কেশবপুরে ধানে ‘লক্ষ্মী ভোল’ রোগের প্রাদুর্ভাব, দুশ্চিন্তায় কৃষক
এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ক্ষেতে ‘ফলস স্মার্ট’ বা ছত্রাকজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘লক্ষ্মী ভোল’ বা ‘কুড়ি রোগ’ নামে পরিচিত এই রোগের আক্রমণে ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ধানের শীষে স্বাভাবিক দানার পরিবর্তে কমলা বা হলুদ রঙের গুটির মতো ছত্রাক জন্মেছে। এই ছত্রাকের কারণে ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং চালের গুণগত মান ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কেশবপুরে ১৩ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১২ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ বেশি হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা ছিল কৃষকদের।
আলতাপোল গ্রামের কৃষক জি এম মনিরুজ্জামান বলেন, “ধানের শীষ বের হওয়ার পর থেকেই এই রোগ দেখা যাচ্ছে। প্রথমে ভেবেছিলাম পোকা লেগেছে, পরে দেখি দানার জায়গায় হলুদ-কমলা গুটি। এতে অনেক ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।”
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতিরিক্ত ইউরিয়া বা নাইট্রোজেন সার ব্যবহার। জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকা। ঘন করে চারা রোপণ এবং বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা। টানা বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়ার কারণেও এই ছত্রাক দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ধানের ফলস স্মার্ট একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এটি সাধারণত শীষ বের হওয়ার সময় আক্রমণ করে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; সঠিক সময়ে সুষম সার প্রয়োগ, জমির পানি নিষ্কাশন এবং আক্রান্ত শীষ দ্রুত অপসারণ করলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ায় ফলনের সম্ভাবনা এখনো ভালো। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সচেতন করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। যথাযথ পরিচর্যা করলে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।









