ছুটির দিনে জনসমুদ্র গুড়পুকুর মেলা, নৌকায় উঠতেই দীর্ঘ সারি
0-0x0-0-0#
মিলন বিশ্বাস: দুই বছর পর ফিরে আসা সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) ছিল উপচে পড়া ভিড়। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন ও শিশু-কিশোরদের নিয়ে মেলায় আসতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মেলা প্রাঙ্গণসহ আশপাশের সড়কগুলোতেও মানুষের ঢল নামে। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। অনেক জায়গায় মানুষের দাঁড়ানোর মতোও ফাঁকা জায়গা ছিল না।
শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কজুড়ে বসা মেলার বিভিন্ন স্টলে ছিল ক্রেতাদের ব্যস্ততা। বিশেষ করে নারীদের প্রসাধনী, অলংকার, কসমেটিকস, চুড়ি, গহনা ও বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় দেখা যায় বেশি আগ্রহ। শিশুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল নাগরদোলা, ঘোড়ায় চড়া, শিশু ট্রেনসহ বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন।
তবে শুক্রবার মেলায় সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে নৌকায় ওঠার আয়োজনকে ঘিরে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় চড়তে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায় অনেককে। নৌকায় ওঠার জন্য অপেক্ষমাণদের দীর্ঘ সারি মেলার অন্যতম দৃশ্য হয়ে ওঠে।
মেলায় ঘুরতে আসা অহনা বণিক গল্প বলেন, “আজ বান্ধবীদের সঙ্গে মেলায় ঘুরতে এসেছি। নৌকায় চড়েছি, কেনাকাটাও করেছি। দুই বছর পর মেলা হওয়ায় খুব ভালো লাগছে। তবে এত ভিড় আর গরমের কারণে কিছুটা অস্বস্তিও লেগেছে।”
আশিকুর রহমান বলেন, “শুক্রবার ছুটি থাকায় পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছি। সবাই মিলে ঘুরে বেশ ভালো লাগছে। তবে মেলায় জিনিসপত্রের দাম একটু বেশি মনে হয়েছে। মেলা যেহেতু ২০ দিন চলবে, তাই শেষের দিকে দাম কিছুটা কমতে পারে-তখন কেনাকাটা করার ইচ্ছা আছে।”
দর্শনার্থী আশরাফুল জানান, দুই বছর পর মেলা হওয়ায় মানুষের মধ্যে আগ্রহ অনেক বেশি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় এসে ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটা করতে পেরে ভালো লাগছে। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চলাচলে কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে।
পুষ্পিতা নামের এক দর্শনার্থী বলেন, মেলায় এবার অনেক ধরনের পণ্য ও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের আনন্দ দেখে ভালো লাগছে। তবে ভিড় বেশি হওয়ায় শিশুদের নিয়ে চলাচলের সময় বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
আফজাল নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, “অনেক দিন পর গুড়পুকুর মেলা আবার বড় পরিসরে হওয়ায় মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ ফিরেছে। ছুটির দিনে এত মানুষের সমাগম হবে, সেটি অনুমান করা গেলেও বাস্তবে ভিড় আরও বেশি।”
এদিকে শুক্রবারের ভিড়ের মধ্যে মেলার নিরাপত্তা নিয়েও কয়েকজন দর্শনার্থী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, আগের দিন বৃহস্পতিবার মেলা এলাকায় এক তরুণকে কয়েকজন কিশোর মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে এক তরুণী জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে ওই ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দর্শনার্থীরা মেলা এলাকায় কিশোর গ্যাং বা সংঘবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আরও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণের পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। মেলায় আসা যানবাহনের কারণে বিভিন্ন সড়কে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। ফলে মেলায় আগতদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন।
দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১ অক্টোবর থেকে আবারও শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ মেলা। মেলা ঘিরে সাতক্ষীরার মানুষের মধ্যে ফিরে এসেছে উৎসবের আমেজ। তবে বাড়তি জনসমাগমের কারণে নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা জানিয়েছেন মেলায় আসা মানুষ।












