রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রাকৃতিক রসগোল্লা লিচু/ মোঃ কায়ছার আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
প্রাকৃতিক রসগোল্লা লিচু/ মোঃ কায়ছার আলী

মোঃ কায়ছার আলী

“ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ।” পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের এ কাব্যকথাগুলো মনে পড়লেই মনটা ছুটে যায় সেই ছোট্ট বেলায়। পাকা ফুলের মধুর রস সত্যিই সুন্দর, সুস্বাদু যা মন ও হৃদয়কে জুড়িয়ে দেয়। পল্লীকবির প্রতি শত শ্রদ্ধা রেখেই লিখছি যদি তিনি আমাদের এই দিনাজপুরের সদর উপজেলার মাশিমপুর গ্রামে অথবা বিরল উপজেলায় মাধববাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করতেন তবে অবশ্যই লিচুকে নিয়ে হয় তোবা একখানা অমর কবিতা লিখতেন এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

 

সুস্বাদু ও মজাদার এ লিচু দিনাজপুরের বিরল, সদরসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি উপজেলায় আবাদ হচ্ছে। হামরা দিনাজপুরিয়ারা এই লিচুকে ভালবেসে বলি ‘প্রাকৃতিক রসগোল্লা’। স্বাদ আর বর্ণের জন্য দিনাজপুরের লিচুর ব্যাপক চাহিদা। এমনকি নিকট প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেও ক্রেতারা আসেন দিনাজপুরের লিচুর বাজারে। বাংলাদেশের লিচু বলতে দিনাজপুরের লিচু অতুলনীয়। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস গরমকাল। ঋতুচক্রে গরমকাল হলেও ফলের বিবেচনায় এই মাসকে বলা হয় ‘মধু ঋতু’।

 

জ্যৈষ্ঠ মাস হল মধু মাস। মধু মাসে কত ফলই না হলে গাঁয়ের এ বাগানে-ও বাগানে, এ বাড়িতে-ও বাড়িতে। গ্রীষ্মের গরম উপেক্ষা করে লিচু হাতে পেলে মানুষ ভুলে যায় অসহ্য গরমের যন্ত্রণা। লিচু পুষ্টি এবং স্বাদে এত মজা যার তুলনা অন্য কোন ফলের সাথে করা যায়না কেননা বিভিন্ন ফলের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ এবং এর ভেষজ মূল্য এক এক রকম। এক এক জেলা এক এক ফলের জন্য বিখ্যাত। যা মাটির উপর নির্ভর করে। মাটি হল পৃথিবীর উপরিভাগের একটি আস্তরণ যা প্রাণি ও উদ্ভিদের পুষ্টি জোগায় ও বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

 

এই মাটির উৎপত্তি হয়েছে টারশিয়ারী যুগের শিলা, প্লাইস্টোসিন যুগের সোপান এবং সাম্প্রতিক কালের পলল থেকে। জেলা শহরের চারদিকে বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে গ্রামগুলোতে ছড়িতে আছে বিভিন্ন শস্যের চাষাবাদের সুসমতল কৃষি শ্যামল উর্বর বিস্তৃত কৃষিক্ষেত্র। জনপদ মাত্রই কিছু কিছু অর্থনৈতিক সম্পদ ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রভূমি। সুন্দর প্রাকৃতিক শোভায় এই জেলা অতি মনোমুগ্ধকর। কিন্তু সে সৌন্দর্য বৈচিত্র্যহীন ও অবিচ্ছিন্ন। কারণ এ জেলায় কোন পাহাড়-পর্বত, মরু প্রাপ্তর, হৃদ বা বৃহৎ জলাভূমি নেই।

 

তবে এ জেলায় রয়েছে মাটির সমতল বুক চিড়ে প্রবাহিত অনেক চঞ্চল গতি ক্ষীণকায় নদী বস্তুত নির্জন নিবিড় বনময় মুগ্ধ প্রকৃতির কোলে অবস্থিত হয়েও এবং দূর পল্লীর বিচ্ছিন্ন পরিবেশেও মাধববাটি বা মাশিমপুর বরাবর একটি স্বনামধন্য গ্রাম। স্বর্গীয় সম্পদেও বৈশিষ্ট্যে ভরপুর এ গ্রামের মানুষেরা হাজার হাজার একর জমি লিচু আবাদ করে সারাদেশ বাসীকে এক মায়ার জালে বেঁধে ফেলেছে। এ গ্রামের লিচু চাষীরা তাদের যোগ্যতা ও মেধার বিকাশ ঘটিয়েছে। জাতীয় ফল কাঁঠাল, ফলের রাজা আম অবশ্যই পুষ্টিকর ও উপাদেয় ফল। লিচু সম্পর্কে লিখতে গেলে মনের অজান্তে কেন জানি লিখতে ইচ্ছে করে লিচু হল ফলের রাণী।

 

জানিনা তা বলা ঠিক হবে কি না? তবে এটা আমার ব্যক্তিগত মত । মতান্তর থাকতে পারে। লিচু হল বিশ্বের সবচেয়ে রোমান্টিক এবং উপকারী ফল। প্রায় দুই হাজার বছর থেকে এ ফলটি এ মর্যাদা পেয়ে আসছে। বিশ্বে প্রথম ফল চাষের বই লেখা হয়েছিল ১০৫৬ সালে, সেটিও ছিল লিচুকে নিয়ে। বিশ্বে অনেক রাজা বাদশাহ রাণী-বেগমদের মন জয় করতে যুগে যুগে লিচু ফল উপহার দিয়েছেন। অষ্টম শতকে চীনা সম্্রাট হুয়ান সাংও একই কাজ করে বেগমের মন জয় করেছিলেন। দক্ষিন চীন থেকে লিচু বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সূদুর উত্তর চীনে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে লিচুর চাষাবাদ শুরু হয়। লিচুর আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

 

তা ব্রেস্ট ক্যানসার নিরাময়ে সহায়তা করে থাকে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্ট ভালো রাখে। এতে পাওয়া যায় অলিগনাল নামক বিশেষ উপাদান। তা নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপাদন করে। এ অ্যাসিড Vasodialator –এর কাজ করে। মানে, ব্লাড ভেসেল এক্সপান্ড করে দেয়। ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কমে হৃদয়ের ওপর চাপ এবং হৃদয় ভালো থাকে। লিচু শরীরের রক্তচাপও ঠিক রাখে। হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে লিচু দারুন দারুণ কাজ করে। চোখে সহজেই ছানি পড়তে দেয় না লিচুতে থাকা ফাইটো কেমিক্যাল থেকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এতে থাকা অ্যান্টি নিওপ্লাসমিক প্রপার্টি তৈরি হয় বলে কোস বিভাজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে চোখে ছানি পড়ে না।

 

ইনফ্লুয়েনঞ্জা হওয়ার প্রধান কারণ হলো বিভিন্ন ভাইরাস। দেখা গেছে, ইনফু¬য়েঞ্জা হলে লিচু খেলে তা দ্রুত সেরে যায়। শুধু তা-ই নয়, লিচু থেকে এ অসুখের ওষুধ তৈরি করা যায় কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে আছে ৬৬ ক্যালরি। এ ছাড়া আছে ফাইবার। তা চর্বি গলাতে সাহায্য করে। তাই যারা ওজন কমাতে চান, তারা ডায়েটে অবশ্যই লিচু রাখুন। লিচুতে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘সি’। ফলে আমাদের শরীরে ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। কারোর স্কার্ভি হলে লিচু খেলে তা সেরে যায়।

 

স্কার্ভি ভিটামিন ‘সি’ ডেফিসিয়েন্সি থেকে হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীরা নানা জাতের লিচু উদ্ভাবন করেছেন। বর্তমানে ইশ্বরদীতে আম-লিচুতে কীটনাশকের পরিবর্তে চার্জওয়াটার নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিষমুক্ত ফল উৎপাদনে চাষীরা সাফল্য ভাল করেছে। জার্মানী থেকে আমদানী করা এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে এ বছরই প্রথম পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করা হয়। আর তাতে সফলতা আসায় নতুন এ প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের মাঝে। কৃষিবিদরা বলেছেন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমবে তেমনি কীটনাশকমুক্ত সবজিও ফল উৎপাদনে এ প্রযুক্তি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষক ও কর্মকতারা।

 

প্রচন্ড দাবদাহে লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে ঝড়ে পড়া আবার পোকার আক্রমণ তো আছেই। এ সবের হাত থেকে রেহাই পেতে লিচু চাষীরা ব্যবহার করেন বিভিন্ন রকমের কীটনাশক। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কীটনাশকের চেয়ে প্রায় নব্বই ভাগ খরচ কম বিষমুক্ত এই প্রযুক্তিতে শুধুমাত্র পানিকে নিক্কন ওয়াটার মেশিনের মাধ্যমে চার্জ করে সেই পানি ব্যবহার করা হয় লিচু ও আমগাছে। এই স্প্রে করার ফলে ইশ্বরদীতে গতবার লিচু ঝরে পড়েনি, পোকা লাগেনি, পচেনি বা ফাটেনি।

 

এই আশাতীত সাফল্যে ঢাকার বে কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের জি.এম (টেকনিক্যাল) জার্মান ও সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন বাগান দেখে এসে এবং অনুপ্রাণিত হয়ে এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। জার্মান বিজ্ঞানী ড. কার্লোস আবিষ্কৃত খাবার সমতুল্য পানি নিক্কন ওয়াটার মেশিনের চার্জ পদ্ধতি আজ লিচু চাষীদের জন্য এক মাইলফলক। এই পদ্ধতিতে স্প্রে কারীর শ্বাস-প্রশ্বাসের বা স্বাস্থ্যের ক্ষতি, গাছের ফলন রক্ষা, মাটির উপরিভাগের উপকারী কীটপতঙ্গ রক্ষা, জলবায়ু ও পরিবেশসহ সবকিছু স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।

 

শুধুমাত্র ইশ্বরদীতে নয় সারাদেশে এই আধুনিক পদ্ধতিতে ছড়িতে দিতে হবে। লাভজনক বা অর্থকারী ফল প্রাকৃতিক রসগোল্লা লিচু আমাদের দিনাজপুরের গর্ব ও অহঙ্কার। তাই এর যথাযথ আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতির ব্যবহার আরো বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে লিচু চাষীদের উন্নত মানের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ কোর্স সরকারিভাবে দেওয়া যেতে পারে। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় লিচু সংরক্ষণের জন্য আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দিনাজপুরের লিচু এদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

লেখকঃ শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট
০১৭১৭-৯৭৭৬৩৪, kaisardinajpur@yahoo.com

Ads small one

এবার মোদি সরকারের পতনের ডাক দিলেন রাহুল গান্ধী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
এবার মোদি সরকারের পতনের ডাক দিলেন রাহুল গান্ধী

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবার নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, ‘এবার এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে।’ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

রাহুল গান্ধী আরও লিখেছেন, ‘এখনও দুটি দাবি রয়েছে, যা পূরণ হয়নি। আর তা হলো- শিক্ষার্থী এবং ভারতের ভবিষ্যৎকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সমাজের অন্যান্য অংশ, যাদের এই সরকার দমন ও নিষ্পেষণ করেছে (কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র) তাদের এখন সংবিধানসম্মত উপায়ে সাহস নিয়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সময়। এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। ভয় পাবেন না!’

এর আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সব দাবি মেনে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এরপরই আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে ছাত্ররা।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান-বিক্ষোভ প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করার পর সিজেপি জানিয়েছে, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারপরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।

শনিবারও কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠক শেষে নড্ডাদের সঙ্গে একসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করে অবস্থান প্রত্যাহারের কথা জানান তাঁরা।

১২ বছরে তৃতীয়বার পিছু হটলো মোদি সরকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
১২ বছরে তৃতীয়বার পিছু হটলো মোদি সরকার

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ শুধু একজন মন্ত্রীর বিদায় নয়, বরং গত ১২ বছরে গণআন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদি সরকারের তৃতীয় বড় ধরনের পিছু হটার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এনআরসি ইস্যু এবং কৃষি আইনবিরোধী আন্দোলনের চাপেও সরকার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি ঘটনার মধ্যেই একটি অভিন্ন ধারা দেখা যায়। সরকার শুরুতে আন্দোলনের নৈতিক শক্তিকে গুরুত্ব না দিয়ে যতটা সম্ভব অনড় অবস্থানে থাকে। তবে রাজনৈতিক মূল্য বাড়তে শুরু করলে শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলায়।

সিএএ-এনআরসি আন্দোলন

প্রথম বড় ঘটনা ছিল সিএএবিরোধী আন্দোলনের সময়। সে সময় জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থেকে সরকার প্রকাশ্যে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। যদিও দেশজুড়ে এনআরসি চালুর কোনও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, রাজনৈতিকভাবে সরকারের অবস্থান পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যে বলেন, এনআরসি নিয়ে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। অথচ এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশব্যাপী এনআরসি বাস্তবায়নের কথা একাধিকবার বলেছিলেন এবং সরকারের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি কার্যত স্থগিত হয়ে যায়। সরকারের উপলব্ধি হয়, প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত বিষয়টি রাজনৈতিক দায়ে পরিণত হয়েছে।

কৃষক আন্দোলন

দ্বিতীয়বার সরকারকে পিছু হটতে হয় কৃষক আন্দোলনের মুখে। প্রায় এক বছর আন্দোলন চলার পর সরকার তিনটি কৃষি আইন বাতিল করে।

শুরুতে সরকার আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে মনে করেছিল। আন্দোলনকে ভৌগোলিকভাবে সীমিত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলেও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কৃষকেরা আন্দোলন চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং কৃষকদের কাছে ক্ষমা চান। এটিকে সরকারের ওপর আন্দোলনের চাপের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলন

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পেছনে থাকা প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলনকে এই ধারাবাহিকতার তৃতীয় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ছিল ভিন্ন।

এটি কোনও নির্দিষ্ট মতাদর্শভিত্তিক সংগঠন বা একক নেতৃত্বের অধীনে গড়ে ওঠেনি। আন্দোলন ছিল বিকেন্দ্রীভূত এবং নেতৃত্বনির্ভর নয়। ফলে কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচলিত রাজনৈতিক কৌশল কার্যকর হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিম ও ইনস্টাগ্রাম রিল আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ হলেও আন্দোলনটি ছিল সুসংগঠিত, যা সরকারের জন্য মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আগের আন্দোলনগুলোর চেয়ে কেন আলাদা

এর আগে আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিজেপি সাধারণত আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করা, নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা, আন্দোলনকারীদের বিভক্ত করা কিংবা সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছিল।

কিন্তু এবার আন্দোলনের বয়ান সরকারের পাল্টা বক্তব্যের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলও এ আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল না।

২০ জুলাইয়ের দমন-পীড়নের পর আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে না গিয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নেয়। এমনকি সোনম ওয়াংচুক নিজের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করলেও আন্দোলনকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে সরে আসেননি। এতে স্পষ্ট হয়, আন্দোলনের নেতৃত্ব ছিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এবং কোনও এক ব্যক্তির সঙ্গে সমঝোতা করে আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়।

কেন অস্বস্তিতে বিজেপি

বিজেপির সূত্রগুলোর মতে, এবার আন্দোলন সরকারকে আরও বেশি অস্বস্তিতে ফেলেছে অন্য একটি কারণে। সিএএবিরোধী আন্দোলন বা কৃষক আন্দোলনের বিপরীতে এবার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের বড় অংশই বিজেপির নিজস্ব সামাজিক ভিত্তির মধ্যে থেকে এসেছে।

একজন বিজেপি নেতা বলেন, ঘোষিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আন্দোলনের চেয়ে এটি বেশি বিপজ্জনক। কারণ, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের যেসব শিক্ষার্থী সাধারণত বিজেপির সমর্থক বা সমর্থকগোষ্ঠীর কাছাকাছি বলে বিবেচিত, তাদের ক্ষোভকে সহজে বিরোধী রাজনীতির অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

এতে সরকারের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, রাষ্ট্রের প্রতি অসন্তোষ এখন শুধু প্রচলিত বিরোধী শিবিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।

গণচাপের মুখে আরেক মন্ত্রীর বিদায়

মোদি সরকারের আমলে জনগণের চাপের মুখে পদত্যাগ করা আরেক মন্ত্রী ছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। #মিটু আন্দোলনের সময় যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর ব্যাপক জনচাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে সেটি সরকারি নীতি বা সরকারের বৈধতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন ছিল না।

সরকারের সামনে যে চ্যালেঞ্জ

সিএএ-এনআরসি, কৃষি আইন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস—এই তিনটি আন্দোলন মোদি সরকারের রাজনৈতিক চরিত্রও তুলে ধরেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির প্রদর্শনে দক্ষ হলেও দীর্ঘস্থায়ী মতবিরোধের সঙ্গে গণতান্ত্রিকভাবে ধারাবাহিক সংলাপ চালিয়ে যেতে তুলনামূলকভাবে দুর্বল। সমালোচকদের মতে, সরকার সাধারণত মতভেদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় না গিয়ে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হলে তবেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে। অর্থাৎ, যুক্তির চেয়ে রাজনৈতিক চাপই সরকারের সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলে।

তবে সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্ত। সরকারের বিশ্বাস, এতে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে এবং একই সঙ্গে সরকারের সামগ্রিক কর্তৃত্বও অক্ষুণ্ন রাখা গেছে।

একজন বিজেপি নেতা বলেন, তরুণদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য। যদিও শুধু পদত্যাগে সমস্যার সমাধান হবে বলে সরকার মনে করে না। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি দাবি করেন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আশাশুনিতে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী হেফাজতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী হেফাজতে

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ডুমুরপোতা কালিবাড়ি গ্রামে গলায় ফিতা পেঁচানো অবস্থায় রতন সানা (৩২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর মা অমরী রানী সানা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে স্ত্রী চন্দ্রা বাছাড়ের (২২) সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির মুঠোফোনে কথা বলা নিয়ে রতনের ঝগড়া হয়। শনিবার ভোরে মাঠে যাওয়ার আগে ছেলে সাড়া না দিলে ঘরে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
আশাশুনি থানার কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রী চন্দ্রাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।