রাখার জায়গা না থাকায় কি তেল সাগরে ফেলে দিচ্ছে ইরান
ইরান প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। এর সিংহভাগই রফতানি হয় খার্গ দ্বীপের প্রধান টার্মিনাল দিয়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে অবিক্রিত তেল মজুত করার জায়গা ফুরিয়ে আসছে দেশটির। মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগর থেকে তেলের ট্যাঙ্কারগুলো বের হতে পারছে না। মজুত সংকট মেটাতে ইরান পুরোনো তেলের ট্যাঙ্কার ও ভাসমান ভাণ্ডার ব্যবহার করলেও সেগুলো দ্রুতই পূর্ণ হয়ে গেছে।
তেহরানের জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, চাইলেই তারা তেল উৎপাদন বন্ধ করতে পারছে না। কারণ, উৎপাদন বন্ধ করলে ভূগর্ভস্থ তেলস্তর বা রিজার্ভারের স্থায়ী ও মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মজুত করার জায়গা না থাকায় ইরান সমুদ্রে তেল ফেলে দিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
খার্গ দ্বীপের প্রধান তেল রফতানি টার্মিনালের কাছে সমুদ্রের পৃষ্ঠে বড় বড় কালো দাগ ধরা পড়েছে স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ চিত্রে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) সেন্টিনেল চিত্রে গত কয়েক সপ্তাহে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেলের বিশাল আস্তর দেখা গেছে। গত ৫ মার্চ কুয়েত উপকূল, ১০ এপ্রিল লাভান দ্বীপ এবং সর্বশেষ ৬ মে খার্গ দ্বীপের পশ্চিমে প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে তেলের এই আস্তর দেখা গেছে, যা আয়তনে একটি বড় শহরের সমান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাডার ডাটা অনুযায়ী সমুদ্রের এই কালো দাগগুলো ছড়িয়ে পড়া তেলেরই পাতলা স্তর। তবে বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন যে, কেবল উপগ্রহ চিত্র দিয়ে এটি প্রমাণ করা কঠিন। শ্যাওলা, পলি বা সূর্যের আলোর প্রতিফলন থেকেও এমন দেখা যেতে পারে। তবুও তেলের অবকাঠামোর কাছাকাছি এই দাগগুলো দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
অবরোধের মধ্যেও ইরান বিকল্প পথে তেল বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জারি করা অবরোধ সত্ত্বেও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ১৩টি ইরানি ট্যাঙ্কার ইন্দোনেশিয়ার রিইউ দ্বীপপুঞ্জের কাছে সাগরে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রি করা হয়েছে যার বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি ডলার। এই তেল সম্ভবত চীনের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মতে, ইরান আরও কয়েক মাস এই অবরোধ মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখে। তবে মজুত সংকটের কারণে ইরান যদি সত্যিই ইচ্ছাকৃতভাবে সমুদ্রে তেল ফেলে দেয়, তবে তা একটি বড় পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। ইরানি কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এই তেলের আস্তরণ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। এটি দুর্ঘটনাজনিত নাকি বাধ্য হয়ে ফেলে দেওয়া তেল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে












