রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

কালিগঞ্জে ফারজানা হত্যার ঘটনায় মামুনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে ফারজানা হত্যার ঘটনায় মামুনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রহিম শুক্রবার সংশ্লিষ্ট আদালতে এ আবেদন জানান।

এদিকে ফারজানার মৃত্যুকে ঘিরে মব সৃষ্টি করে গৃহবধু সুমাইয়া খাতুনকে পুলিশের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে ইট দিয়ে থেঁতলে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬ দিনের কোন মামলা হয়নি। ফলে হত্যার সঙ্গে জড়িতরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তবে এ দুটি হত্যার ঘটনার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

নিহত সুমাইয়া খাতুনের ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চার বছর আগে কাশিপুর গ্রামের এন্তোফ মোড়লের ছেলে হামিদুলের কথায় তার বোন সুমাইয়া খাতুনকে একই গ্রামের আমিরুল ইসলামের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর তারা জানতে পারেন যে, আমিরুল একজন নেশাগ্রস্ত ও জুয়াড়ি। এ নিয়ে সুমাইয়া ও আমিরুলের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো। সুমাইয়ার উপর চলতো নির্যাতন। এ নিয়ে শালিসি বৈঠক হয়েছে কয়েকবার। এক শালিসি বৈঠকে হামিদুলকে লাঞ্চিত হতে হয় মামুনের কাছে।

 

পরবর্তীতে মামুনকে মারপিট করে বদলাও নেন হামিদুল। এরপর থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্কেও চরম অবনতি হয়। তবে নিহত ছাত্রী ফারাজানা সুলতানা ও সুমাইয়া খাতুনের পরিবারের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল। একে অপরের বাড়িতে রান্না করা খাবার বিনিময় করতেন। চলতো অর্থনৈতিক লেনদেনও। হামিদুলের সঙ্গে তার বোনের সুসম্পর্ক ছিল। ২০ জুলাই সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সে ভাগ্নি আমেনাকে খাবার কিনে দিয়ে বাড়ি চলে আসে। দুপুর সোয়া একটার দিকে কয়েকটি মোবাইল থেকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় যে, সুমাইয়া ও ফারজানা তাদের বাড়িতে গেছে কি না?

চিংড়িখালি ভূমিহীন জনপদে বসবাসকারি এশার আলী জানান, তার বলা মতে গত ২০ জুলাই সকালে তার পুত্রবধু সুমাইয়া খাতুন তাদের বাড়িতে আসেন। দুপুর দেড়টার দিকে ফারজানার চাচীসহ কয়েকজন মুঠোফোনে জানতে চান যে, ফারজানা তার কাছে আছে কিনা! উত্তর না বলায়, তাকে বাড়িতে ফিরে আসতে বলা হয়।

কলুরমেদে গ্রামের নাছিমা খাতুন জানান, ফারজানাকে পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর পেয়ে বিষয়টি সুমাইয়া তাকে অবহিত করে। তিনিও মেয়ে সুমাইয়ার সাথে তাদের বাড়িতে চলে আসেন। এ সময় হামিদুলসহ কয়েকজন সুমাইয়ার কাছে ফারজানা সম্পর্কে জানতে চাইলে সে কিছু জানে না বলে জানায়। কিছুক্ষণ পর সুমাইয়ার বাবা শেখ আব্দুল লতিফ চলে আসায় তারা দুইজন কথা বলে বাড়িতে ফিরে অসেন।

নাছিমা খাতুন আরো জানান, ফারজানাকে কোথাও খুঁজে না পাওয়ায় সুমাইয়ার উপর চাপ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ সুমাইয়ার লাশ নিয়ে গেছে এমন খবর ছড়িয়ে দিলে একটি মহল উত্তর দিকের ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। পরে সুমাইয়ার কাছে চাবি না চেয়ে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকে পুলিশসহ স্থানীয় কয়েকজন। এ সময় লক বিহিন পিছনের জানালা খুলে পড়ে ছিল। পরবর্তীতে সোয়া ছয়টার দিকে আবারো ঘরে ঢুকে কয়েকজন ওয়ালসোকেচ থেকে ফারজানার হাত ও পা বাঁধ লাশ উদ্ধার করে।

 

