শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

দৈনিক পত্রদূতে খবর প্রকাশ: অর্থাভাবে পড়ে থাকা লতিফ সরদারের পাশে পাইকগাছার ইউএনও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
দৈনিক পত্রদূতে খবর প্রকাশ: অর্থাভাবে পড়ে থাকা লতিফ সরদারের পাশে পাইকগাছার ইউএনও

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় অর্থাভাবে দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ চিকিৎসা বঞ্চিত প্যারালাইজড ও শরীরে টিউমার (গুটা) আক্রান্ত অসহায় বৃদ্ধ আব্দুল লতিফ সরদারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দৈনিক পূত্রদূতে ১১জুলাই সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ।

জানা গেছে, উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের চরমৌখালী গ্রামের মৃত রজত সরদারের ছেলে লতিফ সরদার (৬৪)। চরভরাটের মাত্র দেড় শতক জমির ওপর একটি ভাঙা ঘরে স্ত্রী ফজিলা বেগমকে নিয়ে চরম অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছিল তার। দীর্ঘ দিন ধরে সমস্ত শরীরে গুটা গুটা আব (টিউমার) বহনের পাশাপাশি গত ৬ বছর ধরে প্যারালাইজড হয়ে অসার অবস্থায় বারান্দায় পড়ে ছিলেন তিনি। নিজের নড়াচড়ার ক্ষমতা না থাকায় স্ত্রী ফজিলা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে সরকারি সাহায্যের জন্য গেলেও তা মেলেনি।

লতিফ সরদারের এই করুণ অবস্থার কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি দ্রুত নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। এরই পরিপ্রক্ষিতে শনিবার (১১ জুলাই) সকালে অসুস্থ লতিফ সরদারের বাড়িতে গিয়ে তার চিকিৎসার জন্য ঔষধ ক্রয়ের নগদ আর্থিক অনুদান তার স্ত্রীর হাতে তুলে দেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস।

 

Ads small one

বুড়িগোয়ালিনীতে ইজিবাইক রাখার স্থান পাকাকরণের কাজ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
বুড়িগোয়ালিনীতে ইজিবাইক রাখার স্থান পাকাকরণের কাজ উদ্বোধন

এমএ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): দীর্ঘদিনের দাবির পর বুড়িগোয়ালিনী ইজিবাইক ও শ্রমিক সমবায় সমিতির সদস্যদের গাড়ি রাখার স্থান পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৪টায় নীলডুমুর ইজিবাইক স্ট্যান্ডে শ্রমিকদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ইট বিছিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নীলডুমুর ইজিবাইক, ইঞ্জিন ভ্যান ও মোটর ভ্যান পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় শ্রমিকরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, শ্রমজীবী মানুষের সুবিধার্থে ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে গাড়ি পার্কিংয়ের স্থানটি পাকাকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শ্রমিকদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

এদিকে, শ্রমিক সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পার্কিংয়ের জায়গা কাঁচা থাকায় বর্ষাকালে যানবাহন রাখা ও চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন ইট বিছিয়ে স্থানটি উন্নয়ন করায় শ্রমিকদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে। স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক আশা দিবস: মানসিক শক্তির আলোকবর্তিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক আশা দিবস: মানসিক শক্তির আলোকবর্তিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যা যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈষম্য, দারিদ্র্য এবং ব্যক্তিগত সংকটের মধ্যেও মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে। সেই শক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘আশা’। আশা মানুষকে হতাশা থেকে মুক্তি দেয়, সংকট মোকাবিলার শক্তি জোগায় এবং উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শেখায়। এই উপলব্ধি থেকেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২৫ সালের ৪ মার্চ গৃহীত এ/আরইএস/৭৯/২৭০ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে ১২ জুলাইকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব হোপ’ হিসেবে ঘোষণা করে।

আন্তর্জাতিক আশা দিবসের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী আশা, শান্তি, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সামাজিক সংহতি এবং মানবকল্যাণের চেতনাকে শক্তিশালী করা। জাতিসংঘের মতে, আশা কেবল একটি আবেগ নয়; এটি এমন এক ইতিবাচক শক্তি, যা ব্যক্তি, পরিবার, রাষ্ট্র এবং পুরো বিশ্বকে সংকট অতিক্রম করে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। খ্যাতনামা মার্কিন কবি এমিলি ডিকিনসনের ভাষায়Ñআশা হলো ডানাওয়ালা এক পাখি, যা আমাদের আত্মার গভীরে বাসা বাঁধে এবং বিনা শব্দে সুর তুলে যায়।

বর্তমান বিশ্ব নানা চ্যালেঞ্জে আক্রান্ত। যুদ্ধ-বিগ্রহ, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বিভাজন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। এমন বাস্তবতায় আশা এক অমূল্য সামাজিক সম্পদে পরিণত হয়েছে। আশা মানুষকে একে অপরের প্রতি সহমর্মী হতে শেখায় এবং বিভক্ত সমাজকে ঐক্যের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। ক্ষমা, পুনর্মিলন ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে আশার ভূমিকা অপরিসীম।

মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায় ‘আশা’ একটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত ইতিবাচক শক্তি। বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী সি.আর. স্নাইডার তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য সাইকোলজি অব হোপ’-এ আশাকে লক্ষ্য অর্জনের ইচ্ছাশক্তি এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ খুঁজে বের করার সক্ষমতার সমন্বয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, আশাবাদী মানুষ সাধারণত অধিক আত্মবিশ্বাসী হন এবং সংকট মোকাবিলায় তাঁরা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকেন। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানও নিশ্চিত করেছে যে, আশা মানুষের মস্তিষ্কের কর্মস্পৃহা ও ইতিবাচক আবেগকে উদ্দীপ্ত করে, যা মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। একইভাবে ভিক্টর ফ্রাঙ্কল তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘ম্যানস সার্চ ফর মিনিং’-এ দেখিয়েছেন যে, জীবনের অর্থ ও আশা মানুষকে চরম দুঃসময়েও টিকে থাকার শক্তি জোগায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য মানে কেবল রোগের অনুপস্থিতি নয়; বরং জীবনের চাপ মোকাবিলা করে উৎপাদনশীল থাকা এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখা। এ ক্ষেত্রে আশা একটি মূল উপাদান। মানুষের মানসিক স্থিতি বজায় রাখা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে আশার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাতক্ষীরায় মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতায় আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছেÑআত্মহত্যার পথে পা বাড়ানো প্রায় প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই মূল কারণ ছিল হঠাৎ বা দীর্ঘদিনের তীব্র হতাশা এবং ভবিষ্যতের প্রতি সব ধরনের প্রত্যাশা হারিয়ে ফেলা। যারা আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরে এসেছেন, তাঁরাও স্বীকার করেছেন যে, সেই চরম মুহূর্তে তাঁদের প্রয়োজন ছিল সামান্য সহমর্মিতা, আন্তরিক শ্রবণ এবং ভবিষ্যতের প্রতি নতুন করে আশা জাগানোর মতো একটি মানবিক স্পর্শ। এই বাস্তবতা আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, আত্মহত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আশাহীনতার ভয়াবহ পরিণতি।

এ দিবসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রা কেবল প্রযুক্তি বা ক্ষমতার ওপর নির্ভর করেনি; বরং নির্ভর করেছে মানুষের অন্তর্গত সাহস ও বিশ্বাসের ওপর। আজকের অনিশ্চিত বিশ্বে আশা হতে পারে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের মূল অনুপ্রেরণা। তাই ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রÑসবার সম্মিলিত দায়িত্ব হলো এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ আশাবাদী হতে শেখে।

আন্তর্জাতিক আশা দিবসের মূল বার্তা একটাইÑ “অন্ধকার যত গভীরই হোক, আশার প্রদীপ নিভে যায় না। সেই আলোকধারাই মানুষকে বাঁচতে, এগিয়ে যেতে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে অনুপ্রাণিত করে।” আসুন, আজ আন্তর্জাতিক আশা দিবসে আমরা অন্তত একজন হতাশ মানুষকে সাহস জোগাই, একটি ভালো কথা বলি এবং সমাজে আশার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করি।

এবার শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ১৮ দিনে মিললো ৪৭ লাখ টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
এবার শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ১৮ দিনে মিললো ৪৭ লাখ টাকা

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে ১৮ দিন পর দ্বিতীয়বারের মতো জেলা প্রশাসনের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ আর নতুন স্থাপন করা দানবাক্স খুলে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সোয়া ১১টার পর থেকে মাজার প্রাঙ্গণে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণনা শেষ হয়। হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা গণনার কাজে অংশ নেন।

গণনা শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনার স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সদস্য আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‌‘ডেগ ও নতুন দানবাক্স খুলে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রৌপ্যও পাওয়া যায়। এসব অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার জেলা প্রশাসকের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।’

তিনি জানান, বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের ১৩৫ রিয়াল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, কাতারের ২২ দিরহাম, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত, হংকংয়ের ২০ ডলার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০ ইউরো, ওমানের ১ দশমিক ৪৫০ দিনার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়াহ, পাকিস্তানের ৬০ রুপি এবং সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার। এ ছাড়া দানবাক্সে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রৌপ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি একটি গরু, ৬৫টি ছাগল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের খাওয়ানো হয়েছে। ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে, যার বিক্রয়মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনার স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির ওপর আস্থা রাখায় সিলেটবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার, দরগাহ মসজিদ ও মাদ্রাসার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির পরবর্তী সভা আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এক মাসের মধ্যে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় একটা নীতিমালা চূড়ান্ত করবো। এর মধ্য দিয়ে অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবো।’

এর আগে গত ২২ জুন আটটি ডেগ আর দানবাক্স খুলে চার দিনে মোট ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা নগদ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং সৌদি ৫ রিয়ালের দুটি নোট পাওয়া গিয়েছিল। পরে জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চালু করা একটি ব্যাংক হিসাবে এসব টাকা জমা রাখা হয়।

স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকালে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।

এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ রকম আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। সরকারের একাধিক মন্ত্রী অবশ্য জেলা প্রশাসক বদলির ঘটনাকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এরপর হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে এক সভা হয়। সেখানে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের কমিটি হয়। আজ ওই কমিটির উদ্যোগেই প্রথমবারের মতো মাজারের দানের টাকা গণনার কাজ শুরু হয়।