কপোতাক্ষের সেতু নির্মাণকাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তালা উপজেলার খেরশা-শালিখা এলাকার কপোতাক্ষ নদ। কিন্তু এর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ অর্ধেক শেষ করার পরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও শ্রমিকেরা লাপাত্তা হয়ে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্ভোগ কমাতে তাঁরা দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদের এক পাড়ে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেরশা ইউনিয়ন এবং অপর পাড়ে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্করপুরের লাড়ুলি ইউনিয়ন। দুই উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার লাখো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর কপোতাক্ষ নদের ওপর সেতু নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় সড়কের ২১৫০ মিটার চেইনেজে কপোতাক্ষ নদের ওপর ৮০ মিটার সেতু ও ৪৪ মিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণের বাজেট ধরা হয় প্রাক্কলিত ১১ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা (চুক্তিকৃত মূল্য ১১ কোটি ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা)।
পাইকগাছা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার জিয়াউল ট্রেডার্স নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। তবে জমি অধিগ্রহণ, পিলার নির্মাণ ও বেজ ঢালাইসহ কিছু কাজ করার পর ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তারা কাজ বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে রাতের আঁধারে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও সরিয়ে নেওয়া হয়। সরজমিনে নদের দুই পাড়ে মাত্র চারটি অসম্পূর্ণ পিলার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
কাটিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, সেতুটি হলে এলাকায় আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও যোগাযোগের পথ সুগম হতো। কিন্তু মাঝপথে কাজ বন্ধ হওয়ায় সবাই হতাশ। লাড়ুলি এলাকার ইজিবাইকচালক নূর ইসলাম বলেন, কয়রা, পাইকগাছা ও আশাশুনির মানুষ খুব সহজে এই পথে খুলনা ও সাতক্ষীরা শহরে যাতায়াত করতে পারতেন। কিন্তু এখনো তাঁদের সাঁকো পার হতে হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আবুল হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শ্রমিকেরা কাজ ছেড়ে চলে যান। বিলসংক্রান্ত জটিলতা মেটাতে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সমাধান হলে আবার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাফিন শোয়েব বলেন, কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। ফলে চুক্তি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। চুক্তি বাতিল হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, অসম্পূর্ণ সেতুর কাজ দ্রুত পুনরায় শুরুর বিষয়ে এলজিইডি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে তালা উপজেলার নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।