সুমাইয়া কিছু জানে না বলার পরও কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে পুলিশের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে উঠানে ফেলে দিয়ে পুলিশের সামনেই ইট দিয়ে থেঁতলে মৃত ভেবে ফেলে রাখে হামিদুল মোড়ল, একই গ্রামের মাসুম, হুসাইন খান, পানি বিক্রেতা তৌফিকসহ কয়েকজন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সুমাইয়াকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ইন্দ্রনগর মোড়ে অবস্থান নেয়।

 

রাত প্রায় ৯টার দিকে পুলিশ এসে ফারজানা ও সুমাইয়ার লাশ নিয়ে চলে যায়। একজোড়া দ্ইু আনা সোনার দুল নিতে ফারাজানাকে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে বাড়িতে ডেকে সুমাইয়া হত্যা করেছে মর্মে প্রচার করা হয়। নিয়ে নেওয়া হয় সুমাইয়ার ফোন। নতুন করে হামলার ভয়ে ময়না তদন্তের একদিন পর গভীর রাতে কলুরমেদে গ্রামে সুমাইয়ার লাশ দাফন করা হয়। আবারো হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা হত্যাকারিদের নামে মামলা করতে পারছেন না। রয়েছে এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির চাপও।

নাছিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ফারজানার কানের দুল দুটি ও সুমাইয়ার মোবাইল ফোন কোথায় তা তিনি জানতে চান। পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নিতে ও মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ঘটনাস্থলে না থাকায় পরও ফারজানা হত্যা মামলায় তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামী করেছে হামিদ মোড়ল। এমনকি নিজে সুমাইয়া হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে ফারজানা হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী হয়েছেন। সুমাইয়া হত্যার ব্যাপারে তারা দ্রুত মামলা করবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুমাইয়ার ঘরে আসবাবপত্র দিয়ে ঘর দুটি সাজানো- গোছানো ছিল। তবে যে ঘর থেকে ফারজানার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ওই ঘরের পিছনের জানালার পাল্লা মজবুত করে লাগানো ছিল না। তাছাড়া সুমাইয়ার ভাসুরের ছেলে মোস্তাককে (২৩) ২০ জুলাই দুপুরের পর থেকে আজো এলাকায় দেখা যায়নি। তাছাড়া ফারজানা ইউনিফর্ম পরে স্কুলে এলেও লাশ উদ্ধারের সময় তার পরিহিত পাজামা অন্য রং এর ছিল।

 

ইউনিফর্মের পায়জামা দিয়ে তার পা দুটি বাঁধা ছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে স্কুল থেকে সুমাইয়ার বাড়িতে আসা ফারজানাকে ধর্ষণ করে হত্যার পর পিছনের জানালা দিয়ে ঢুকে হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় ওয়ালসোকেচের মধ্যে রাখা হয়েছে। কারণ ৯ বছরের একটি মেয়েকে টেনে নিয়ে একাকি ওয়ালসোকেচের মধ্যে রাখা অসম্ভব প্রায়। আর সুমইয়া দুলের লোভে ফারজানাকে হাত ও পা বেঁধে হত্যা করে ওয়ালসোকেচের মধ্যে রাখলে তাকে মোবাইল ফোনে ডাকার পর সে বাড়িতে আসতো? তা ছাড়া তার কাছে চাবি থাকার পরও তা না নিয়ে তালা ভাঙা হলো কেন? মোস্তাকের অবস্থান সম্পর্কে পরিবার নিশ্চুপ কেন?

 

গত বৃহষ্পতিবার জেলা প্রশাসক মিজ কাওছার আজিজ ফারাজানার বাড়িতে গেলে হামিদ মোড়ল কেন বললেন স্যার, গণপিটুনিতে মারা গেছে সুমাইয়া। এনিয়ে যেন কাউকে হয়রানি করা না হয়। তারা আরো জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ইচ্ছার গুরুত্ব না দিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করলে পুলিশ দুটি হত্যাকা-ের ক্লু দ্রুত উদ্ধার করতে পারবে। ক্ষতিগ্রস্তরা পাবে ন্যায় বিচার।
এ ব্যাপারে হামিদুল মোড়লের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে ফারজানাকে ময়নাতদন্তকারি চিকিৎসক সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মাহাফুজুর রহমান প্রতিবেদন দেওয়ার আগে সে ধর্ষিত হয়েছিল কিনা তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রহিম জানান, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমা- আবেদন জানানো হয়েছে। জব্দ তালিকায় ফারজানার স্কুল ইউনিফর্মের পাজামা না অন্য কিছু তা তিনি বলতে পরেননি। জব্দ তালিকা ও সুরতহাল প্রতিবেদন উপপরিদর্শক সাব্বির হোসেন প্রস্তুত করেছিল বলে জানান তিনি।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, সুমাইয়া হত্যার ঘটনায় শনিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। তবে শনিবার সন্ধ্যায় মামলা হতে পারে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করা হলে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করবে। তবে দুটি হত্যার ব্যাপারে ন্যয়বিচারের স্বার্থে তারা যথাযথ তদন্ত করে যাচ্ছেন ।

 

Ads small one

দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা ও জীবিকায় সাহায্যার্থে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ।
রোববার (২৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় তালা উপজেলার মির্জাপুর বাজারে কাদের বক্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে নগদ টাকা ও ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. আলাউদ্দিন মল্লিকের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, “ধনী মানুষের সম্পদের ভেতরে আল্লাহ তাআলা গরিবের হক রেখে দিয়েছেন। আজকের সমাজে যদি জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকত, তাহলে কোনো গরিব খুঁজে পাওয়া যেত না। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ১০ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষকে ১টি করে ছাগল এবং ১ জনকে চায়ের দোকান দেওয়ার জন্য নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ছাগলপ্রাপ্তরা হলেন বারাত গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ ও মোসাঃ সাজেদা বেগম, কুমিরার ফাতেমা বেগম, মদনপুরের আছিয়া বেগম, ভাগবা গ্রামের শিরিনা বেগম, সেনপুরের মফিজুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ, নোয়াকাটির নিসার আলী এবং জামাল উদ্দিন। এছাড়া চায়ের দোকান করার জন্য হাজরাপাড়ার কামরুল ইসলামকে নগদ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী, ভিডিএফের জেলা সভাপতি ডা. আফতাব উদ্দীন, তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহ, সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাজমুল হক খান, কুমিরা ইউনিয়ন আমীর মাস্টার বকুল, সেক্রেটারি মাওলানা তরিকুল ইসলাম, মাস্টার মাওলানা মোশাররফ হোসেন, ছাত্রনেতা জুবায়ের, সমাজসেবক আল মামুন, ডা. আবু হোসেন ও মতিউর রহমান।

 

সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির বর্তমান ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি প্রত্যাখান করে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ৮ জন শীর্ষ নেতা। পদত্যাগকারীরা হলেন কার্যকরী সভাপতি শেখ সাঈদ আহমেদ রঞ্জু, সহ-সভাপতি মো. জিয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুজ্জামান বাবলু, এবং কার্যকরী সদস্য যথাক্রমে আব্দুল মোমেন খান চৌধুরী (সান্টু), মো. আবু হাসান, মো. নুরুজ্জামান জামু, শেখ শাহাজাহান আলী ও মো. দেলোয়ার হোসেন সুজন।
রবিবার (২৬ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পদত্যাগপত্রটি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরবোর ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, গত ২৯ নভেম্বর সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হলেও পরবর্তীতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের সুবিধাজনক ব্যক্তিদের নিয়ে ৯ সদস্যের একটি পৃথক কমিটি গঠন করে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন করিয়ে আনেন। বিষয়টি নিয়ে বারবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান করা হয়নি। এছাড়া অনুমোদিত কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তার নিজস্ব কোনো ট্রাক নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব অসাংগঠনিক কর্মকা-ের প্রতিবাদেই তারা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

পত্রদূত রিপোর্ট: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে আন্দোলন অব্যাহত আছে। সংসদ সদস্য পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো শ্যামনগরে রোববার বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বাবলাতলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এ সময় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঠিকাদার মো. শামসুদ্দোহা। বক্তব্য দেন রবিউল ইসলাম, আবদুস সালাম, মফিজুল ইসলাম, মো. রাসেল প্রমুখ।
মফিজুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের নৈতিক প্রত্যাশা ও সংসদ সদস্যের পদমর্যাদার কথা বিবেচনায় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
অন্য বক্তরা বলেন, শ্যামনগরের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গাজী নজরুল ইসলামকে ইতিমধ্যে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে শ্যামনগর অচল কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার সব উপজেলায় একযোগে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে নানা বিতর্ক ও নির্বাচনী এলাকায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলার মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ জরুরি সভায় বসে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।