নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আগেই ‘কর্মী নিয়োগ’, বেতনহীন দুই শতাধিক যুবক
সংবাদদাতা: আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই শতাধিক ‘পরিবেশকর্মী’ নিয়োগ ও কাজ করানোর মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এনজিও ব্যুরো সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘ড্যাফ বাংলাদেশ’-এর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন কাজ করলেও এসব কর্মীর অধিকাংশই কোনো বেতন পাননি বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি দেশের দুটি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকে সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘পরিবেশকর্মী’ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংস্থাটি। গত ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ১০ মে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৭ থেকে ৮ মাস আগেই দুই শতাধিক বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের যোগদান করানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতন এবং আবেদনপত্রের সঙ্গে ২০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও, মোট কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং বেতন চালু হলে আরও এক লক্ষাধিক টাকা দেওয়ার চুক্তিতে তাদের যোগদান করানো হয়েছিল।
পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমার বিদ্যালয়ে গত তিন মাস ধরে একজন পরিবেশকর্মী কাজ করছে, কিন্তু সে কোনো বেতন পায়নি। যোগদানের সময় সে শুধুমাত্র পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি ছাড়পত্র দেখিয়েছিল, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদনের কাগজ দেখাতে পারেনি।”
এ বিষয়ে ড্যাফ বাংলাদেশ-এর সাতক্ষীরা রিজিওনাল অফিসার প্রীতিষ রায় বলেন, “িিনয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে যেসব প্রতিষ্ঠানে পরিবেশকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অবৈধ। সেখানে যদি কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে, তার দায়ভার ড্যাফ বাংলাদেশ নেবে না।” তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কার নির্দেশে এবং কীভাবে এই কর্মীরা এতদিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে কাজ করলেনÑসে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
যোগাযোগ করা হলে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “বিভাগীয় কর্মকর্তার সুপারিশকৃত একটি চিঠি নিয়ে ড্যাফ বাংলাদেশের লোকজন অফিসে এসেছিলেন। আমি শুধু বিভাগীয় অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার কথা বলেছিলাম। কর্মীরা স্কুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবে, এটুকুই জানানো হয়েছিল। তবে এর সাথে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই জালিয়াতির ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এবং প্রতারিত বেকার যুবকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।






