শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রাইভেট ও কোচিংয়ের চাপে শিক্ষার্থী: আমরা কী শিক্ষা দিচ্ছি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
প্রাইভেট ও কোচিংয়ের চাপে শিক্ষার্থী: আমরা কী শিক্ষা দিচ্ছি?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

শিক্ষা মানুষের চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়। শিক্ষা মানুষকে শুধু জীবিকা অর্জনের পথ দেখায় না, তাকে বিবেকবান, যুক্তিবাদী ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকালে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে আসেÑআমরা কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করে তুলছি, নাকি কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য প্রস্তুত করছি?প্রশ্নটি নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর গুরুত্ব বেড়েছে।

 

কারণ বিদ্যালয়ের পাঠের পাশাপাশি প্রাইভেট পড়া ও কোচিং এখন অনেক শিক্ষার্থীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবারের কাছে এটি যেন বাধ্যতামূলক। সন্তানকে ভালো ফল করতে হলে কোচিংয়ে পাঠাতেই হবেÑএমন একটি সামাজিক ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে একটি শিশুর দিন শুরু হচ্ছে পড়াশোনার চাপ দিয়ে, শেষও হচ্ছে পড়ার টেবিলে। একটি শিশুর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় হলো শৈশব ও কৈশোর।

 

এই সময় তার মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল, সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও সামাজিক মূল্যবোধ। কিন্তু যখন তার জীবনের বড় অংশ চলে যায় পরীক্ষা, কোচিং, নোট ও নম্বরের পেছনে, তখন তার স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।শিক্ষা যদি আনন্দের বদলে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেই শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন আছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি সংকট হলোÑশিক্ষার উদ্দেশ্য ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

 

একসময় শিক্ষা মানে ছিল জ্ঞান অর্জন, নতুন কিছু জানার আগ্রহ এবং সমাজকে বোঝার ক্ষমতা তৈরি করা। এখন অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষা মানে হয়ে দাঁড়িয়েছে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া, ভালো জিপিএ অর্জন করা এবং একটি ভালো চাকরির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা।একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো করলেই কি সে সৃজনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক হয়ে উঠছে? সে কি যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে পারছে? সে কি নতুন সমস্যার সমাধান করতে পারছে? সে কি সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শিখছে?

 

এসব প্রশ্নের উত্তরই বলে দেয়, শিক্ষার প্রকৃত মূল্যায়ন শুধু পরীক্ষার খাতায় সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছি, যেখানে শিক্ষার্থীকে বারবার বোঝানো হয়Ñতোমাকে প্রথম হতে হবে, তোমাকে বেশি নম্বর পেতে হবে, তোমাকে অন্যদের পেছনে ফেলতে হবে। এই প্রতিযোগিতার মানসিকতা অনেক শিশুর স্বাভাবিক আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে।প্রাইভেট পড়া বা কোচিংয়ের প্রয়োজনীয়তা একেবারে অস্বীকার করা যাবে না।

 

একজন শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে দুর্বল হলে অতিরিক্ত সহায়তা তার জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষ কোনো পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বাড়তি অনুশীলন প্রয়োজন হতে পারে।কিন্তু সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন কোচিং শিক্ষার সহায়ক না হয়ে শিক্ষার বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়।আজ অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করার পর আবার কোচিংয়ে যায়। ছুটির দিনেও চলে পরীক্ষা ও প্রস্তুতি।

 

ফলে তাদের বিশ্রাম, খেলাধুলা কিংবা নিজের পছন্দের কাজের জন্য সময় থাকে না।একটি শিশুর কাছে যদি সব সময় মনে হয়Ñআমাকে পড়তেই হবে, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেই হবে, অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবেÑতাহলে তার মানসিক চাপ বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক।আরেকটি বিষয় হলো, কোচিং সংস্কৃতি শিক্ষার ক্ষেত্রে এক ধরনের বৈষম্যও তৈরি করছে। যেসব পরিবার আর্থিকভাবে সক্ষম, তারা সন্তানকে একাধিক কোচিং ও ব্যক্তিগত শিক্ষক দিতে পারে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

 

ফলে শিক্ষা সবার জন্য সমান সুযোগের ক্ষেত্র না হয়ে অনেক সময় অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। শিক্ষার চাপ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হওয়া দরকার শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। কারণ একটি শিশুর মানসিক বিকাশকে উপেক্ষা করে কোনো শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না।বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ভয়, উদ্বেগ ও হতাশায় ভোগে। বাবা-মায়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার ভয়, বন্ধুদের সঙ্গে তুলনা এবং নিজের প্রতি অতিরিক্ত চাপÑএসব তাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

 

আমরা প্রায়ই দেখি, কোনো শিক্ষার্থী ভালো ফল করলে তাকে প্রশংসা করা হয়। কিন্তু যে শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল করতে পারে না, তার দিকে অনেক সময় ব্যর্থতার চোখে তাকানো হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা জরুরি। একজন শিশু হয়তো গণিতে খুব ভালো নয়, কিন্তু সে হয়তো অসাধারণ সৃজনশীল, ভালো লেখক, দক্ষ সংগঠক কিংবা মানবিক গুণসম্পন্ন একজন মানুষ হতে পারে।

 

শিক্ষা ব্যবস্থার কাজ হলো সেই সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করা, চাপ দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলা নয়। অভিভাবকের প্রত্যাশা: ভালোবাসা যখন চাপে পরিণত হয়সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যেক অভিভাবকেরই স্বপ্ন থাকে। বাবা-মা চান, সন্তান জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক, ভালো মানুষ হোক, সম্মানের সঙ্গে বাঁচুক। এই প্রত্যাশা স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক। কিন্তু অনেক সময় সেই প্রত্যাশাই যখন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে পরিণত হয়, তখন তা সন্তানের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।বর্তমান সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা হলোÑভালো ফল মানেই ভালো ভবিষ্যৎ।

 

এই ধারণার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানের পছন্দ, আগ্রহ ও সক্ষমতার চেয়ে পরীক্ষার ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেন। সন্তান কত ঘণ্টা পড়ছে, কয়টি কোচিং করছে, কত নম্বর পাচ্ছেÑএসব হিসাবই যেন হয়ে ওঠে সফলতার মাপকাঠি।কিন্তু একটি শিশুর মন কোনো যন্ত্র নয়। তাকে নির্দিষ্ট সময় ধরে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাপ দিলেই কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবেÑএমন ধারণা ভুল। প্রত্যেক শিশুর শেখার ধরন আলাদা, আগ্রহ আলাদা, প্রতিভা আলাদা। কেউ দ্রুত শেখে, কেউ সময় নিয়ে শেখে। কেউ বইয়ের মাধ্যমে ভালো শেখে, কেউ বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে।

 

অভিভাবকদের বুঝতে হবে, সন্তানের পাশে থাকা আর সন্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এক বিষয় নয়। ভালোবাসার অর্থ শুধু ভালো ফলের প্রত্যাশা নয়; তার ভয়, দুর্বলতা, আগ্রহ ও স্বপ্নকে বোঝাও ভালোবাসার অংশ। প্রাইভেট ও কোচিংয়ের প্রসার নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বিদ্যালয়ের ভূমিকার কথাও বলতে হবে। কারণ বিদ্যালয়ই শিক্ষার প্রধান প্রতিষ্ঠান। শ্রেণিকক্ষেই একজন শিক্ষার্থীর শেখার ভিত্তি তৈরি হওয়ার কথা।কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক শিক্ষার্থী মনে করে বিদ্যালয়ের পড়া পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই তারা বাধ্য হয়ে কোচিং বা প্রাইভেটের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

 

এই প্রবণতা শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ায় না, বরং বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও প্রকাশ করে।একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় শেষ করবেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেখার আগ্রহ তৈরি করবেন। একটি কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাবেন, প্রশ্ন করার সাহস দেবেন, চিন্তা করতে শেখাবেন।কিন্তু যদি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক শুধু পাঠদান ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে শিক্ষার মানবিক দিকটি হারিয়ে যায়।শিক্ষকদের মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না।

 

একজন শিক্ষক একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারেন, আবার অসচেতন আচরণে তার আত্মবিশ্বাস নষ্টও করতে পারেন।আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আরেকটি বড় সমস্যা হলো মুখস্থনির্ভরতা। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য অনেক শিক্ষার্থী উত্তর মুখস্থ করে, কিন্তু বিষয়টি গভীরভাবে বোঝার সুযোগ পায় না।ফলে পরীক্ষার হলে ভালো ফল করলেও বাস্তব জীবনে জ্ঞান প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেকেই সমস্যায় পড়ে। প্রকৃত শিক্ষা হলোÑযেখানে একজন শিক্ষার্থী প্রশ্ন করতে শেখে, বিশ্লেষণ করতে শেখে, যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শেখে।

 

একটি বিষয় কেন ঘটছে, কীভাবে কাজ করছে, এর প্রভাব কীÑএসব বিষয়ে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। শুধু তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা ভবিষ্যতের পৃথিবীতে যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি ও পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রয়োজন সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং নতুন কিছু শেখার মানসিকতা। কিন্তু অতিরিক্ত কোচিং ও পরীক্ষামুখী প্রস্তুতি অনেক সময় শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীল ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তারা নতুন কিছু ভাবার পরিবর্তে পরীক্ষায় কীভাবে বেশি নম্বর পাওয়া যায়, সেই কৌশলেই বেশি মনোযোগী হয়।

 

একটি শিশুর শৈশব শুধু পড়াশোনার জন্য নয়। তার প্রয়োজন মাঠে খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রকৃতিকে দেখা, বই পড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশ নেওয়া এবং নিজের মতো করে বেড়ে ওঠা।কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় অনেক শিশুর জীবন যেন একটি নির্দিষ্ট রুটিনে বন্দীÑবিদ্যালয়, কোচিং, বাড়ির কাজ, পরীক্ষা এবং আবার প্রস্তুতি।এই ব্যস্ততার মধ্যে শিশুরা হয়তো অনেক তথ্য শিখছে, কিন্তু জীবন শেখার সুযোগ কতটা পাচ্ছেÑসেটিই বড় প্রশ্ন। খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সামাজিক অভিজ্ঞতা একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

এগুলো বাদ দিয়ে শুধু বইয়ের জ্ঞান দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরি করা সম্ভব নয়। প্রাইভেট ও কোচিংয়ের আরেকটি দিক হলো বাণিজ্যিকীকরণ। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু যখন শিক্ষাকে শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়, তখন এর মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা বা অভিভাবকদের উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে কোচিং ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করা হয় যে, নির্দিষ্ট কোচিং ছাড়া ভালো ফল সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতি শিক্ষাকে প্রতিযোগিতামূলক পণ্যে পরিণত করে। অথচ শিক্ষা হওয়া উচিত সুযোগের সমতা তৈরির মাধ্যম।এই সংকটের সমাধান শুধু কোচিং বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা প্রয়োজন।প্রথমত, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নত করতে হবে।

 

শ্রেণিকক্ষকে এমন করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সেখানে শেখার আগ্রহ পায়। দ্বিতীয়ত, পরীক্ষার চাপ কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে হবে। একজন শিক্ষার্থী কতটা বুঝেছে, কতটা প্রয়োগ করতে পারছেÑসেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।তৃতীয়ত, অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তার নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী উৎসাহ দিতে হবে। চতুর্থত, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকা-ের সুযোগ বাড়াতে হবে।

 

একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিক্ষার্থীদের ওপর। তাই শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়; বরং চিন্তাশীল, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করা।প্রাইভেট ও কোচিং প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু তা যেন শিক্ষার বিকল্প না হয়ে ওঠে। শিক্ষার মূল কেন্দ্র হতে হবে বিদ্যালয়, আর মূল লক্ষ্য হতে হবে জ্ঞান ও মানবিকতার বিকাশ।আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর হাতে শুধু বই নয়, একটি ভবিষ্যৎও তুলে দেওয়া হচ্ছে।

 

সেই ভবিষ্যৎকে যদি আমরা শুধু পরীক্ষার খাতা ও নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করি, তাহলে আমরা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে যাব। প্রশ্নটি তাই থেকেই যায়Ñআমরা কি সত্যিই শিক্ষিত মানুষ তৈরি করছি, নাকি শুধু পরীক্ষায় সফল হওয়ার যন্ত্র তৈরি করছি?উত্তর খুঁজতে হবে এখনই। কারণ আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের নির্মাতা। তাদের কাঁধে শুধু বইয়ের বোঝা নয়, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার আলোও তুলে দিতে হবে।

লেখক-সংবাদ কর্মী

 

 

Ads small one

সুলতানপুর চাউল ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি গঠন সভাপতি বিপুল সম্পাদক মামুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
সুলতানপুর চাউল ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি গঠন সভাপতি বিপুল সম্পাদক মামুন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের ঐতিহ্যবাহী সুলতানপুর বড়বাজার চাউল ব্যবসায়ী সমিতির দ্বিতীয় বার্ষিক সভা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যবসায়ীদের ঐক্য, সংগঠনের শৃঙ্খলা এবং ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
সমিতির সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট চাউল ব্যবসায়ী বিপুল কুমার সাহা। সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিনয় কৃষ্ণ সাহা, সহ-সভাপতি শেখ জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আজম খান (মামুন), সহ-সাধারণ সম্পাদক আলহাজ রবিউল ইসলাম।
এছাড়া কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন গৌতম দেবনাথ, সহকারী কোষাধ্যক্ষ শেখ জাহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সাহা, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাবু, আজিবর, সৌরভ ও লাল্টু।
অন্যদিকে সমিতির উপদেষ্টা পরিষদে মনোনীত হয়েছেন নুরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, মোকারাম হোসেন, মো. নুর ইসলাম ও তপন কুমার সাহা।
সভায় বক্তারা বলেন, সুলতানপুর বড়বাজার চাউল ব্যবসায়ী সমিতি শুধু ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন নয়, এটি ব্যবসায়ীদের ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অধিকার রক্ষার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। নবগঠিত কমিটি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজারের পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসায়িক সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রতি তিন মাস অন্তর নিয়মিত সভা এবং প্রতি বছর বার্ষিক সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রেখে বাজারের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির নেতৃবৃন্দ ব্যবসায়ীদের আস্থা ও সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, চাউল ব্যবসায়ী সমাজের কল্যাণ, বাজারের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং সংগঠনের মর্যাদা বৃদ্ধিতে তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন।

 

বি.ডি.এফ প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি আমিনুল, সাধারণ সম্পাদক আরশাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
বি.ডি.এফ প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি আমিনুল, সাধারণ সম্পাদক আরশাদ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন বি. ডি. এফ (ব্রহ্মরাজপুর, ধুলিহর, ফিংড়ী) প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ১০ জুলাই (শুক্রবার) বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর বাজারস্থ ক্লাব কার্যালয়ে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ করা হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে জি. এম আমিনুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আরশাদ আলী বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চূড়ান্ত ফলাফল শীট অনুযায়ী, সভাপতি পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে দৈনিক পত্রদূতের নিজস্ব প্রতিনিধি জি. এম আমিনুল হক ১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দৈনিক কালের চিত্রের প্রতিনিধি মো. আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ০৬ ভোট।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক যুগের বার্তার প্রতিনিধি মো. আরশাদ আলী পেয়েছেন ১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দৈনিক চৌকোশ-এর প্রতিনিধি আবু সাঈদ ৪ ভোট।
এর আগে আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে, সদস্য সচিব মুকুল হোসেন এবং সদস্য মেহেদী হাসান শিমুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ক্লাবের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে উপস্থিত সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সাথে তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন এস. এম. ইসমাইল হোসেন, গ্রাম্য ডাক্তার জিয়াউর রহমান জিয়া এবং আব্দুস সামাদ।
ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ফলাফল বিবরণীতে স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত “নির্ভীক কলম সৈনিকদের প্রতিষ্ঠান” হিসেবে পরিচিত এই প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব আগামী দুই বছর এই অঞ্চলের সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও পেশাগত মানোন্নয়নে কাজ করবে। নব-নির্বাচিত কমিটিকে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: জনভোগান্তির সেতু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: জনভোগান্তির সেতু

Oplus_131072

একটি সেতু নির্মিত হলে গ্রামীণ জনপদে আশার আলো সঞ্চারিত হওয়ার কথা। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা আর চিকিৎসার পথ সুগম হওয়ার কথা। কিন্তু সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী এলাকায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক নির্মম পরিহাস ও গভীর ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক মাস পার হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) তৈরি করা হয়নি। ফলে বিশাল ব্যয়ের এই সেতুটি এখন খালের মাঝে এক ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপ’ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা কোনো কাজেই আসছে না।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, টেংরাখালী, পার্শ্বেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চী ও ঠাকুরঘেরী—এই পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। যেখানে একটি আধুনিক সেতু মানুষের যাতায়াত সহজ করার কথা ছিল, সেখানে উল্টো দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

এই প্রকল্পের পেছনে যে অনিয়ম ও চরম উদাসীনতা রয়েছে, তা স্থানীয়দের অভিযোগে স্পষ্ট। অভিযোগ উঠেছে, সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আরিফ এন্টারপ্রাইজ’। অপরিকল্পিতভাবে এই মাটি কাটার ফলে সড়কের দুই পাশে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে আশপাশের বসতবাড়িও এখন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দার বসতঘর খালের মধ্যে ভেঙে পড়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার এই অধিকার ঠিকাদারকে কে দিলÑতা এক মস্ত বড় প্রশ্ন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বর্ষা ও বৃষ্টির অজুহাত দিয়ে কাজ ব্যাহত হওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, প্রকল্প যখন শুরু হয়, তখন কি আবহাওয়া ও ঋতুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয় না? তাছাড়া সংযোগ সড়কের মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে বৃষ্টির অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি স্পষ্টতই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে আড়াল করার চেষ্টা।

আমাদের মনে করি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এমন দায়সারা গোছের মানসিকতা এবং অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের টাকা জনগণের করের টাকা, এবং তা জনগণের কল্যাণের জন্যই ব্যয় হওয়া উচিত। ৩৩ লাখ টাকার প্রকল্প এভাবে ফেলে রেখে পাঁচ গ্রামের মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার পেছনে যারা দায়ী, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।

আমরা আশা করি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। সংযোগ সড়কের মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে, কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করা হোক এবং অবর্ণনীয় এই জনভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক।