শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

মুক্তমত: জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হচ্ছে সাতক্ষীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
মুক্তমত: জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হচ্ছে সাতক্ষীরা

গাজী হাবিব

শেষ আষাঢ়ে বৃষ্টিপাত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুরু। কখনও মুষলধারে, কখনও টিপটিপ, আবার কখনও ইলিশেগুঁড়ি বৃষ্টিতে টানা প্রায় দেড় দিনের বেশি সময় ভিজেছে সাতক্ষীরা। প্রকৃতির এই বর্ষণ নতুন কিছু নয়। বর্ষাকালে বৃষ্টি হবেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো- প্রতিবার বৃষ্টির পর কেন সাতক্ষীরা শহর যেন ছোট ছোট জলাশয়ে পরিণত হয়? কেন সরকারি অফিস, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক এমনকি মানুষের বসতবাড়িও পানির নিচে চলে যায়?

শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় ২২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। এটি নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি। কিন্তু শুধুমাত্র বৃষ্টিপাতকে দায়ী করলে বাস্তবতার বড় অংশ আড়াল করা হবে। কারণ প্রকৃত সমস্যা হচ্ছে- পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মাঠ, সদর হাসপাতাল চত্বর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা পানিতে ডুবে গেছে। সরকারি কলেজ-মাছখোলা সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। বহু বাড়ির উঠান, টয়লেট ও নলকূপ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও রান্নাঘর পর্যন্ত পানিতে ডুবে যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নি¤œ আয়ের মানুষ। বৃষ্টির কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ফলে শ্রমজীবী মানুষের আয় প্রায় বন্ধ। অনেকেই বলছেন, “আজ কাজ নেই, আয় নেই; সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”

অন্যদিকে কৃষকদের অবস্থাও সুখকর নয়। নি¤œাঞ্চলের ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক ক্ষেতেই সবজি ও আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।

শুধু ব্যক্তিগত ভোগান্তিই নয়, জনস্বাস্থ্যও এখন বড় ঝুঁকির মুখে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল চত্বরে পানি জমে থাকায় রোগীদের যাতায়াত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। নোংরা পানি জমে থাকায় ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে রসুলপুর, কাটিয়া, সুলতানপুর, ইটাগাছা, গদাইবিল, রাজারবাগান, ডাইয়ের বিল, কামালনগর, মাছখোলা এবং শহরের আরও কয়েকটি নি¤œাঞ্চল। এসব এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। স্থানীয়দের ভাষায়, বর্ষা এলেই মনে হয় আমরা শহরে নয়, জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করছি।
প্রশ্ন উঠছে- প্রতিবছর একই চিত্র কেন?

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পৌর এলাকার ভেতরে ও আশপাশে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত মাছের ঘের, সংকুচিত ও দখল হয়ে যাওয়া খাল, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করার কারণেই পানি নামতে পারছে না। বছরের পর বছর ধরে খাল-নালা ভরাট হয়েছে, কোথাও অবৈধ স্থাপনা হয়েছে, কোথাও ময়লা-আবর্জনায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই পুরো শহর অচল হয়ে পড়ে।

বাস্তবতা হলো, সাতক্ষীরা একটি নি¤œভূমির জেলা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখানকার বৃষ্টিপাতের ধরনও বদলাচ্ছে। স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। তাই পুরোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। অথচ শহর সম্প্রসারণ হয়েছে, নতুন নতুন ভবন তৈরি হয়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে ড্রেন, খাল কিংবা পানি নিষ্কাশনের অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

দুঃখজনক হলেও সত্য, জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্প নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফল খুব একটা চোখে পড়ে না। বরং পৌরবাসীদের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজের মান, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণে নানা ধরনের অনিয়ম রয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও যদি প্রতিবছর একই দুর্ভোগে মানুষকে পড়তে হয়, তাহলে প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্নব দত্ত জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের কাজ চলছে। পাশাপাশি শহরের স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হবে এবং বিভিন্ন ড্রেন সচল করে প্রাণসায়ের খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম শেষ হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

এই উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। তবে প্রশ্ন হলো- এগুলো কি কেবল সাময়িক সমাধান, নাকি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ? কারণ নাগরিকরা প্রতি বর্ষায় একই আশ্বাস শুনতে শুনতে ক্লান্ত।

জলাবদ্ধতা এখন সাতক্ষীরায় পৌর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার একটি পরীক্ষাও বটে। প্রয়োজন একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান। শহরের সব খাল উদ্ধার, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ নগরায়ণকে পরিকল্পনার আওতায় আনা ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

প্রকৃতিকে দোষ দিয়ে দায় এড়ানো সহজ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রকৃতি তার নিয়মেই চলছে; আমাদের নগর ব্যবস্থাপনাই সেই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সাতক্ষীরার মানুষ আর আশ্বাস নয়, টেকসই সমাধান চায়। তারা এমন একটি পরিচ্ছন্ন শহর চায়, যেখানে বর্ষা আনন্দের বার্তা বয়ে আনবে- দুর্ভোগের নয়। লেখক: সাংবাদিক, সমাজকর্মী

 

Ads small one

সুলতানপুর চাউল ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি গঠন সভাপতি বিপুল সম্পাদক মামুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
সুলতানপুর চাউল ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি গঠন সভাপতি বিপুল সম্পাদক মামুন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের ঐতিহ্যবাহী সুলতানপুর বড়বাজার চাউল ব্যবসায়ী সমিতির দ্বিতীয় বার্ষিক সভা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যবসায়ীদের ঐক্য, সংগঠনের শৃঙ্খলা এবং ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
সমিতির সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট চাউল ব্যবসায়ী বিপুল কুমার সাহা। সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিনয় কৃষ্ণ সাহা, সহ-সভাপতি শেখ জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আজম খান (মামুন), সহ-সাধারণ সম্পাদক আলহাজ রবিউল ইসলাম।
এছাড়া কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন গৌতম দেবনাথ, সহকারী কোষাধ্যক্ষ শেখ জাহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সাহা, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাবু, আজিবর, সৌরভ ও লাল্টু।
অন্যদিকে সমিতির উপদেষ্টা পরিষদে মনোনীত হয়েছেন নুরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, মোকারাম হোসেন, মো. নুর ইসলাম ও তপন কুমার সাহা।
সভায় বক্তারা বলেন, সুলতানপুর বড়বাজার চাউল ব্যবসায়ী সমিতি শুধু ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন নয়, এটি ব্যবসায়ীদের ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অধিকার রক্ষার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। নবগঠিত কমিটি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজারের পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসায়িক সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রতি তিন মাস অন্তর নিয়মিত সভা এবং প্রতি বছর বার্ষিক সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রেখে বাজারের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির নেতৃবৃন্দ ব্যবসায়ীদের আস্থা ও সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, চাউল ব্যবসায়ী সমাজের কল্যাণ, বাজারের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং সংগঠনের মর্যাদা বৃদ্ধিতে তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন।

 

বি.ডি.এফ প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি আমিনুল, সাধারণ সম্পাদক আরশাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
বি.ডি.এফ প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি আমিনুল, সাধারণ সম্পাদক আরশাদ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন বি. ডি. এফ (ব্রহ্মরাজপুর, ধুলিহর, ফিংড়ী) প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ১০ জুলাই (শুক্রবার) বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর বাজারস্থ ক্লাব কার্যালয়ে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ করা হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে জি. এম আমিনুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আরশাদ আলী বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চূড়ান্ত ফলাফল শীট অনুযায়ী, সভাপতি পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে দৈনিক পত্রদূতের নিজস্ব প্রতিনিধি জি. এম আমিনুল হক ১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দৈনিক কালের চিত্রের প্রতিনিধি মো. আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ০৬ ভোট।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক যুগের বার্তার প্রতিনিধি মো. আরশাদ আলী পেয়েছেন ১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দৈনিক চৌকোশ-এর প্রতিনিধি আবু সাঈদ ৪ ভোট।
এর আগে আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে, সদস্য সচিব মুকুল হোসেন এবং সদস্য মেহেদী হাসান শিমুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ক্লাবের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে উপস্থিত সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সাথে তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন এস. এম. ইসমাইল হোসেন, গ্রাম্য ডাক্তার জিয়াউর রহমান জিয়া এবং আব্দুস সামাদ।
ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ফলাফল বিবরণীতে স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত “নির্ভীক কলম সৈনিকদের প্রতিষ্ঠান” হিসেবে পরিচিত এই প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব আগামী দুই বছর এই অঞ্চলের সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও পেশাগত মানোন্নয়নে কাজ করবে। নব-নির্বাচিত কমিটিকে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: জনভোগান্তির সেতু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: জনভোগান্তির সেতু

Oplus_131072

একটি সেতু নির্মিত হলে গ্রামীণ জনপদে আশার আলো সঞ্চারিত হওয়ার কথা। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা আর চিকিৎসার পথ সুগম হওয়ার কথা। কিন্তু সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী এলাকায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক নির্মম পরিহাস ও গভীর ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক মাস পার হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) তৈরি করা হয়নি। ফলে বিশাল ব্যয়ের এই সেতুটি এখন খালের মাঝে এক ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপ’ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা কোনো কাজেই আসছে না।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, টেংরাখালী, পার্শ্বেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চী ও ঠাকুরঘেরী—এই পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। যেখানে একটি আধুনিক সেতু মানুষের যাতায়াত সহজ করার কথা ছিল, সেখানে উল্টো দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

এই প্রকল্পের পেছনে যে অনিয়ম ও চরম উদাসীনতা রয়েছে, তা স্থানীয়দের অভিযোগে স্পষ্ট। অভিযোগ উঠেছে, সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আরিফ এন্টারপ্রাইজ’। অপরিকল্পিতভাবে এই মাটি কাটার ফলে সড়কের দুই পাশে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে আশপাশের বসতবাড়িও এখন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দার বসতঘর খালের মধ্যে ভেঙে পড়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার এই অধিকার ঠিকাদারকে কে দিলÑতা এক মস্ত বড় প্রশ্ন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বর্ষা ও বৃষ্টির অজুহাত দিয়ে কাজ ব্যাহত হওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, প্রকল্প যখন শুরু হয়, তখন কি আবহাওয়া ও ঋতুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয় না? তাছাড়া সংযোগ সড়কের মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে বৃষ্টির অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি স্পষ্টতই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে আড়াল করার চেষ্টা।

আমাদের মনে করি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এমন দায়সারা গোছের মানসিকতা এবং অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের টাকা জনগণের করের টাকা, এবং তা জনগণের কল্যাণের জন্যই ব্যয় হওয়া উচিত। ৩৩ লাখ টাকার প্রকল্প এভাবে ফেলে রেখে পাঁচ গ্রামের মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার পেছনে যারা দায়ী, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।

আমরা আশা করি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। সংযোগ সড়কের মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে, কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করা হোক এবং অবর্ণনীয় এই জনভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক।