কেশবপুরে জলাবদ্ধতায় ৬৬ হেক্টর পাটের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ
এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): হঠাৎ ভারী বর্ষণে কেশবপুরের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অধিকাংশ পাট ক্ষেতে কোমর পানি বেঁধে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে পানিতে মরতে শুরু করেছে নাবী জাতের পাট। এ অবস্থায় কৃষকরা অপরিপক্ক পাট কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগের ভাষ্যমতে, ভারী বর্ষণে উপজেলার ৬৬ হেক্টর জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন কৃষক পাটের কাঙ্খিত ফলন পাচ্ছেন না, অন্যদিকে পাটের ন্যার্য্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষক।
কৃষকরা জানায়, এ উপজেলায় প্রতিবছর অপেক্ষকৃত উঁচু জমিতে ১৫ চৈত্রের পর এবং বোরো ধান কাটার পর (১৫ বৈশাখের পর) এই দুই সময়ে পাটের আবাদ করা হয়। চৈত্র মাসে বপন করা পাটে খরার কারণে শ্রমিকের মজুরীসহ পানি সেচ বাবদ অন্য বারের চেয়ে এবার উৎপাদন খরচ বেশি দিতে হয়েছে। অপরদিকে, বৈশাখে বপন করা পাটে আগাছা পরিস্কার করার পর রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে যখন কৃষকরা সোনালী আঁশ ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখনই হঠাৎ ভারী বর্ষণে কৃষকের সে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। নিন্মাঞ্চলের অধিকাংশ পাট ক্ষেতে হাটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি বেঁধে যায়। পানির মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে একজন কৃষক এক শতকের বেশি জমির পাট কাটতে পারছে না। স্বাভাবিক মজুরির চেয়ে তাদের বেশি মজুরি খরচ দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বাধ্য হয় কৃষকরা অপরিপক্ক পাট কাটতে। এতে পাটের ফলনও মান ভালো না হওয়ায় ভালো দামও পাচ্ছেন না।
কৃষি বিভাগ জানায়, গত বছর ৬ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। চলতি বছর পাটের দাম বেশি হওয়ায় গত বারের চেয়ে এবছর ৬ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমি পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে পাটের আবাদ হয় ৬ হাজার ৬‘শ হেক্টর জমিতে। পাটের উৎপাদন বাড়ানোসহ ভারতীয় পাট বীজের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এ উপজেলার ৬‘শ জন কৃষককে পাটের বীজ, সারসহ প্রণোদনা দেয়া হয়। পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২০ হাজার ৮০৫ মেট্রিকটন। যার বাজার মূল্য ১৬০ কোটি ২০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। কিন্তু হঠাৎ ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতায় ৬৬ হেক্টর জমির পাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানি বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক পাট কাটতে ব্যর্থ হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জলাবদ্ধতায় ৬৬ হেক্টর জমির পাটের ক্ষতি হয়েছে। বীজ বপনের ১২০ দিন হলেই পাট পরিপক্ক হয়। ভাদ্র মাসের শেষের দিকে কাটলে কৃষকরা পরিপক্ক পাট পেতেন। কিন্তু পানির কারণে আগেভাগেই পাট কেটে ফেলছেন। পাটের দাম ভালো হলেও কৃষকরা ভালো ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।









