ভোমরা বন্দর দিয়ে ৩১৩ কোটি টাকার টমেটো আমদানি, তারপরও সরবরাহ কম
এম শফিকুল ইসলাম: সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৩১৩ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৪৯ হাজার ৮৫০ মেট্রিকটন টমেটো আমদানি করা হয়েছে। খাদ্য তালিকায় প্রয়োজনীয় এই ফলজাতীয় পণ্যটির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে সরকার দেশের শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে টমেটো আমদানির অনুমতি দেয়। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর প্রায় সারা বছরই কমবেশি টমেটো আমদানি করে আসছে। ভোমরা বন্দর থেকে খালাস হাওয়া টমেটোর বড় ধরনের সব চালানি সরাসরি দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলার শহরের আড়তে চলে যাচ্ছে। ফলে সাতক্ষীরার শহর ও স্থানীয় হাটবাজারে এ পণ্যটির সরবরাহ একেবারেই নেই বললে চলে। পর্যাপ্ত আমদানি হলেও উল্টো সরবরাহ ঘাটটির অজুহাতে খুচরা বাজারে টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে আকাশ ছোঁয়া। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। আর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দর ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা। পঁচনশীল পণ্য হওয়ায় বেশি দিন মজুদ রাখা হয় না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেতে পৌঁছে যাওয়ার আগেই তা বিক্রি করে দিতে হয়। এ কারণে বাজার দর প্রায়ই ওঠানামা করে। খুচরা ব্যবসায়ী জিয়াদ আলী জানান, বর্ষা মৌসুমে এ ফলটির উৎপাদন অনেকাংশে কমে যায়। ফলে জেলার কৃষি জমিতে যে পরিমাণ টমেটো উৎপাদন হয়, তা দিয়ে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না। পারিবারিক চাহিদা মেটাতে অল্প কিছু কৃষিরজমিতে টমেটোর চাষ করেন গ্রামের কৃষকরা। চাহিদা পূরণের পর বাড়তি উৎপাদন না হওয়ায় শহরের হাটবাজারে সরবরাহ কমে যায়। যে কারণে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামত দাম নির্ধারণ করে এ পণ্যটি বিক্রয় করে। প্রায় সারাবছর এ পণ্যটির চাহিদা থাকায় ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে ভারত থেকে আমদানি হয়ে থাকে। অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক দেবাশীষ সরকার বলেন, ভোমরা বন্দর দিয়ে দিনের পর দিন বিপুল পরিমাণ টমেটো আমদানি হলেও তার সবটাই চলে যাচ্ছে অন্য জেলায় এর ফলে স্থানীয় ক্রেতারা পাওয়ার ন্যায্যমূল্য পণ্য পাওয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাড়তি দামে টমেটো কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।






