সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

গুড়পুকুর মেলায় নিরাপত্তায় বাড়তি নজর, স্বস্তিতে দর্শণার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
গুড়পুকুর মেলায় নিরাপত্তায় বাড়তি নজর, স্বস্তিতে দর্শণার্থীরা

সিসিটিভি-পুলিশি নজরদারিতে পঞ্চম দিনেও উৎসবমুখর পরিবেশ
মিলন বিশ্বাস: দুই বছর পর ফিরে আসা সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলার আজ পঞ্চম দিন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর মেলা প্রাঙ্গণে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেলায় জোরদার করা হয়েছে সিসিটিভি ও পুলিশি নজরদারি।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। পুরো মেলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম। পাশাপাশি পিকেটে থাকা পুলিশ সদস্য ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যদের মাধ্যমে মেলার বিভিন্ন অংশে নজরদারি করা হচ্ছে। ওয়াচ টাওয়ার থেকেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে সার্বিক পরিস্থিতি।

সাতক্ষীরা সদরের কুশখালী থেকে মেলায় আসা মরিয়ম বেগম বলেন, “মেলায় এসে সিসিটিভি ক্যামেরা, পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার এবং প্রশাসনের লোকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখে মনে স্বস্তি পেয়েছি। নিরাপত্তা নিয়ে এখন কিছুটা নিশ্চিন্ত বোধ করছি।”

মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ির পাশের এলাকা থেকে আসা সাগর ও আছিয়া দম্পতি মেলার পরিবেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন পর মেলা হওয়ায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে ভালো লাগছে। চারপাশে পুলিশের উপস্থিতি থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও স্বস্তি নিয়ে মেলায় ঘুরতে পারছেন।
নারকেলতলা থেকে মেয়েকে নিয়ে মেলায় আসা কৃষ্ণা রানী বলেন, “মেলার পরিবেশ ভালো। মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছি, বেশ ভালো লাগছে।”
মিলবাজার থেকে মা ও বোনকে নিয়ে আসা খুশবু আক্তার মুক্তি বলেন, “মেলায় মানুষের ভিড় থাকায় একটু ঠেলাঠেলি হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অসুবিধায় পড়তে হয়নি।”
মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যেও রয়েছে মিশ্র অভিজ্ঞতা। ঢাকা থেকে শিশুদের খেলনা নিয়ে আসা জাহাঙ্গীর জানান, তাঁর বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ হয়নি। তবে মেলায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি রয়েছে, সামনে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে পাবনা থেকে আসা আকাশ মনি জানান, তাঁর বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তাঁর কাছে সন্তোষজনক। তবে মেলার সময়সীমা আরও কিছুটা বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো হতো বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অনেকে সন্ধ্যার দিকে মেলায় এসে প্রবেশের পরই জানতে পারেন রাত ৮টার মধ্যে মেলা শেষ হবে।

শালখালী থেকে মেলায় ঘুরতে আসা পলাশ সরকার বলেন, “মেলায় ঘুরতে ভালো লাগছে। তবে পুরুষদের কেনাকাটার জন্য তেমন বৈচিত্র্যময় পণ্য চোখে পড়েনি।”
দর্শনার্থীদের কেউ কেউ মনে করেন, এত বড় একটি মেলায় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ঘটলেও সেটিকে কেন্দ্র করে পুরো আয়োজনের মূল্যায়ন করা উচিত নয়। বরং নিরাপত্তা আরও জোরদার করে মেলার ঐতিহ্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মেলায় আসা দর্শনার্থী নাজমুল হাসান বলেন, “এত বড় একটি মেলা চললে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে। তাই দিয়ে পুরো মেলাকে বিচার করা ঠিক হবে না। গুড়পুকুর মেলা সাতক্ষীরাবাসীর মেলা, এই ঐতিহ্য থামিয়ে রাখা যাবে না। নিরাপত্তা আরও জোরদার করে মেলাটি সুন্দরভাবে চালিয়ে যাওয়া দরকার।”
সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, “মেলার সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো মেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিসিটিভির মাধ্যমে কোথাও কোনো ধরনের অপরাধ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে দেখা গেলে দ্রুত তা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট পিকেটে থাকা পুলিশ সদস্যদের জানানো হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “মেলায় পিকেট-১, পিকেট-২, পিকেট-৩, পিকেট-৪, পিকেট-৫ এবং কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।”
এসআই শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, মেলায় যাতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা দুষ্কৃতিকারী কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা- ঘটাতে না পারে, সে জন্য সদর থানা, পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘেœ মেলায় আসা-যাওয়া ও কেনাকাটা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। এখন পর্যন্ত মেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।

সিসিটিভি মনিটরিংয়ে কোনো অপরাধ ধরা পড়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি আজকে কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বে আছি। আজ এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার মতো কোনো ঘটনা আমাদের নজরে পড়েনি। ইনশাআল্লাহ, এখন পর্যন্ত সবকিছু ভালো রয়েছে।”

জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার আয়োজনে ১ অক্টোবর শুরু হওয়া গুড়পুকুর মেলা চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। দীর্ঘ দুই বছর পর ফিরে আসা এই আয়োজনে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশাসনের তৎপরতা, ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ এবং দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পঞ্চম দিনেও উৎসবমুখর ছিল গুড়পুকুর মেলা।

Ads small one

দেবহাটায় সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে মন্দিরের জমি দখলের হুমকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে মন্দিরের জমি দখলের হুমকি

সংবাদদাতা: জমি দখল করতে ৮৯ বছরের মন্দিরের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে সংখ্যলঘুদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাইকাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পাইকাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ কুমার রায় জানান, ব্রিটিশ শাসনামলে জমিদার কৃষ্ণকিশোর বন্দোপাধ্যায় সিএস ৩২ খতিয়ানের ২৭৮৫ দাগের এক একর জমিতে ১৯৩৭ সালে এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। একতলা বিশিষ্ঠ মন্দিরের বারান্দার চারিধারে বাঁশের চটার রেলিং রয়েছে। মন্দিরের পূর্ব পাশে পাকা প্রাচীর দেওয়া ছিলো। মন্দিরের জায়গাটুকু বাদ দিয়ে বাকী জমিতে ক’টি মাছের ঘের রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই মন্দিরে পুজা অর্চনা ছাড়াও ঘেরে গলদা, বাগদা, রুই , কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন। ওই জমি ক্রয়সূত্রে দাবি করে বাবর আলী ফকির আদালতে দেঃ ১/৯৫ মামলা করলে ১৯৯৬ সালের ৩ এপ্রিল তা খারিজ হয়ে যায়।
অনিমেষ কুমার রায় আরো জানান, সম্প্রতি মন্দিরের ৯৯ শতক জমির মধ্যে ৮৫ শতক জমি মাটিকুমড়া গ্রামের কলিমউদ্দিনের ছেলে আজিবর রহমান ও মুজিবর রহমানের কাছ থেকে পাইকাড়া গ্রামের বাবুরালী গাজীর ছেলে মাহামুদুল হাসান, জামাল ফারুক ও জামাল ফারুকের স্ত্রী রওশানারা খাতুন কিনেছেন দাবি করে মন্দির কর্তৃপক্ষকে জমি ছেড়ে দিতে বলে। প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ওই জমি দখলে নেওয়ার হুমকি দেয় বাবুরালী গাজী ও তার ছেলেরা। বাধ্য হয়ে তার (অনিমেষ) জ্যাঠাত ভাই তপন রায় বাদি হয়ে গতবছরের ৬ মার্চ সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পিটিশন ৩৩৩/২৫ নং মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাবুরারী গাজীসহ তার ছেলে মাহামুদুল হাসান, জামাল ফারুক ও জামাল ফারুকের স্ত্রী রওশানারাসহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৫ মার্চ গভীর রাতে জনাব আলী গাজীর ছেলে বাবুরালী গাজীর নেতৃত্বে তার ছেলে জামাল ফারুক, মাহামুদুল হাসান, নজরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫/৪০ জন সন্ত্রাসী হাতে দা, লাঠি, শাবল, লোহার রড, বাঁশের লাঠি নিয়ে মন্দিরের চারিপাশের বাঁশের বেড়া ও পূর্ব পাশের ইটের প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। পরে তারা বেড় জাল দিয়ে গলদা ও বাগদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক টাকার মাছ লুটপাট করে। ভাংচুর ও লুটপাটে বাধা দেওয়ায় তিনজন নারীসহ ছয়জনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে গতবছরের ১৫ জুলাই মন্দিরের পুকুর ও ঘের থেকে তাদের চাষকৃত মাছ ধরে নিলে জামাল ফকির বাদি হয়ে আদালতে সিআরপি-১৪৬/ ২৬ নং মামলা করা হয়। মামলায় হীরুলাল,প্রভাস রায়সহ চারজনকে বিবাদী করা হয়।পিবিআই কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান দুটি দলিলের ফটোকপি মূলে জালাল ফারুক ৫৮০৩ দাগের ৩৫ শতক জমি দাবি করলেও ওই জমি ও পুকুরে বিবাদীগণ মাছ চাষ ও বিক্রি করে বলে উল্লেখ করেন। এরপরও তিনি ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিকার আইনের তিনটি ধারায় ও পেনাল কোর্ড এর ১৪৩ ও ৫০৬ ধারা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিলে সমন পেয়ে সোমবার আদালত থেকে জামিন নেন। এতে ক্ষুব্ধ জামাল ফারুক, মহিদ, বাবর আলী, মিন্টু, এলা ঢালীসহ ১০/১২ জন সোমবার বিকেলে মন্দিরের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে জমি জবরদখলের হুমকি দিয়ে চলে যায়। ৯৯৯ এ ফোন দিলে দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক বিপ্লবের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাইকাড়া গ্রামের জামাল ফারুক বলেন, জমি কিনেছেন তাই দখল করতে সাইনবোর্ড তুলে ফেলেছেন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনজীবীর স্ত্রী ও শালিকাসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আইনজীবীর স্ত্রী ও শালিকাসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে এক আইনজীবীর স্ত্রী ও শালিকাসহ পাঁচজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ৫ অক্টোবর বিকেলে পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত গৃহবধূ সোনিয়া আফরিন (৩০) ও তাঁর বোন সাফিও খাতুনকে (৩২) সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনিয়া আফরিনের স্বামী আইনজীবী মো. সাইফুল্লাহ গণী বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল সকালে পুরাতন সাতক্ষীরা মাদ্রাসাপাড়া এলাকার ফারুক হোসেন, তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুম, ছেলে ফাহিম ও রবিউল ইসলামসহ আসামিরা বাদীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। ওই ঘটনায় ৩ মে আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হলে আদালতের নির্দেশে পরদিন সদর থানা পুলিশ সেটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে। ওই মামলার জের ধরে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ৫ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে সোনিয়া আফরিন ও তাঁর বড় বোন সাফিয়া খাতুন বাড়ির সামনের রাস্তায় বের হলে ওত পেতে থাকা আসামিরা ধারালো দা, লোহার রড ও শাবল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলায় সোনিয়া ও সাফিয়া গুরুতর জখম হন। এ সময় তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে মিজান ও মইনুল ইসলামকে পিটিয়ে জখম করা হয়। বাধা দিতে গেলে মিজানের স্ত্রী মমতাজকেও (৩০) লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। এ ছাড়া হামলাকারীরা সোনিয়া আফরিনের গলা থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা স্থান ত্যাগ করেন। গুরুতর আহত সোনিয়া আফরিন ও সাফিয়া খাতুনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে মমতাজ, মিজান ও মইনুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটিতে থানায় মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

আশাশুনিতে নবাগত ওসি শাহিদুর রহমানের যোগদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে নবাগত ওসি শাহিদুর রহমানের যোগদান

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন শাহিদুর রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি আশাশুনি থানায় যোগদান করেন। আশাশুনিতে ওসি হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি সাতক্ষীরা সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসাবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি’র দায়িত্বে ছিলেন। নবাগত অফিসার ইনচার্জ যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার কৃতি সন্তান। (ওসি) শাহিদুর রহমান ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। নবাগত (ওসি) সোমবার বিকাল ৪টায় আশাশুনি থানায় পৌঁছে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই লক্ষণ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে চার্জ বুঝিয়ে নেন। এসময় থানার এসআই ফিরোজ আলম, আনজির হোসেন, কামরুল ইসলাম কাছেদ মুন্সী, মিনহাজ উদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যরা নবাগত ওসিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। যোগদানের পর ওসি শাহিদুর রহমানের বলেন, পুলিশ ও জনতার সম্পর্ক হবে বন্ধুর মতো। জনসাধারণের যে কোনো প্রয়োজনে পুলিশ সহায়তা দিতে বদ্ধপরিকর। আশাশুনি থানা এলাকায় সকল অপরাধমূলক কর্মকা-সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম কর্মীসহ সকল শ্রেণীপেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।