শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

কোরবানি না হওয়া ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে নিয়ে যা বলছে বিশ্ব গণমাধ্যম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
কোরবানি না হওয়া ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে নিয়ে যা বলছে বিশ্ব গণমাধ্যম

অনলাইন ডেস্ক: অ্যালবিনো জাতের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষটি শেষ পর্যন্ত কুরবানি হচ্ছে না। ঈদুল আজহার আগে বিক্রি হয়ে গেলেও সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিশেষ নির্দেশনায় সেটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিরল প্রজাতির এই গোলাপি মহিষটির নতুন ঠিকানা হয়েছে ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা।

বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্য বা অ্যালবিনিজমের কারণে এই মহিষটির গায়ের রঙ হয়েছে গোলাপি এবং কপালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো সোনালি চুল রয়েছে। এই অনন্য রূপের কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও মহিষটি তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ভাইরাল খ্যাতির সুবাদে বাংলাদেশে ঈদের কুরবানি থেকে রেহাই পেল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘কমান্ডার ইন চিফ’ পদের সঙ্গে মিল রেখে রসিকতা করে মহিষটিকে ‘কমান্ডার ইন বিফ’ বলে আখ্যা দিয়েছিল ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। তারা নতুন প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘ট্রাম্প’ মহিষকে কুরবানি থেকে বাঁচিয়ে বাংলাদেশের চিড়িয়াখানায় পাঠানো হলো।

ফ্রান্স ২৪-এর শিরোনাম করেছে, ভাইরাল তারকাখ্যাতি বাংলাদেশে ‘ট্রাম্প’ মহিষকে কুরবানির হাত থেকে বাঁচাল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ লিখেছে, বাংলাদেশে ঈদের কুরবানি থেকে রেহাই পেল ভাইরাল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষটিকে বাঁচাতে হস্তক্ষেপ করলেন কর্মকর্তারা।

টাইমস অব ইসরাইল লিখেছে, ঈদের কুরবানি থেকে শ্বেতকায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষকে রেহাই দিল বাংলাদেশ।

নিউইয়র্ক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের ভাইরাল অ্যালবিনো মহিষ বাংলাদেশে ঈদের কুরবানি থেকে রেহাই পেয়েছে।

 

এনডিটিভি লিখেছে, ভাইরাল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষকে ঈদের কুরবানি থেকে বাঁচিয়ে বাংলাদেশের চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমটির শিরোনাম, ভাইরাল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষটিকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।

 

অন্যান্য প্রভাবশালী মিডিয়া: এর বাইরেও ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, পাকিস্তানের ডন, ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া টুডেসহ বিশ্বের প্রায় সবগুলো সুপরিচিত সংবাদমাধ্যম এই গোলাপি অ্যালবিনো মহিষটির খবর বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।

Ads small one

পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি ৪৮ লাখ ৮৮ হাজার ডলারে বিক্রি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি ৪৮ লাখ ৮৮ হাজার ডলারে বিক্রি

ছয় দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ফুটবল সম্রাট পেলের আবেদন এতটুকুও কমেনি। ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলকে প্রথম শিরোপা জেতানোর ম্যাচে তার পরা জার্সি নিলামে বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ৪৮ লাখ ৮৮ হাজার ডলারে (প্রায় ৪.৯ মিলিয়ন ডলার)। এটি পেলের স্মারক সামগ্রীর মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রির নতুন রেকর্ড।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথেবিস-এর আয়োজিত নিলামে জার্সিটি বিক্রি হয়। এর মধ্য দিয়ে পেলের স্মারক সামগ্রীর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে পেলের ১৯৫৮ সালের রুকি কার্ড ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি হয়েছিল ১৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। যা সে সময় ফুটবলের প্রথম ১০ লাখ ডলারের কার্ড হিসেবে রেকর্ড গড়েছিল।

১৯৫৮ সালের সেই ফাইনালে পেলের বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা ও গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে এখনও তার রেকর্ড অক্ষুণ্ন রয়েছে। সুইডেনের বিপক্ষে ওই ম্যাচে তিনি ৫৫ ও ৯০ মিনিটে দুটি গোল করেছিলেন।

ফাইনালের পর পেলে জার্সিটি তার সতীর্থ দিদাকে উপহার দিয়েছিলেন। পরে দিদা সেটি রিও ডি জেনেইরোর একটি জাদুঘরে দান করেছিলেন। ২০০৪ সালে সেই জাদুঘর জার্সিটি ক্রিস্টিজ- এর নিলামে তোলে। যেখানে সেটি বিক্রি হয়েছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলারে। এবার সোথেবিসের নিলামে জার্সিটির সঙ্গে ছবির মাধ্যমে সত্যতা যাচাইয়ের আনুষ্ঠানিক নথিও যুক্ত ছিল।

ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার প্রথমটির স্মারক এই জার্সিটি এখন ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া জার্সি। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচে পরা ডিয়েগো ম্যারাডোনার জার্সি। ২০২২ সালে ৯.২৮ মিলিয়ন ডলারে সেটি বিক্রি হয়েছিল।

টিকি-টাকার লড়াইয়ে কে এগিয়ে, আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
টিকি-টাকার লড়াইয়ে কে এগিয়ে, আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন?

টিকি-টাকার কথা উঠলেই প্রথমেই যে দলের নাম আসে, সেটি স্পেন। ছোট ছোট নিখুঁত পাস, বলের দখলে প্রতিপক্ষকে অসহায় করে তোলার সেই ফুটবল দর্শনেই একসময় বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করেছে লা রোহারা। এবার সেই ঐতিহ্যকে সঙ্গী করেই বিশ্বকাপ ফাইনালে নামছে স্পেন। তবে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাও এবারের আসরে পাসিং ফুটবলে সমান উজ্জ্বল। ফলে টিকি-টাকার জনক স্পেনের সামনে তাদেরই অস্ত্র দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তাই টিকি-টাকার লড়াইয়ে অপেক্ষা জমজমাট এক ফাইনালের।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি সফল পাস করেছে আর্জেন্টিনা ৪ হাজার ২০৭টি। শুধু বলের দখলই নয়, সেই পাসিংকে কার্যকর আক্রমণে রূপ দিয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। এখন পর্যন্ত ১৯টি গোল করেছে। এছাড়া ছয়বার তাদের শট লেগেছে পোস্ট বা ক্রসবারে, যা আক্রমণে ধারাবাহিক আধিপত্যেরই প্রমাণ।

স্পেনের সফল পাসের সংখ্যা ৪ হাজার ১৮। পাসিংয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে সামান্য পিছিয়ে থাকলেও রক্ষণে তারা পুরো টুর্নামেন্টের সেরা দল। এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্প্যানিশরা। পাশাপাশি ছয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলশূন্য রেখে ক্লিন শিটও ধরে রেখেছে।

টিকি-টাকার লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

পরিসংখ্যান বলছে, আক্রমণে স্পষ্টভাবে এগিয়ে আর্জেন্টিনা, আর রক্ষণে একচেটিয়া আধিপত্য স্পেনের। অর্থাৎ ফাইনালে দেখা যাবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কার্যকর আক্রমণের বিপক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণভাগের লড়াই।

ফুটবলীয় দর্শনে দুই দলই বল দখল ও ছোট ছোট পাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে পার্থক্যটা ফাইনাল থার্ডে। আর্জেন্টিনা যেখানে দ্রুত আক্রমণে ফিনিশিংয়ে অভ্যস্ত, স্পেন সেখানে ধৈর্য ধরে বল ঘুরিয়ে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে সুযোগ তৈরি করে।

তাই ফাইনালের আগে প্রশ্ন উঠেছে, আর্জেন্টিনার আগ্রাসী আক্রমণ কি স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙতে পারবে, নাকি টিকি-টাকার আসল রাজা হয়ে উঠবে স্পেন?

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস: বিচারহীনতার অন্ধকার দূর করার বৈশ্বিক অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস: বিচারহীনতার অন্ধকার দূর করার বৈশ্বিক অঙ্গীকার

সাকিবুর রহমান বাবলা
প্রতি বছর ১৭ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস, যা আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার দিবস নামেও পরিচিত। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আগ্রাসনের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করা।
১৯৯৮ সালের ১৭ জুলাই রোম সম্মেলনের মাধ্যমে ‘রোম সংবিধি’ গৃহীত হয়, যা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করে। ২০০২ সালের ১ জুলাই নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আদালতটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১০ সালে কাম্পালা সম্মেলনে ১৭ জুলাইকে ‘আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ আদালতের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী বিচারিক প্রতিষ্ঠান।
ন্যায়বিচার কেবল আন্তর্জাতিক আইনের বিষয় নয়, বরং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের মৌলিক ভিত্তি। পবিত্র কোরআনে একে সমাজ পরিচালনার অন্যতম প্রধান নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আর যখন তোমরা লোকদের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচার করবে’ (সূরা আন-নিসা: ৫৮)। এমনকি স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে ন্যায়ের পক্ষে সাক্ষী হওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সূরা আন-নিসা: ১৩৫) এবং শত্রুর প্রতিও ন্যায়পরায়ণ আচরণের নির্দেশ রয়েছে (সূরা আল-মায়েদাহ: ৮)।
ইসলামের ইতিহাসে ন্যায়বিচার বাস্তবায়নে রয়েছে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—মসজিদ নির্মাণের জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম দেখে খলিফা ওমর (রা.) তা অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া প্রভাবশালী গোত্রের এক নারীর অপরাধের প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছিলেন, আইনের বিচারে কোনো ছাড় নেই। এমনকি তাঁর নিজের মেয়ে ফাতেমা (রা.)-ও অপরাধ করলে তিনি একই শাস্তি নিশ্চিত করতেন। এসব দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে, প্রকৃত ন্যায়বিচারে অপরাধীর পরিচয় নয়, বরং অপরাধের ধরনই মুখ্য।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংস্থা বিশ্বজুড়ে কাজ করছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা World Justice Project (WJP)–এর ২৮ অক্টোবর ২০২৫ প্রকাশিত জঁষব ড়ভ খধি ওহফবী অনুযায়ী, ১৪৩টি দেশের মধ্যে ডেনমার্ক (স্কোর ০.৯০) আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এর পরেই রয়েছে নরওয়ে (০.৮৯), ফিনল্যান্ড (০.৮৭), সুইডেন (০.৮৫) এবং নিউজিল্যান্ড (০.৮৩)। অপরদিকে সূচকের সর্বনি¤œ অবস্থানে রয়েছে ভেনেজুয়েলা, এরপর আফগানিস্তান, কম্বোডিয়া, হাইতি ও নিকারাগুয়া। সরকারের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ, উন্মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রক প্রয়োগ, দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচারসহ ৮টি সূচকের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বের প্রায় ৬৮ শতাংশ দেশে আগের বছরের তুলনায় আইনের শাসনের অবনতি ঘটেছে, যা বৈশ্বিকভাবে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশের সংবিধানও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক লক্ষ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ১০২ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট করার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সাংবিধানিক ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তবে মামলার দীর্ঘসূত্রতা, বিচারাধীন মামলার জট এবং প্রান্তিক মানুষের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এখনও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের জন্য আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর অধীনে ২০০১ সালে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’ (লিগ্যাল এইড) গঠিত হয়। পরবর্তীতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে সংস্থাটিকে পুনর্গঠন করে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এছাড়া ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার পরিচালনার জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। একই বছর বাংলাদেশ রোম সংবিধি অনুসমর্থন করে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে বিচার অস্বীকার করাÑএই উক্তিটির মূল কথা হলো, ন্যায়বিচার কেবল সঠিক হলেই চলে না, তা সঠিক সময়ে হওয়াও জরুরি। বিচার পেতে যদি অহেতুক দেরি হয়, তবে তা ভুক্তভোগীকে সুবিচারের পরিবর্তে অনিশ্চয়তা ও হতাশার দিকে ঠেলে দেয়। দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রমাণের সংকট দেখা দেয়, বিচারপ্রার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং আইন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারান। তাই একটি সুশৃঙ্খল সমাজে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে মামলার দ্রুত ও সময়মতো নিষ্পত্তি করা অপরিহার্য, কারণ বিলম্বে পাওয়া ন্যায়বিচার অনেক সময় প্রকৃত বিচারের মর্যাদা হারায়।
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস নিছক কোনো প্রতীকী দিবস নয়, বরং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিপরীতে জবাবদিহিতার এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার। রাজনৈতিক বা সামরিক ক্ষমতার দোহাই দিয়ে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়; বরং অপরাধীর পরিচয়ের চেয়ে অপরাধের ধরনই বিচারের মূল ভিত্তি। বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও মানব মর্যাদা রক্ষায় ন্যায়বিচারের কোনো বিকল্প নেই, কারণ এর অনুপস্থিতিতেই বৈষম্য ও সহিংসতা ঘনীভূত হয়। তাই স্থানীয় পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাই একটি মানবিক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।