বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফোনের ওপাশে নীরবতা/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
ফোনের ওপাশে নীরবতা/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সকাল গড়িয়ে দুপুর। ডেস্ক থেকে বারবার তাগাদা আসছেÑ“খবরটা কখন পাঠাচ্ছেন?” ঘটনাস্থল থেকে ছবি এসেছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনও বাকি। সেটি হলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। ধরা যাক, একটি বেইলি সেতু ভেঙে পড়েছে। এটি নিছক একটি অবকাঠামোগত দুর্ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের চলাচল, জননিরাপত্তা, সরকারি দায়বদ্ধতা এবং উন্নয়ন কর্মকা-ের মান নিয়ে প্রশ্ন। ফলে একটি দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের জন্য সড়ক, সেতু কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য অপরিহার্য। ফোন করা হলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে। একবার, দুইবার, তিনবার, চারবার। কোনো সাড়া নেই। এরপর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করা হলো। সেখানেও একই অবস্থা।

 

সড়ক ও জনপথ বিভাগের আরেক কর্মকর্তার নম্বরে কল গেল। তাতেও কোনো উত্তর নেই। এ দৃশ্য বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কাছে নতুন নয়। বরং এটি এক ধরনের নিত্যদিনের বাস্তবতা। একটি বক্তব্যের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, অসংখ্য ফোনকল, বার্তা পাঠানো, পরিচিতজনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টাÑএসব যেন সংবাদ সংগ্রহের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, কোনো ঘটনা ঘটেছে, তার ছবি তুলে বা দু-একজনের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ লেখা যায়। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। পেশাদার সাংবাদিকতার মূল ভিত্তিই হলো ভারসাম্য ও বস্তুনিষ্ঠতা। একটি ঘটনার অভিযোগ, সমালোচনা বা ক্ষোভ তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও প্রকাশ করতে হয়। ধরা যাক, একটি সেতু ভেঙে পড়েছে।

 

স্থানীয় মানুষ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কেউ বলছেন, সংস্কারের অভাব ছিল। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা কী? সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী কী বলছেন? কোনো সংস্কার পরিকল্পনা ছিল কি না? দুর্ঘটনার কারণ কী? বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া সংবাদ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।ফলে একজন সাংবাদিক যতক্ষণ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না পান, ততক্ষণ তাঁর কাজও পুরোপুরি শেষ হয় না। সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিঃসন্দেহে অনেক। তাঁরা সভা, পরিদর্শন, প্রশাসনিক কাজ কিংবা বিভিন্ন জরুরি বিষয়ে ব্যস্ত থাকেন। সব সময় ফোন ধরা সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন কর্মকর্তা যদি একাধিকবার ফোনকল পাওয়ার পরও কোনো প্রতিক্রিয়া না দেন, পরেকলব্যাক না করেন কিংবা একটি খুদে বার্তারও উত্তর না দেন, তাহলে সেটিকে কি শুধু ব্যস্ততা বলা যায়? প্রযুক্তির এই যুগে যোগাযোগের অসংখ্য মাধ্যম রয়েছে।

 

সরাসরি ফোন না ধরতে পারলেও পরে ফোন করা যায়, বার্তার উত্তর দেওয়া যায় কিংবা দপ্তরের অন্য কাউকে তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া যায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাংবাদিকদের ফোনকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এমন প্রবণতা শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে জনসেবার ধারণার জন্যও উদ্বেগজনক।একজন সাংবাদিক যখন কোনো কর্মকর্তাকে ফোন করেন, তখন তিনি ব্যক্তিগত কৌতূহল মেটানোর জন্য ফোন করেন না। তিনি জনগণের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করেন। তাঁর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানতে চায়, কী ঘটেছে, কেন ঘটেছে এবং এর সমাধান কী। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জবাবদিহি একটি মৌলিক মূল্যবোধ। সরকারি কর্মকর্তা জনগণের করের টাকায় বেতন পান এবং জনগণের সেবা দেওয়ার জন্যই নিয়োজিত থাকেন। ফলে তাঁদের কর্মকা- সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলে তার উত্তর দেওয়াও দায়িত্বের অংশ।

 

ঢাকা কিংবা বড় শহরের সাংবাদিকদের তুলনায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ আরও বেশি। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের সীমিত সম্পদ নিয়ে কাজ করতে হয়। নিজস্ব যানবাহন নেই, প্রযুক্তিগত সুবিধা সীমিত, আবার সংবাদ সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য সংগ্রহের পর যখন একটি বক্তব্যের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, তখন তা শুধু সময়ের অপচয় নয়; পেশাগত হতাশারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ পাঠক যখন সংবাদ পড়েন, তখন তিনি জানেন না এর পেছনে কত শ্রম, কত ফোনকল কিংবা কত প্রত্যাখ্যানের গল্প লুকিয়ে আছে।বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা এবং প্রশাসনিক আধুনিকায়নের অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ওয়েবসাইট রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি রয়েছে, ডিজিটাল যোগাযোগের নানা ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি যোগাযোগের সংস্কৃতিরও উন্নয়ন জরুরি।একজন কর্মকর্তা যদি সাংবাদিকের ফোন ধরতে অনীহা দেখান, তাহলে সেই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি জনগণের কাছে কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ।

 

বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন রয়েছে। আইন অনুযায়ী জনগণ তথ্য জানার অধিকার রাখে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, তথ্য পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়Ñসরাসরি ফোনে কথা বলাÑসেটিই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। তথ্য অধিকার কেবল আইনের বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এর বাস্তব প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।একজন সাংবাদিক যদি দিনের পর দিন তথ্য পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করেন, তাহলে সাধারণ নাগরিকের অবস্থাটা কী হতে পারে, সেটিও ভাবার বিষয়। এ কথাও সত্য যে সব সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিক বিমুখ নন। অনেক কর্মকর্তা আছেন, যারা দ্রুত ফোন ধরেন, তথ্য দেন, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং সংবাদ প্রকাশে সহযোগিতা করেন।

 

তাঁদের কারণে গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মধ্যে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমন কর্মকর্তারাই প্রমাণ করেন যে সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা মানেই কোনো পক্ষপাতিত্ব নয়; বরং এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পরিচয়। সাংবাদিক বান্ধব প্রশাসন মানে সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়। এর অর্থ হলো তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক মনোভাব রাখা। যখন কোনো কর্মকর্তা দ্রুত তথ্য দেন, তখন গুজব কমে, বিভ্রান্তি দূর হয় এবং সঠিক তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

 

অন্যদিকে তথ্য না দিলে বা যোগাযোগ এড়িয়ে গেলে নানা ধরনের অনুমান, গুজব ও ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হয়। এতে প্রশাসন এবং জনগণÑউভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হয়তো একজন কর্মকর্তার কাছে একটি ফোনকল খুব সাধারণ বিষয়। কিন্তু একজন সাংবাদিকের কাছে সেটিই হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের শেষ অংশ। একটি কল রিসিভ করা, কয়েক মিনিট সময় দেওয়া কিংবা পরে কলব্যাক করাÑএই ছোট ছোট কাজগুলোই গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারে।

 

প্রথমত, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে আরও সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, জরুরি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য দেওয়ার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, প্রতিটি সরকারি দপ্তরে নির্দিষ্ট মুখপাত্র বা তথ্য কর্মকর্তা সক্রিয় রাখা দরকার, যাতে সাংবাদিকরা দ্রুত তথ্য পেতে পারেন। চতুর্থত, কর্মকর্তাদের মধ্যে এই উপলব্ধি তৈরি করতে হবে যে সাংবাদিকের ফোন কোনো ব্যক্তিগত অনুরোধ নয়; এটি জনগণের জানার অধিকার বাস্তবায়নের একটি অংশ। ভেঙে পড়া বেইলি সেতুর খবর হয়তো একদিনের সংবাদ। কাল অন্য কোনো ঘটনা শিরোনাম হবে। কিন্তু একটি বক্তব্যের জন্য সাংবাদিকের বারবার ফোন করা, আর ফোনের ওপাশে দীর্ঘ নীরবতাÑএই অভিজ্ঞতা প্রতিদিনের।

 

সংবাদপত্রের পাতায় প্রকাশিত একটি ছোট খবরের পেছনে কত মানুষের শ্রম, কত প্রতিকূলতা এবং কত অদৃশ্য সংগ্রাম থাকে, তা পাঠকের চোখে ধরা পড়ে না। কিন্তু সেই সংগ্রামের অন্যতম বড় অংশ হলো তথ্যের জন্য অপেক্ষা। গণমাধ্যম ও প্রশাসন পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়। উভয়ের লক্ষ্যই জনগণের সেবা করা। তাই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে প্রশাসনকে আরও উন্মুক্ত হতে হবে, আর সাংবাদিকদের প্রশ্নকে দেখতে হবে জনগণের প্রশ্ন হিসেবের্।ফোনের ওপাশের সেই নীরবতা ভাঙার সময় এখনই। কারণ তথ্যপ্রবাহের পথ যত সহজ হবে, গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী হবে।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

লিচু টাটকা না রাসায়নিক মেশানো, বুঝবেন যেভাবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
লিচু টাটকা না রাসায়নিক মেশানো, বুঝবেন যেভাবে

গরমে রসালো লিচুর চাহিদা বাড়তেই বাজারে দেখা যায় নানা ধরনের লিচু। তবে সব লিচু যে সমান ভালো বা নিরাপদ, তা নয়। অনেক সময় ফলকে বেশি টাটকা ও আকর্ষণীয় দেখাতে কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। তাই লিচু কেনার আগে কিছু সহজ বিষয় খেয়াল করলে ভালো, মিষ্টি ও তুলনামূলক নিরাপদ লিচু বেছে নেওয়া সহজ হয়।

লিচু কেনার সময় প্রথমেই ফলের রঙের দিকে নজর দিন। সাধারণত টাটকা ও পাকা লিচুর রং উজ্জ্বল লাল বা হালকা গোলাপি হয়। তবে অতিরিক্ত চকচকে বা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রং থাকলে সতর্ক হওয়া ভালো। খোসার গায়ে বেশি কালো বা বাদামি দাগ থাকলে বুঝতে হবে ফলটি পুরোনো বা নষ্ট হতে শুরু করেছে।

লিচুর খোসা হাত দিয়ে আলতো চাপ দিয়েও এর অবস্থা বোঝা যায়। ভালো লিচু সাধারণত সামান্য শক্ত কিন্তু কিছুটা নমনীয় অনুভূত হয়। খুব বেশি শক্ত হলে সেটি কাঁচা হতে পারে, আবার অতিরিক্ত নরম হলে ভেতরের অংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

খোসার গঠনও গুরুত্বপূর্ণ। লিচুর গায়ে থাকা ছোট ছোট উঁচু অংশগুলো যদি সমান ও কিছুটা ছড়ানো হয়, তাহলে ফলটি পরিপক্ব হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। খোসায় ছোট ছিদ্র বা ফাটল থাকলে সেই লিচু না কেনাই ভালো, কারণ এতে পোকা বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

সবসময় ডালসহ বা গুচ্ছ আকারে থাকা লিচু কেনার চেষ্টা করুন। এতে ফল তুলনামূলক বেশি সময় টাটকা থাকে। যদি ডাল একেবারে শুকিয়ে যায় বা সহজে ভেঙে পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে লিচু অনেক আগে পাড়া হয়েছে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কি লিচু খাওয়া নিরাপদ
লিচুর গন্ধ থেকেও এর মান বোঝা যায়। টাটকা লিচুতে সাধারণত হালকা মিষ্টি সুবাস থাকে। কিন্তু টক বা ফারমেন্টেড ধরনের গন্ধ পাওয়া গেলে সেটি এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ ফলটি নষ্ট হতে শুরু করেছে।

আকার ও ওজনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গোল বা ডিম্বাকৃতির এবং তুলনামূলক ভারী লিচু সাধারণত বেশি রসালো হয়। চ্যাপ্টা বা অস্বাভাবিক আকৃতির লিচুতে অনেক সময় বীজ বড় এবং শাঁস কম থাকে।

কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও সহজে বোঝা যায়। লিচু হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর যদি হাতে রং লাগে বা সামান্য পানি লাগালে রং উঠে আসে, তাহলে সেটি না কেনাই ভালো। প্রাকৃতিকভাবে পাকা লিচু সাধারণত অতিরিক্ত চকচকে বা একদম নিখুঁত দেখায় না।

লিচু খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ময়লা ও কিছু রাসায়নিক দূর হতে পারে। খোসা ছাড়ানোর পর দ্রুত খেয়ে ফেলা ভালো। অনেকক্ষণ ছিলে রাখা লিচু না খাওয়াই নিরাপদ।

লিভার ভালো রাখতে প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
লিভার ভালো রাখতে প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়

অনেক মানুষের দিনের শুরুই হয় এক কাপ কফি দিয়ে। ব্যস্ত কাজের মাঝে ক্লান্তি দূর করা থেকে শুরু করে মন সতেজ রাখতেও কফির ওপর ভরসা করেন অনেকে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই কফিকে ঘিরে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির আলোচনা রয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ সবসময় কফি নয়, বরং কফির সঙ্গে মেশানো অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড উপাদান।

চিকিৎসক ডা. সৌরভ শেঠি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, সাধারণ ব্ল্যাক কফি বরং লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পান ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস এমনকি সিরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তার মতে, সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন কফির সঙ্গে অতিরিক্ত ফ্লেভার, সিরাপ, হুইপড ক্রিম বা অতিরিক্ত প্রসেসড ক্রিমার যোগ করা হয়।

ডা. শেঠি বলেন, অনেক সময় মানুষ এমন ধরনের ফ্লেভারড লাতে বা মিষ্টি কফি পান করেন, যেখানে কফির চেয়ে চিনি বেশি থাকে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজযুক্ত চিনি সরাসরি লিভারে গিয়ে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অতিরিক্ত চিনি কেন ক্ষতিকর
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফির সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে শরীরে হঠাৎ শক্তি বাড়ার অনুভূতি তৈরি হয়, তবে কিছু সময় পর আবার দ্রুত ক্লান্তি চলে আসে। এতে আরও মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চিনি খেলে শরীরে প্রদাহ বাড়তে পারে, কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়তে পারে এবং হৃদযন্ত্রের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

তাহলে কীভাবে কফি পান করবেন
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, কফি পান করতে চাইলে যতটা সম্ভব কম চিনি ব্যবহার করা ভালো। ব্ল্যাক কফি বা অল্প দুধ মেশানো কফি তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় দুধ-চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি খেলে।

দৈনিক কতটা চিনি খাওয়া উচিত, কীভাবে সচেতন থাকবেন
অনেক বাজারজাত ওট মিল্ক বা আমন্ড মিল্কেও অতিরিক্ত চিনি থাকে। তাই এসব ব্যবহারের আগে লেবেল দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিনি ব্যবহার করতেই হলে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত। বিকল্প হিসেবে স্টেভিয়া বা মঙ্ক ফ্রুট ব্যবহার করা যেতে পারে।

কফির স্বাদ বাড়ানোর স্বাস্থ্যকর উপায়
চিনি ছাড়াও কফির স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর কিছু স্বাস্থ্যকর উপায় রয়েছে। যেমন-

কফির সঙ্গে দারুচিনি, জায়ফল বা এলাচ গুঁড়া যোগ করা
চিনি ছাড়া কোকো পাউডার ব্যবহার করা
কয়েক ফোঁটা ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট যোগ করা
এসব উপাদান কফিকে সুগন্ধি ও সুস্বাদু করে তুলতে পারে, আবার অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ঝুঁকিও কমায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ব্ল্যাক কফি সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং এটি লিভারসহ শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কফির সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড উপাদান যোগ করার অভ্যাস স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই কফি পান করার ধরনেই আসল পার্থক্য তৈরি হয়।

ক্লাসরুম ছাড়িয়ে খুদে বিজ্ঞানীদের চোখ এবার ‘স্মার্ট কৃষি’তে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
ক্লাসরুম ছাড়িয়ে খুদে বিজ্ঞানীদের চোখ এবার ‘স্মার্ট কৃষি’তে

স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা শুরু কাল

পত্রদূত রিপোর্ট: সেদ্ধ চালের গন্ধ, মাটির সোঁদা সুবাস আর ল্যাবরেটরির টেস্টটিউবÑসব মিলিয়ে ক্লাসরুমের চেনা গ-ি পেরিয়ে একদল কিশোর এখন বুঁদ হয়ে আছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে। সাতক্ষীরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন টিফিনের আড্ডায় কিংবা ছুটির পরের অলস সময়েও চলছে তুমুল আলোচনা।

 

উদ্দেশ্য একটাইÑকেমন হবে ভবিষ্যতের ‘স্মার্ট কৃষি’? কীভাবে রাসায়নিক ছাড়া দীর্ঘদিন ভালো রাখা যাবে আমাদের ঘরের খাবার? অনেকেই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে করা যায়? কীভাবে রোবটের সাহায্যে দ্রুত পণ্য সরবরাহ করা যায়? কীভাবে যুদ্ধ হানাহানি বন্ধ করে শান্তি স্থাপন করা যায়? কীভাবে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট থেকে পৃথিবীকে বাঁচানো যায়-এসব নানা আবিস্কারের নেশায় এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ক্ষদে শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে সাতক্ষীরায় আয়োজন হতে যাচ্ছে “স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং” প্রতিযোগিতা। আর এই মেধা অন্বেষণের মঞ্চে নিজেদের সেরা উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হতে দিন-রাত এক করে খাটছে বিভিন্ন স্কুলের একঝাঁক খুদে বিজ্ঞানী।

সাতক্ষীরা শহরের একটি বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারে গিয়ে দেখা যায়, টেবিলজুড়ে ছড়ানো নানা রকম প্রজেক্টের নকশা। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তৌসিফ মোস্তফা তাওসিফ, নবম শ্রেণীর আশেকুর রহমান আর অষ্টম শ্রেণীর খুদে সদস্য সাফওয়ান সিদ্দিকী বিনÑতিনজনের চোখেই নতুন কিছু করার দারুণ উত্তেজনা। তাদের এই স্বপ্নের পেছনে বাতিঘর হিসেবে কাজ করছেন বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষকÑমোহা. হুমায়ুন কবির এবং ইমরান হোসেন।

সাতক্ষীরার খুদে বিজ্ঞানীদের মূল লক্ষ্যÑ”স্মার্ট কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ”। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে কৃষকের শ্রম কমানো যায় এবং উৎপাদিত ফসল নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা যায়, তারই একটি দুর্দান্ত মডেল তৈরি করেছে এই তিন শিক্ষার্থী।

দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তৌসিফ মোস্তফা বলে, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি, যা সাধারণ কৃষকদের একদম সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা দেবে।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, “পারফরমেন্স বেজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউশন স্কিম”-এর আওতায় আগামী ১২জুন সকাল ৯টা থেকে স্থানীয় নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে এই বিজ্ঞান মেলা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, মেলা প্রাঙ্গণে স্টল পরিদর্শনের জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন বিজ্ঞান শিক্ষকের নেতৃত্বে ৯ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, ইতিমধ্যে প্রজেক্টের যাবতীয় বিবরণী ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে দ্য পোল-স্টার পৌর হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে স্কুলের দাপ্তরিক নথির চেয়েও এখন বড় হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের মেধার এই উন্মেষ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এ ধরনের প্রতিযোগিতা কেবল একটি পুরস্কার জেতার লড়াই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ভেতরের সুপ্ত মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে জাগিয়ে তোলার মোক্ষম হাতিয়ার। আজকের এই ছোট ছোট আইডিয়াগুলোই হয়তো আগামী দিনের বাংলাদেশের কৃষি খাতের চেহারা বদলে দেবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এই প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবন দিয়ে বিচারকদের মন জয় করতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে নিজেরা নতুন কিছু তৈরি করতে পারার যে আনন্দ ও আত্মবিশ্বাস এই কিশোরদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে, সেটাই এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর দৈনিক পত্রদূতকে বলেনÑ সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলায় শুক্রবার (১২ জুন) শুরু হচ্ছে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা। সাতক্ষীরা শহরের নবারুণ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সদর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রতিযোগিতার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ১৮টি স্টল প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষি বিভাগের ৪জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রজেক্ট পর্যবেক্ষণ করবেন।