাক। অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার নেই তাঁর।”
বৃদ্ধটির মানবেতর জীবন দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বাজার করতে আসা নুরুল আমিন বলেন, “যাঁরা একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে পশুর মতো ফেলে রেখে গেছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনা উচিত। এটি কেবল নিষ্ঠুরতা নয়, চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
বাজারে আসা একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বৃদ্ধটির বেঁচে থাকার জন্য এখন সরকারি বা কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন। তাঁর শরীরের ক্ষত ও দুর্গন্ধে জীবন এখন সংকটাপন্ন।
স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা, যাতে অন্তত মানবিক কারণে হলেও এই বৃদ্ধকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।












