সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফোনের ওপাশে নীরবতা/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
ফোনের ওপাশে নীরবতা/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সকাল গড়িয়ে দুপুর। ডেস্ক থেকে বারবার তাগাদা আসছেÑ“খবরটা কখন পাঠাচ্ছেন?” ঘটনাস্থল থেকে ছবি এসেছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনও বাকি। সেটি হলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। ধরা যাক, একটি বেইলি সেতু ভেঙে পড়েছে। এটি নিছক একটি অবকাঠামোগত দুর্ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের চলাচল, জননিরাপত্তা, সরকারি দায়বদ্ধতা এবং উন্নয়ন কর্মকা-ের মান নিয়ে প্রশ্ন। ফলে একটি দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের জন্য সড়ক, সেতু কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য অপরিহার্য। ফোন করা হলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে। একবার, দুইবার, তিনবার, চারবার। কোনো সাড়া নেই। এরপর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করা হলো। সেখানেও একই অবস্থা।

 

সড়ক ও জনপথ বিভাগের আরেক কর্মকর্তার নম্বরে কল গেল। তাতেও কোনো উত্তর নেই। এ দৃশ্য বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কাছে নতুন নয়। বরং এটি এক ধরনের নিত্যদিনের বাস্তবতা। একটি বক্তব্যের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, অসংখ্য ফোনকল, বার্তা পাঠানো, পরিচিতজনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টাÑএসব যেন সংবাদ সংগ্রহের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, কোনো ঘটনা ঘটেছে, তার ছবি তুলে বা দু-একজনের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ লেখা যায়। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। পেশাদার সাংবাদিকতার মূল ভিত্তিই হলো ভারসাম্য ও বস্তুনিষ্ঠতা। একটি ঘটনার অভিযোগ, সমালোচনা বা ক্ষোভ তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও প্রকাশ করতে হয়। ধরা যাক, একটি সেতু ভেঙে পড়েছে।

 

স্থানীয় মানুষ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কেউ বলছেন, সংস্কারের অভাব ছিল। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা কী? সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী কী বলছেন? কোনো সংস্কার পরিকল্পনা ছিল কি না? দুর্ঘটনার কারণ কী? বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া সংবাদ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।ফলে একজন সাংবাদিক যতক্ষণ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না পান, ততক্ষণ তাঁর কাজও পুরোপুরি শেষ হয় না। সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিঃসন্দেহে অনেক। তাঁরা সভা, পরিদর্শন, প্রশাসনিক কাজ কিংবা বিভিন্ন জরুরি বিষয়ে ব্যস্ত থাকেন। সব সময় ফোন ধরা সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন কর্মকর্তা যদি একাধিকবার ফোনকল পাওয়ার পরও কোনো প্রতিক্রিয়া না দেন, পরেকলব্যাক না করেন কিংবা একটি খুদে বার্তারও উত্তর না দেন, তাহলে সেটিকে কি শুধু ব্যস্ততা বলা যায়? প্রযুক্তির এই যুগে যোগাযোগের অসংখ্য মাধ্যম রয়েছে।

 

সরাসরি ফোন না ধরতে পারলেও পরে ফোন করা যায়, বার্তার উত্তর দেওয়া যায় কিংবা দপ্তরের অন্য কাউকে তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া যায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাংবাদিকদের ফোনকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এমন প্রবণতা শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে জনসেবার ধারণার জন্যও উদ্বেগজনক।একজন সাংবাদিক যখন কোনো কর্মকর্তাকে ফোন করেন, তখন তিনি ব্যক্তিগত কৌতূহল মেটানোর জন্য ফোন করেন না। তিনি জনগণের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করেন। তাঁর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানতে চায়, কী ঘটেছে, কেন ঘটেছে এবং এর সমাধান কী। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জবাবদিহি একটি মৌলিক মূল্যবোধ। সরকারি কর্মকর্তা জনগণের করের টাকায় বেতন পান এবং জনগণের সেবা দেওয়ার জন্যই নিয়োজিত থাকেন। ফলে তাঁদের কর্মকা- সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলে তার উত্তর দেওয়াও দায়িত্বের অংশ।

 

ঢাকা কিংবা বড় শহরের সাংবাদিকদের তুলনায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ আরও বেশি। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের সীমিত সম্পদ নিয়ে কাজ করতে হয়। নিজস্ব যানবাহন নেই, প্রযুক্তিগত সুবিধা সীমিত, আবার সংবাদ সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য সংগ্রহের পর যখন একটি বক্তব্যের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, তখন তা শুধু সময়ের অপচয় নয়; পেশাগত হতাশারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ পাঠক যখন সংবাদ পড়েন, তখন তিনি জানেন না এর পেছনে কত শ্রম, কত ফোনকল কিংবা কত প্রত্যাখ্যানের গল্প লুকিয়ে আছে।বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা এবং প্রশাসনিক আধুনিকায়নের অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ওয়েবসাইট রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি রয়েছে, ডিজিটাল যোগাযোগের নানা ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি যোগাযোগের সংস্কৃতিরও উন্নয়ন জরুরি।একজন কর্মকর্তা যদি সাংবাদিকের ফোন ধরতে অনীহা দেখান, তাহলে সেই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি জনগণের কাছে কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ।

 

বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন রয়েছে। আইন অনুযায়ী জনগণ তথ্য জানার অধিকার রাখে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, তথ্য পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়Ñসরাসরি ফোনে কথা বলাÑসেটিই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। তথ্য অধিকার কেবল আইনের বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এর বাস্তব প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।একজন সাংবাদিক যদি দিনের পর দিন তথ্য পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করেন, তাহলে সাধারণ নাগরিকের অবস্থাটা কী হতে পারে, সেটিও ভাবার বিষয়। এ কথাও সত্য যে সব সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিক বিমুখ নন। অনেক কর্মকর্তা আছেন, যারা দ্রুত ফোন ধরেন, তথ্য দেন, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং সংবাদ প্রকাশে সহযোগিতা করেন।

 

তাঁদের কারণে গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মধ্যে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমন কর্মকর্তারাই প্রমাণ করেন যে সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা মানেই কোনো পক্ষপাতিত্ব নয়; বরং এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পরিচয়। সাংবাদিক বান্ধব প্রশাসন মানে সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়। এর অর্থ হলো তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক মনোভাব রাখা। যখন কোনো কর্মকর্তা দ্রুত তথ্য দেন, তখন গুজব কমে, বিভ্রান্তি দূর হয় এবং সঠিক তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

 

অন্যদিকে তথ্য না দিলে বা যোগাযোগ এড়িয়ে গেলে নানা ধরনের অনুমান, গুজব ও ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হয়। এতে প্রশাসন এবং জনগণÑউভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হয়তো একজন কর্মকর্তার কাছে একটি ফোনকল খুব সাধারণ বিষয়। কিন্তু একজন সাংবাদিকের কাছে সেটিই হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের শেষ অংশ। একটি কল রিসিভ করা, কয়েক মিনিট সময় দেওয়া কিংবা পরে কলব্যাক করাÑএই ছোট ছোট কাজগুলোই গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারে।

 

প্রথমত, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে আরও সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, জরুরি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য দেওয়ার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, প্রতিটি সরকারি দপ্তরে নির্দিষ্ট মুখপাত্র বা তথ্য কর্মকর্তা সক্রিয় রাখা দরকার, যাতে সাংবাদিকরা দ্রুত তথ্য পেতে পারেন। চতুর্থত, কর্মকর্তাদের মধ্যে এই উপলব্ধি তৈরি করতে হবে যে সাংবাদিকের ফোন কোনো ব্যক্তিগত অনুরোধ নয়; এটি জনগণের জানার অধিকার বাস্তবায়নের একটি অংশ। ভেঙে পড়া বেইলি সেতুর খবর হয়তো একদিনের সংবাদ। কাল অন্য কোনো ঘটনা শিরোনাম হবে। কিন্তু একটি বক্তব্যের জন্য সাংবাদিকের বারবার ফোন করা, আর ফোনের ওপাশে দীর্ঘ নীরবতাÑএই অভিজ্ঞতা প্রতিদিনের।

 

সংবাদপত্রের পাতায় প্রকাশিত একটি ছোট খবরের পেছনে কত মানুষের শ্রম, কত প্রতিকূলতা এবং কত অদৃশ্য সংগ্রাম থাকে, তা পাঠকের চোখে ধরা পড়ে না। কিন্তু সেই সংগ্রামের অন্যতম বড় অংশ হলো তথ্যের জন্য অপেক্ষা। গণমাধ্যম ও প্রশাসন পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়। উভয়ের লক্ষ্যই জনগণের সেবা করা। তাই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে প্রশাসনকে আরও উন্মুক্ত হতে হবে, আর সাংবাদিকদের প্রশ্নকে দেখতে হবে জনগণের প্রশ্ন হিসেবের্।ফোনের ওপাশের সেই নীরবতা ভাঙার সময় এখনই। কারণ তথ্যপ্রবাহের পথ যত সহজ হবে, গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী হবে।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, অন্যায়ের কাছে সাতক্ষীরার মানুষ কখনো মাথা নত করেনি এবং ভয় দেখিয়েও তাঁদের দমানো যাবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল্লাহ মোনার সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মো. জিয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম ও পৌর জামায়াতের আমির মো. জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। সম্প্রতি সংসদে সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, পৌরসভার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক কাঠামোর উন্নয়নের দাবি তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দত্তনগর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে যায়। বিষয়টি গত শুক্রবার উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিয়াজান আলীকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেলা কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে অবহিত করেন। জেলা কমান্ড্যান্টের পরামর্শে আনসার সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দলনেতা তালিব হোসাইন ও ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের দলনেতা আলী হোসেন প্লাটুনভুক্ত ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা মেরামত ও পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।
এ সময় উপস্থিত থেকে সাধুবাদ জানান সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা। আনসার-ভিডিপির এই স্বেচ্ছাশ্রম ও সামাজিক কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মিয়াজান আলী জানান, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে তাঁর দল ও সদস্যরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’-এর জুলাই মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় সাতক্ষীরার প্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি হৃদয় ম-লের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সাতক্ষীরা ইউনিটের লাইব্রেরি ইনচার্জ মো. আতিকুজ্জামান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরজাহান খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আফরিন, বোর্ড সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা।
সভার শুরুতে সংগঠনের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে তরুণদের সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা স্থানীয় জনজীবন, কৃষি, শিক্ষা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে শিগগিরই একটি মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবির পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।