প্রাইভেট ও কোচিংয়ের চাপে শিক্ষার্থী: আমরা কী শিক্ষা দিচ্ছি?
সচ্চিদানন্দ দে সদয়
শিক্ষা মানুষের চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়। শিক্ষা মানুষকে শুধু জীবিকা অর্জনের পথ দেখায় না, তাকে বিবেকবান, যুক্তিবাদী ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকালে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে আসেÑআমরা কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করে তুলছি, নাকি কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য প্রস্তুত করছি?প্রশ্নটি নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর গুরুত্ব বেড়েছে।
কারণ বিদ্যালয়ের পাঠের পাশাপাশি প্রাইভেট পড়া ও কোচিং এখন অনেক শিক্ষার্থীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবারের কাছে এটি যেন বাধ্যতামূলক। সন্তানকে ভালো ফল করতে হলে কোচিংয়ে পাঠাতেই হবেÑএমন একটি সামাজিক ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে একটি শিশুর দিন শুরু হচ্ছে পড়াশোনার চাপ দিয়ে, শেষও হচ্ছে পড়ার টেবিলে। একটি শিশুর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় হলো শৈশব ও কৈশোর।
এই সময় তার মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল, সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও সামাজিক মূল্যবোধ। কিন্তু যখন তার জীবনের বড় অংশ চলে যায় পরীক্ষা, কোচিং, নোট ও নম্বরের পেছনে, তখন তার স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।শিক্ষা যদি আনন্দের বদলে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেই শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন আছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি সংকট হলোÑশিক্ষার উদ্দেশ্য ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।
একসময় শিক্ষা মানে ছিল জ্ঞান অর্জন, নতুন কিছু জানার আগ্রহ এবং সমাজকে বোঝার ক্ষমতা তৈরি করা। এখন অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষা মানে হয়ে দাঁড়িয়েছে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া, ভালো জিপিএ অর্জন করা এবং একটি ভালো চাকরির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা।একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো করলেই কি সে সৃজনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক হয়ে উঠছে? সে কি যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে পারছে? সে কি নতুন সমস্যার সমাধান করতে পারছে? সে কি সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শিখছে?
এসব প্রশ্নের উত্তরই বলে দেয়, শিক্ষার প্রকৃত মূল্যায়ন শুধু পরীক্ষার খাতায় সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছি, যেখানে শিক্ষার্থীকে বারবার বোঝানো হয়Ñতোমাকে প্রথম হতে হবে, তোমাকে বেশি নম্বর পেতে হবে, তোমাকে অন্যদের পেছনে ফেলতে হবে। এই প্রতিযোগিতার মানসিকতা অনেক শিশুর স্বাভাবিক আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে।প্রাইভেট পড়া বা কোচিংয়ের প্রয়োজনীয়তা একেবারে অস্বীকার করা যাবে না।
একজন শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে দুর্বল হলে অতিরিক্ত সহায়তা তার জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষ কোনো পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বাড়তি অনুশীলন প্রয়োজন হতে পারে।কিন্তু সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন কোচিং শিক্ষার সহায়ক না হয়ে শিক্ষার বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়।আজ অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করার পর আবার কোচিংয়ে যায়। ছুটির দিনেও চলে পরীক্ষা ও প্রস্তুতি।
ফলে তাদের বিশ্রাম, খেলাধুলা কিংবা নিজের পছন্দের কাজের জন্য সময় থাকে না।একটি শিশুর কাছে যদি সব সময় মনে হয়Ñআমাকে পড়তেই হবে, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেই হবে, অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবেÑতাহলে তার মানসিক চাপ বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক।আরেকটি বিষয় হলো, কোচিং সংস্কৃতি শিক্ষার ক্ষেত্রে এক ধরনের বৈষম্যও তৈরি করছে। যেসব পরিবার আর্থিকভাবে সক্ষম, তারা সন্তানকে একাধিক কোচিং ও ব্যক্তিগত শিক্ষক দিতে পারে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
ফলে শিক্ষা সবার জন্য সমান সুযোগের ক্ষেত্র না হয়ে অনেক সময় অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। শিক্ষার চাপ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হওয়া দরকার শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। কারণ একটি শিশুর মানসিক বিকাশকে উপেক্ষা করে কোনো শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না।বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ভয়, উদ্বেগ ও হতাশায় ভোগে। বাবা-মায়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার ভয়, বন্ধুদের সঙ্গে তুলনা এবং নিজের প্রতি অতিরিক্ত চাপÑএসব তাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আমরা প্রায়ই দেখি, কোনো শিক্ষার্থী ভালো ফল করলে তাকে প্রশংসা করা হয়। কিন্তু যে শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল করতে পারে না, তার দিকে অনেক সময় ব্যর্থতার চোখে তাকানো হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা জরুরি। একজন শিশু হয়তো গণিতে খুব ভালো নয়, কিন্তু সে হয়তো অসাধারণ সৃজনশীল, ভালো লেখক, দক্ষ সংগঠক কিংবা মানবিক গুণসম্পন্ন একজন মানুষ হতে পারে।
শিক্ষা ব্যবস্থার কাজ হলো সেই সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করা, চাপ দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলা নয়। অভিভাবকের প্রত্যাশা: ভালোবাসা যখন চাপে পরিণত হয়সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যেক অভিভাবকেরই স্বপ্ন থাকে। বাবা-মা চান, সন্তান জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক, ভালো মানুষ হোক, সম্মানের সঙ্গে বাঁচুক। এই প্রত্যাশা স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক। কিন্তু অনেক সময় সেই প্রত্যাশাই যখন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে পরিণত হয়, তখন তা সন্তানের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।বর্তমান সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা হলোÑভালো ফল মানেই ভালো ভবিষ্যৎ।
এই ধারণার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানের পছন্দ, আগ্রহ ও সক্ষমতার চেয়ে পরীক্ষার ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেন। সন্তান কত ঘণ্টা পড়ছে, কয়টি কোচিং করছে, কত নম্বর পাচ্ছেÑএসব হিসাবই যেন হয়ে ওঠে সফলতার মাপকাঠি।কিন্তু একটি শিশুর মন কোনো যন্ত্র নয়। তাকে নির্দিষ্ট সময় ধরে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাপ দিলেই কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবেÑএমন ধারণা ভুল। প্রত্যেক শিশুর শেখার ধরন আলাদা, আগ্রহ আলাদা, প্রতিভা আলাদা। কেউ দ্রুত শেখে, কেউ সময় নিয়ে শেখে। কেউ বইয়ের মাধ্যমে ভালো শেখে, কেউ বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে।
অভিভাবকদের বুঝতে হবে, সন্তানের পাশে থাকা আর সন্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এক বিষয় নয়। ভালোবাসার অর্থ শুধু ভালো ফলের প্রত্যাশা নয়; তার ভয়, দুর্বলতা, আগ্রহ ও স্বপ্নকে বোঝাও ভালোবাসার অংশ। প্রাইভেট ও কোচিংয়ের প্রসার নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বিদ্যালয়ের ভূমিকার কথাও বলতে হবে। কারণ বিদ্যালয়ই শিক্ষার প্রধান প্রতিষ্ঠান। শ্রেণিকক্ষেই একজন শিক্ষার্থীর শেখার ভিত্তি তৈরি হওয়ার কথা।কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক শিক্ষার্থী মনে করে বিদ্যালয়ের পড়া পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই তারা বাধ্য হয়ে কোচিং বা প্রাইভেটের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
এই প্রবণতা শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ায় না, বরং বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও প্রকাশ করে।একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় শেষ করবেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেখার আগ্রহ তৈরি করবেন। একটি কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাবেন, প্রশ্ন করার সাহস দেবেন, চিন্তা করতে শেখাবেন।কিন্তু যদি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক শুধু পাঠদান ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে শিক্ষার মানবিক দিকটি হারিয়ে যায়।শিক্ষকদের মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না।
একজন শিক্ষক একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারেন, আবার অসচেতন আচরণে তার আত্মবিশ্বাস নষ্টও করতে পারেন।আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আরেকটি বড় সমস্যা হলো মুখস্থনির্ভরতা। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য অনেক শিক্ষার্থী উত্তর মুখস্থ করে, কিন্তু বিষয়টি গভীরভাবে বোঝার সুযোগ পায় না।ফলে পরীক্ষার হলে ভালো ফল করলেও বাস্তব জীবনে জ্ঞান প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেকেই সমস্যায় পড়ে। প্রকৃত শিক্ষা হলোÑযেখানে একজন শিক্ষার্থী প্রশ্ন করতে শেখে, বিশ্লেষণ করতে শেখে, যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শেখে।
