সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ফিরছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
ফিরছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা। আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে এই লোকজ মেলা চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। এ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই মেলা ঘিরে জেলাজুড়ে বাসিন্দাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসব-উদ্দীপনা।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এবার হয়তো মেলায় আগের মতো বিস্তীর্ণ পরিসর এবং সার্কাস, যাত্রা, হাউজি, যাদু, মৃত্যুকূপ কিংবা বিচিত্রা অনুষ্ঠানের মতো বিনোদনের হরেক অনুষঙ্গ থাকছে না। তবে শত বছরের ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে মেলাটি পুনরায় আয়োজিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিশ্লেষকদের মতে, গুড়পুকুরের মেলা কেবল পণ্য কেনাবেচার বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি স্থানীয় সামাজিক মিলন ও গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি বড় উপাদান। দীর্ঘদিন ধরে এটি বিনোদন, কেনাকাটা ও পারস্পরিক সামাজিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। মেলার দিনগুলোতে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আত্মীয়স্বজনেরা সাতক্ষীরায় সমবেত হন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে মেলায় ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতিকে তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর এবার উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন আয়োজক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মেলা প্রাঙ্গণে অপ্রীতিকর ঘটনা, চাঁদা আদায় বা মব প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

Ads small one

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের নিয়মিত ও সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদফতর।

সমাজসেবা অধিদফতর ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীদের নিজ নিজ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব, টাকাপে (TakaPay) ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতার অর্থ পাঠানো হচ্ছে।

সঠিক ও প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসের কিস্তির অর্থ পাঠাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ভুল পে-রোল পাঠানো আবশ্যক।

নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতি মাসের নির্ধারিত ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে পে-রোল পাঠানোর আগে উপকারভোগীদের মোবাইল ও ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ হালনাগাদ করতে হবে।

এ ছাড়া বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী কোনও উপকারভোগীর মৃত্যু বা অন্য কোনও কারণে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

চিঠিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাতার অর্থ নিয়মিতভাবে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে উপকারভোগীদের নিজস্ব এমএফএস, টাকাপে ও ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানো নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: বাসস

‘২ কোটির নিচে নেবো না’ বলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সেই প্রকৌশলী বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
‘২ কোটির নিচে নেবো না’ বলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সেই প্রকৌশলী বরখাস্ত

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. কাউসার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক-৩ মো. কাউসার আহমেদ অপু স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশের মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মো. নুরুল আমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, বিউবো, লক্ষ্মীপুর-এর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২-এর ১৪১ (১) বিধির অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিধি অনুসারে নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।’

পিডিবির কুমিল্লা বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির সাময়িকভাবে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনটি বলেন, ‘তাকে সাময়িক বহিষ্কারের অফিস আদেশের চিঠিটি আমি বিকালে পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত রবিবার রাতে নুরুল আমিনের প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে সামনে থাকা এক ব্যক্তিকে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেবো।’

ভিডিওতে তিনি একটি কাজের ব্যয় ও মালামালের হিসাব নিয়েও কথা বলেন। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সোজা হিসাব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। হিসাব করে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেবো।’

ভিডিওর একটি অংশে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনও একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না। ছয় কোটি টাকা তিন গুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।’

এরপর তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘একটা বিলের জন্য যদি দুই কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষ্মীপুর পিডিবির দুই ঠিকাদার অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন বিভিন্ন কাজের বিল অনুমোদন ও অর্থ ছাড় করাতে ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিলে বিল আটকে রাখা, কাজের অনুমোদন না দেওয়া কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলার কারণে ঠিকাদারদের কেউই তার সঙ্গে বিরোধে যেতে চান না।

অভিযোগ ও ভিডিওর বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ করেননি। আজ দুপুর ১২টার দিকে তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় কার্যালয়ে থাকা পিডিবির সহকারী প্রকৌশলী জানান, নুরুল আমিন সকাল থেকেই কার্যালয়ে আসেননি।

এ ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলীর নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে মিটার সংযোগ ও লাইন নির্মাণ এবং মেরামতকাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন একাধিক গ্রাহক।

 

কালিগঞ্জে শিক্ষকের ১৫৬টি পদ শূন্য, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষার পাঠদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে শিক্ষকের ১৫৬টি পদ শূন্য, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষার পাঠদান

নিয়াজ কওছার তুহিন: সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, দাপ্তরিক কর্মচারী ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই জনবল সংকট নিরসন করা না হলে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মোট ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ৬টি ক্লাস্টারে বিভক্ত এসব বিদ্যালয়ের জন্য ৬ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। তাঁদেরকেই ১৩৮টি বিদ্যালয়ের পরিদর্শনের কাজ সামলাতে হচ্ছে।

একই সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়েও তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। কার্যালয়টিতে ৫টি প্রশাসনিক পদের বিপরীতে মাত্র একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও একজন অফিস সহায়কের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, ১৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৮টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই; সহকারী শিক্ষকদের দিয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রশাসনিক কাজ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ৮৩১ জন সহকারী শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭৭৩ জন, অর্থাৎ ৫৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান ও সহকারী শিক্ষক মিলে মোট ১৫৬টি শিক্ষক পদ খালি পড়ে রয়েছে।

একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, দাপ্তরিক কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে ঠিকমতো মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। শিক্ষকের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস জনবল সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সমস্যাগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন জানান, শূন্যপদের তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদে নিয়োগ সম্পন্ন হতে পারে। পর্যায়ক্রমে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হবে।