একটি বিষয় কেন ঘটছে, কীভাবে কাজ করছে, এর প্রভাব কীÑএসব বিষয়ে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। শুধু তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা ভবিষ্যতের পৃথিবীতে যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি ও পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রয়োজন সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং নতুন কিছু শেখার মানসিকতা। কিন্তু অতিরিক্ত কোচিং ও পরীক্ষামুখী প্রস্তুতি অনেক সময় শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীল ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তারা নতুন কিছু ভাবার পরিবর্তে পরীক্ষায় কীভাবে বেশি নম্বর পাওয়া যায়, সেই কৌশলেই বেশি মনোযোগী হয়।
একটি শিশুর শৈশব শুধু পড়াশোনার জন্য নয়। তার প্রয়োজন মাঠে খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রকৃতিকে দেখা, বই পড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশ নেওয়া এবং নিজের মতো করে বেড়ে ওঠা।কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় অনেক শিশুর জীবন যেন একটি নির্দিষ্ট রুটিনে বন্দীÑবিদ্যালয়, কোচিং, বাড়ির কাজ, পরীক্ষা এবং আবার প্রস্তুতি।এই ব্যস্ততার মধ্যে শিশুরা হয়তো অনেক তথ্য শিখছে, কিন্তু জীবন শেখার সুযোগ কতটা পাচ্ছেÑসেটিই বড় প্রশ্ন। খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সামাজিক অভিজ্ঞতা একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এগুলো বাদ দিয়ে শুধু বইয়ের জ্ঞান দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরি করা সম্ভব নয়। প্রাইভেট ও কোচিংয়ের আরেকটি দিক হলো বাণিজ্যিকীকরণ। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু যখন শিক্ষাকে শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়, তখন এর মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা বা অভিভাবকদের উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে কোচিং ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করা হয় যে, নির্দিষ্ট কোচিং ছাড়া ভালো ফল সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতি শিক্ষাকে প্রতিযোগিতামূলক পণ্যে পরিণত করে। অথচ শিক্ষা হওয়া উচিত সুযোগের সমতা তৈরির মাধ্যম।এই সংকটের সমাধান শুধু কোচিং বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা প্রয়োজন।প্রথমত, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নত করতে হবে।
শ্রেণিকক্ষকে এমন করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সেখানে শেখার আগ্রহ পায়। দ্বিতীয়ত, পরীক্ষার চাপ কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে হবে। একজন শিক্ষার্থী কতটা বুঝেছে, কতটা প্রয়োগ করতে পারছেÑসেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।তৃতীয়ত, অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তার নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী উৎসাহ দিতে হবে। চতুর্থত, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকা-ের সুযোগ বাড়াতে হবে।
একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিক্ষার্থীদের ওপর। তাই শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়; বরং চিন্তাশীল, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করা।প্রাইভেট ও কোচিং প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু তা যেন শিক্ষার বিকল্প না হয়ে ওঠে। শিক্ষার মূল কেন্দ্র হতে হবে বিদ্যালয়, আর মূল লক্ষ্য হতে হবে জ্ঞান ও মানবিকতার বিকাশ।আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর হাতে শুধু বই নয়, একটি ভবিষ্যৎও তুলে দেওয়া হচ্ছে।
সেই ভবিষ্যৎকে যদি আমরা শুধু পরীক্ষার খাতা ও নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করি, তাহলে আমরা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে যাব। প্রশ্নটি তাই থেকেই যায়Ñআমরা কি সত্যিই শিক্ষিত মানুষ তৈরি করছি, নাকি শুধু পরীক্ষায় সফল হওয়ার যন্ত্র তৈরি করছি?উত্তর খুঁজতে হবে এখনই। কারণ আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের নির্মাতা। তাদের কাঁধে শুধু বইয়ের বোঝা নয়, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার আলোও তুলে দিতে হবে।
লেখক-সংবাদ কর্মী






