সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরে মাসিক স্বাস্থ্য বিধি দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে মাসিক স্বাস্থ্য বিধি দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

মুন্সীগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে মাসিক স্বাস্থ্য বিধি  দিবস পালন উপলক্ষে র‍্যালি সচেনতা মুলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  হয়েছে।

৩ জুন (বুধবার) সকাল ১০ টা থেকে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সুন্দরবন মাধ্যমকি বিদ্যালয়ে

প্ররেণা এর উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে “মাসিক স্বাস্থ্য বিধি  দিবস-২০২৬” পালতি হয়ছে।

 

র‍্যালি ও আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে আলোচনা রাখেন প্রজেক্ট অফিসার প্রেরণা বায়োজীদ( জুয়েল),

স্বাস্থ্য পরিদর্শক মুন্সিগঞ্জ কুদরত এলাহী,  পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মুন্সীগঞ্জ শ্রীবাস মন্ডল, সহকারী শিক্ষক সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সালাউদ্দিন আহমেদ, সিএইচসিপি জীবিতেশ গায়েন, এফ ডব্লিউ এ, মাধবী রানী তরফদার প্রমুখ।

বাস্তবায়নাধীন দূর্বার প্রকল্প এর অধীনে  সুন্দরবন মাধ্যমকি বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠেয়  কিশোরী ও নারীদরে মাসিক কালীন স্বাস্থ্য বিধি সর্ম্পকে সচতেনতা বৃদ্ধি এবং প্রচলতি সামাজকি সংকোচ ও কুসংস্কার দূর করার লক্ষ্যে দিনব্যাপী এ কর্মসূচরি আয়োজন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে একটি র্বণাঢ্য র‍্যালরি মধ্য দিয়ে র্কমসূচরি সূচনা হয়। ব্যানার, ফস্টেুন ও সচতেনতামূলক স্লোগান সংবলতি র‍্যালটিি সুন্দরবন মাধ্যমকি বিদ্যালয় থকেে শুরু হয়ে সুন্দরবন বাজাররে প্রধান সড়ক প্রদক্ষণি করা হয়েছে। র‍্যালিতে স্কুল-কলজেরে ছাত্রী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যর্কমী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্ত বর্গ সহ বভিন্নি শ্রেনিপেশার মানুষ স্বতঃর্স্ফূতভাবে অংশগ্রহণ করনে।

র‍্যালি শেষে অনুষ্ঠতি হয় স্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা যেখানে   মুন্সগিঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরবিার পরকিল্পনা অধদিপ্তর এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ মাসিক কালীন পরচ্ছিন্নতা, সঠিক স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে গুরুত্ব এবং অপরচ্ছিন্নতা জনতি স্বাস্থ্যঝুঁকি সর্ম্পকে বিস্তারিত আলোচনা করনে। বক্তারা বলনে, কিশোরীদের মাসিক নিয়ে সঠিক জ্ঞান ও পরচ্ছিন্ন উপকরণরে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলে অনকে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তাঁরা মাসিক স্বাভাবকি শারীরিক প্রক্রিয়া হসিবেে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে পরবিার ও সমাজে ইতিবাচক ভূমকিার ওপর গুরুত্বারোপ করনে।

সচতেনতা বৃদ্ধরি লক্ষ্যে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতকি অনুষ্ঠান। নাটিকা, গান ও সচতেনতামূলক পরবিশেনার মাধ্যমে মাসিক স্বাস্থ্য বিধি র্বাতা সহজবোধ্যভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানস্থলে একটি “হাইজনি র্কনার” স্থাপন করা হয়, যেখানে কিশোরী ও তরুণীদরে মাসিক কালীন পরচ্ছিন্নতা সর্ম্পকে হাতে কলমে দিক নির্দেশনা

দেওয়া হয় এবং বিনামূল্যে সেনিটারী ন্যাপকনি বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বহির বিভাগের তত্ত্বাবধানে একটি “কাউন্সেলিং র্কনার” পরিচলতি হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যর্কমীদরে সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পরার্মশ ও তথ্য সংগ্রহ করার সুযোগ পাবেন সহায়ক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন

বক্তারা মাসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচতেনতা সৃষ্টি ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোরদেন এবং এ ধরনরে র্কমসূচি ভবষ্যিতে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

Ads small one

সুখের পেছনে ছুটা নয়/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
সুখের পেছনে ছুটা নয়/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

“সুখ হলো একটি প্রজাপতির মতো। তুমি যত তাকে তাড়া করবে, ততই সে তোমার নাগালের বাইরে চলে যাবে। কিন্তু যদি তুমি শান্তভাবে বসে থাকো, তবে হয়তো সে নিজেই এসে তোমার কাঁধে বসবে।”Ñবিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক ন্যাথানিয়েল হথর্নের এই উক্তিটি শুধু একটি সুন্দর উপমাই নয়; এটি মানুষের জীবনবোধের এক গভীর দর্শন। আধুনিক সভ্যতার দ্রুতগতির জীবন, প্রতিযোগিতার চাপ এবং ভোগবাদী মানসিকতার ভিড়ে এই কথাটি যেন আজ আরও বেশি সত্য হয়ে উঠেছে। মানুষ আজ সুখের জন্য যত বেশি ছুটছে, সুখ যেন ততই অধরা হয়ে পড়ছে। মানুষের জীবনের প্রতিটি প্রচেষ্টার কেন্দ্রে থাকে সুখের অনুসন্ধান।

 

শিশুর পড়াশোনা, তরুণের কর্মজীবন, ব্যবসায়ীর বিনিয়োগ, কৃষকের মাঠে পরিশ্রম, শিল্পীর সৃষ্টিকর্ম কিংবা রাজনীতিবিদের জনসেবাÑসবকিছুর পেছনেই কোথাও না কোথাও সুখের আকাক্সক্ষা কাজ করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সুখ কি সত্যিই এমন কিছু, যা কেবল অর্জনের মাধ্যমে পাওয়া যায়? নাকি সুখ এমন এক অনুভূতি, যা আমাদের মনোজগতের গভীরে লুকিয়ে থাকে? আজকের পৃথিবীতে সাফল্যের সংজ্ঞা অনেকটাই বস্তুগত অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। কে কত বড় বাড়ির মালিক, কার গাড়ি কত দামি, কে কত অর্থ উপার্জন করেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার অনুসারী কতÑএসব দিয়ে অনেকেই সুখের পরিমাপ করতে চান। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে। পৃথিবীর বহু ধনী মানুষও মানসিক অবসাদ, উদ্বেগ ও একাকীত্বে ভোগেন।

 

আবার সীমিত আয়ের বহু মানুষকে দেখা যায় পরিবার, প্রকৃতি ও আন্তরিক সম্পর্কের মধ্যেই পরম তৃপ্তিতে জীবন কাটাতে। অর্থাৎ সুখের সঙ্গে অর্থের সম্পর্ক থাকলেও সুখের উৎস কেবল অর্থ নয়। অর্থ মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে, নিরাপত্তা দেয়, সুযোগ সৃষ্টি করে; কিন্তু মনের শান্তি কিনে দিতে পারে না। একটি নির্দিষ্ট সীমার পর অর্থের পরিমাণ বাড়লেও সুখের পরিমাণ সমানুপাতিকভাবে বাড়ে না। বরং নতুন সম্পদ নতুন দায়িত্ব, নতুন উদ্বেগ এবং নতুন প্রতিযোগিতার জন্ম দেয়। বর্তমান সমাজে সুখকে সবচেয়ে বেশি দূরে ঠেলে দিচ্ছে তুলনার সংস্কৃতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন আমরা অন্যের সাজানো জীবন দেখি।

 

কারও বিদেশ ভ্রমণ, কারও নতুন গাড়ি, কারও সাফল্যের গল্প কিংবা বিলাসবহুল জীবনযাপন দেখে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে হয়। অথচ আমরা ভুলে যাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ তার জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোই প্রকাশ করে; ব্যর্থতা, কান্না, হতাশা কিংবা একাকীত্ব খুব কমই প্রকাশ পায়। এই তুলনা মানুষের মনে অপ্রাপ্তির বোধ সৃষ্টি করে। ফলে নিজের জীবনের ছোট ছোট আনন্দগুলোও আর চোখে পড়ে না। যে মানুষ গতকাল পর্যন্ত নিজের পরিবার, সন্তান কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পেতেন, আজ তিনি অন্যের জীবন দেখে নিজের সুখকেও অসম্পূর্ণ ভাবতে শুরু করেন। এভাবেই সুখ ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়।

 

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের মন খুব দ্রুত নতুন অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। এটিকে বলা হয় হেডোনিক অ্যাডাপটেশন। অর্থাৎ যে জিনিসটি একসময় আমাদের খুব আনন্দ দেয়, কিছুদিন পর সেটিই স্বাভাবিক হয়ে যায়। নতুন ফোন, নতুন বাড়ি, নতুন চাকরি বা পদোন্নতির আনন্দও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তখন আবার নতুন কিছু পাওয়ার আকাক্সক্ষা তৈরি হয়। এই অন্তহীন চক্রের মধ্যেই মানুষ সুখের পেছনে ছুটতে থাকে, কিন্তু স্থায়ী প্রশান্তি খুঁজে পায় না।বাংলার প্রাচীন দর্শন দর্শনÑসবখানেই সুখের মূল উৎস হিসেবে অন্তরের শান্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বুদ্ধও বলেছেন, আকাক্সক্ষাই দুঃখের মূল কারণ। আকাক্সক্ষা যত বাড়বে, অস্থিরতাও তত বাড়বে। আবার আকাক্সক্ষাকে পুরোপুরি ত্যাগ নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যেই রয়েছে মুক্তির পথ।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তাঁর বহু রচনায় সুখকে বাহ্যিক অর্জনের পরিবর্তে অন্তরের বিকাশের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর দর্শনে মানুষ তখনই সত্যিকারের সুখী হয়, যখন সে প্রকৃতির সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে এবং নিজের অন্তরের সঙ্গে সুর মিলিয়ে চলতে পারে। জীবনানন্দ দাশের কবিতাতেও প্রকৃতির নির্জন সৌন্দর্যের মধ্যে যে প্রশান্তির সন্ধান পাওয়া যায়, তা আমাদের শেখায়Ñসুখ সব সময় কোলাহলের মধ্যে থাকে না। আজকের শিশু-কিশোররাও এই অস্থিরতার শিকার। পরীক্ষার ফল, প্রতিযোগিতা, ক্যারিয়ারের চাপ এবং অভিভাবকদের অতিরিক্ত প্রত্যাশা তাদের শৈশবের আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে। তারা ভালো মানুষ হওয়ার আগে সফল মানুষ হওয়ার শিক্ষা পাচ্ছে। ফলে সাফল্য এলেও আনন্দ অনেক সময় আসে না।

 

শিক্ষা যদি কেবল প্রতিযোগিতা শেখায়, কিন্তু জীবনকে উপভোগ করতে না শেখায়, তবে সেই শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। একই ছাদের নিচে বসবাস করেও অনেক পরিবারে আন্তরিক আলাপের সময় নেই। সবাই ব্যস্ত নিজের কাজ, নিজের মোবাইল কিংবা নিজের জগৎ নিয়ে। অথচ একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় সম্পদ অর্থ নয়; পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান এবং সময়। যে পরিবারে আন্তরিক সম্পর্ক থাকে, সেখানে সীমিত সম্পদেও সুখের অভাব হয় না। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সুখ একটি সামাজিক বিষয়ও।

 

যে সমাজে বৈষম্য কম, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য, শিক্ষা সবার নাগালে এবং মানুষ একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীলÑসেই সমাজে মানুষ তুলনামূলক বেশি সুখী থাকে। অন্যদিকে দুর্নীতি, বৈষম্য, বেকারত্ব, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তা মানুষের মানসিক প্রশান্তিকে নষ্ট করে দেয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উন্নয়নের লক্ষ্য যদি কেবল মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি হয়, আর মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চর্চা উপেক্ষিত থাকে, তবে সেই উন্নয়ন পূর্ণতা পায় না। উন্নয়নের প্রকৃত মানদ- হওয়া উচিত মানুষের জীবনমান, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সুখের অনুভূতি।

সুখের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কৃতজ্ঞতা। আমরা যা পাইনি, তা নিয়েই বেশি ভাবি; অথচ যা পেয়েছি, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যাই। সুস্থ শরীর, পরিবারের ভালোবাসা, বন্ধুদের আন্তরিকতা, প্রতিদিনের সূর্যোদয় কিংবা একটি শান্ত সন্ধ্যাÑএসবের মূল্য অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না। অথচ এসবই জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। মানুষ যখন অন্যের উপকার করে, সমাজের জন্য কিছু করে কিংবা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তখন তার মনে যে আনন্দ জন্ম নেয়, তা কোনো বস্তুগত অর্জনের সঙ্গে তুলনীয় নয়।

 

গবেষণায়ও দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, দান এবং সামাজিক অংশগ্রহণ মানুষের মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি করে। কারণ মানুষ স্বভাবগতভাবেই সামাজিক প্রাণী; অন্যের সুখের সঙ্গে নিজের সুখও জড়িয়ে থাকে। প্রকৃতিও সুখের এক অনন্য উৎস। অথচ আধুনিক নগরজীবনে মানুষ প্রকৃতি থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। নদী, গাছ, পাখি, খোলা আকাশ কিংবা বৃষ্টির শব্দÑএসবের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কমে যাচ্ছে। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার মধ্যেও যে গভীর মানসিক প্রশান্তি রয়েছে, তা আজ বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও প্রমাণিত।

 

প্রজাপতির উপমাটি আমাদের আরও একটি শিক্ষা দেয়। প্রজাপতি কখনো কোলাহল পছন্দ করে না। শান্ত পরিবেশেই সে বসে। সুখও তেমনই। অস্থিরতা, লোভ, অহংকার, হিংসা এবং অযথা প্রতিযোগিতার মধ্যে সুখ বেশিক্ষণ থাকে না। সুখ আসে তখনই, যখন মানুষ নিজের ভেতরে শান্তির একটি আশ্রয় গড়ে তুলতে পারে। তাই সুখের জন্য লক্ষ্যহীন হয়ে বসে থাকাও সমাধান নয়। মানুষকে অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে, স্বপ্ন দেখতে হবে, সাফল্যের জন্য চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু সেই চেষ্টা যেন অস্থিরতা, লোভ বা আত্মবিনাশের কারণ না হয়। কাজের প্রতি নিষ্ঠা থাকবে, কিন্তু ফলের প্রতি অতি-আসক্তি থাকবে না। অর্জনের আনন্দ থাকবে, কিন্তু প্রাপ্তির অহংকার থাকবে না। এই ভারসাম্যই মানুষকে প্রকৃত সুখের কাছাকাছি নিয়ে যায়।

 

আমরা যদি সন্তানদের কেবল সফল নয়, সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি; যদি পরিবারে একসঙ্গে বসে কথা বলার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে পারি; যদি সমাজে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারি; যদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও মানবিকতাকে গুরুত্ব দিইÑতবেই সুখী সমাজ গড়ার পথে এগোনো সম্ভব। শেষ পর্যন্ত সুখ কোনো গন্তব্য নয়, কোনো পুরস্কারও নয়। সুখ হলো জীবনযাপনের একটি শিল্প। এটি ছোট ছোট মুহূর্তে, আন্তরিক সম্পর্কের উষ্ণতায়, কৃতজ্ঞতার অনুভূতিতে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে এবং নিজের সঙ্গে নিজের শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। প্রজাপতিকে ধরতে দৌড়ালে সে উড়ে যায়। কিন্তু ফুলে ভরা একটি সুন্দর বাগান তৈরি করলে প্রজাপতি নিজেই সেখানে আসে।

 

মানুষের জীবনও ঠিক তেমন। সুখের পেছনে অন্ধভাবে ছুটে বেড়ানোর চেয়ে এমন একটি সুন্দর, সৎ, সংযমী ও মানবিক জীবন গড়ে তোলাই শ্রেয়, যেখানে সুখ নিজেই একদিন নীরবে এসে আমাদের কাঁধে বসবে। তখন সুখ আর ক্ষণিকের অনুভূতি থাকবে না; তা হয়ে উঠবে জীবনযাপনের স্বাভাবিক সঙ্গী।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

প্রাকৃতিক ব্রাশ : দাঁতের যত্নে নিম ডাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
প্রাকৃতিক ব্রাশ : দাঁতের যত্নে নিম ডাল

‎তারিক ইসলাম

‎ডিজিটাল যুগের আধুনিক বিজ্ঞাপনের ঝলকানিতে আমরা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন টুথপেস্ট ও টুথব্রাশের মুখোমুখি হচ্ছি। কেমিক্যালযুক্ত পণ্য আর মেকানিক্যাল ব্রাশের ভিড়ে আমরা ভুলে যেতে বসেছি আমাদের পূর্বপুরুষদের শতবর্ষী স্বাস্থ্যচর্চার অভ্যাসগুলো। গ্রামীণ জীবনের সেই চেনা দৃশ্য-সকালে ঘুম থেকে উঠে নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজা-কেবলই একটি প্রাচীন প্রথা ছিল না, বরং এর পেছনে লুকিয়ে ছিল নিবিড় বৈজ্ঞানিক ভিত্তি।

‎বর্তমান আধুনিক দন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভেষজ উপায়ের কার্যকারিতাকে স্বীকার করে নিয়েছে। নিমের ডাল দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করার ঐতিহ্যিক এই অভ্যাসের রয়েছে বহুমুখী স্বাস্থ্যগত উপকারিতা।

‎প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাংগাল উপাদান :
‎নিমের ডালে রয়েছে ‘নিমবিন’, ‘নিমবিডিন’ ও ‘মারগোসিন’ নামক শক্তিশালী জৈব উপাদান। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো মুখের ভেতরের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকরী। আধুনিক টুথপেস্টে ব্যবহৃত কৃত্রিম উপাদানের বিপরীতে নিম সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে মুখগহ্বরের ক্ষতিকারক জীবাণু দমন করে।

‎পায়োরিয়া ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধ :
‎মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মাড়ি ফুলে যাওয়া বা পায়োরিয়ার মতো সমস্যায় নিম ডাল ব্যবহারে অলৌকিক উপকার পাওয়া যায়। নিমের প্রদাহনাশক উপাদান মাড়ির টিস্যুকে শক্ত ও সতেজ রাখে। নিয়মিত নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যায়।

‎মুখের দুর্গন্ধ দূরীকরণ :
‎মুখের দুর্গন্ধের প্রধান কারণ হলো দাঁতের খাঁজে জমে থাকা অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া। নিমের প্রাকৃতিক তিতকুটে রস ও সুবাস এই ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে দীর্ঘ সময় মুখ সতেজ ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখে। কোনো কৃত্রিম মাউথওয়াশ নিমের মতো দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ সুরক্ষা দিতে পারে না।

‎প্লাক ও ক্যাভিটি প্রতিরোধ :
‎দাঁতের ওপর জমে থাকা মেচেতা বা ‘প্লাক’ হলো ক্যাভিটি বা দাঁত ক্ষয়ের প্রধান কারণ। নিম ডাল চিবিয়ে তৈরি করা মেছওয়াক (প্রাকৃতিক ব্রাশ) দাঁতের এনামেলকে ক্ষতিগ্রস্ত না করেই দাঁতের ফাঁকে থাকা প্লাক ও খাবারের কণা দূর করতে সাহায্য করে। নিমের প্রাকৃতিক রস এসিডিক প্রভাব কমিয়ে মুখের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে, ফলে দাঁত ক্ষয়ের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

‎রাসায়নিক মুক্ত মুখগহ্বরের যতœ :
‎বাজারে প্রচলিত অনেক টুথপেস্টে ট্রাইক্লোসান, সোডিয়াম লরিল সালফেট এবং কৃত্রিম সুগন্ধি থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। নিম ডাল ব্যবহারে এই ধরণের কোনো রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থাকে না। এটি সম্পূর্ণ ১০০% প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব।

‎আমাদের যান্ত্রিক জীবনে যেখানে সুস্থ থাকার জন্য প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে ফিরে যাওয়ার জোয়ার উঠেছে, সেখানে আমাদের নিজস্ব লোকজ ঐতিহ্য নিমের ব্যবহারকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে প্রতিদিন সম্ভব না হলেও সপ্তাহে অন্তত দুই-একদিন সকালে প্রাকৃতিক নিমের ডাল বা অর্গানিক নিম ভিত্তিক সামগ্রী ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

‎সামান্য সদিচ্ছা আর প্রাচীন এই অভ্যাসের চর্চা আমাদের উপহার দিতে পারে রাসায়নিক মুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর এক চিলতে অমলিন হাসি।

‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

কালিগঞ্জে মবের মাধ্যমে সুমাইয়া হত্যার অভিযোগে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে মবের মাধ্যমে সুমাইয়া হত্যার অভিযোগে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা হত্যার ঘটনায় সন্ধিগ্ধ সুমাইয়াকে মব সৃষ্টির মাধ্যমে হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার নিহতের পিতা মোঃ আব্দুল লতিফ শেখ বাদি হয়ে আট জনের নাম উল্লেখ করে এ মামলা দায়ের করেন। সাতক্ষীরার আমলী আদালত-২ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মেহেদী হাসান এ ঘটনায় কোন অপমৃত্যু বা হত্যা মামলা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করার জন্য কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
মামলার বাদি তৌফিক শেখ কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের কলুইমেদে এলাকার ফজর আলী শেখের ছেলে ও একটি ঘেরের পাহারাদার।

মামলার আসামীরা হলেন, কাশিবাটি গ্রামের এন্তোফা মোড়লের ছেলে হামিদুল মোড়ল, একই গ্রামের আব্দুল গফফার খানের ছেলে হুসাইন খাঁন, রাজু আহম্মেদ এর ছেলে রাফি ইসলাম, রমজান আলী খাঁনের ছেলে রেজাউল ইসলাম খান, রফিকুল ইসলাম খাঁনের ছেলে নাজিম খাঁন, ইমান আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন, নিহত সুমাইয়ার ভাসুরের ছেলে হাফিজুল ইসলাম সরদারের ছেলে তৌফিক হোসেন ও নওয়াপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শামীম হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ১২ জন।

অভিযোগ, লতিফ শেখ হত্যাকারিদের নাম উল্লেখ করে রবিবার আদালতে মামলা করবেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় আসামীদের বাঁচাতে নিহত সুমাইয়ার জামাতা আমিরুলের উপর প্রভাব বিস্তার করে প্রকৃত ঘটনা উহ্য রেখে কারো নাম উল্লেখ না করে যেনতেন প্রকারে শনিবার রাতেই একটি হত্যা মামলা দায়ের করিয়েছেন একটি প্রভাবশালীমহল।

ঘটনার বিবরণ ও লতিফ শেখের দায়েরকৃত মামলা থেকে জানা যায়, একই গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা স্থানীয় কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। ফারজানার পরিবারের সাথে তার মেয়ে সুমাইয়ার পরিবারের সুসম্পর্ক ছিলো। প্রতিদিনের ন্যয় গত ২০ জুলাই সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে যায় ফারজানা। দুপুর একটার পর টিফিনের সময় প্রতিদিনের ন্যয় সে বাড়িতে না আসায় তার অভিভাবকগণ বিদ্যালয়ে যাইয়া সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে অবহিত করে মাইকিং করা হয়। বিকেল তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এ সময় পুলিশ ও ফারজানার স্বজনরা মুঠোফোনে সুমাইয়াকে অবহিত করলেও তাকে বাড়ি ফিরতে বলে। দাওয়াত থেকে ভূমিহীন জনপদ চিংড়িখালি শ^শুরবাড়িতে অবস্থান করা সুমাইয়া তার শ^াশুড়ি তৌফিকা ও মা নাছিমাকে নিয়ে বিকেল ৫টার দিকে বাড়িতে চলে আসে।

 

খবর পেয়ে বাবা লতিফ শেখকে অবহিত করে তাকে নিয়ে বোনের বাড়িতে আসে আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে ফারাজানা সম্পর্কে কোন তথ্য জানেনা মর্মে অবহিত করলে তাকে চড় থাপ্পড় মারা হয়। পুলিশ তাকে নিজ জিম্মায় নেয়। উক্ত সময় আসামীগণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থিত শতশত জনগণকে উত্তেজিত করিয়ে জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে উঠানে থাকা ইট নিয়ে সুমাইয়ার দুইটি বসতঘরে ঢুকে লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও ইট দিয়ে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ঘরে থাকা দুটি খাট, দুটি আলমারি, একটি ফ্রিজ, ঘরের চাল, দেওয়াল, দরজা ভাংচুর করে পরে পশ্চিম পাশের ঘরের বিছানাপত্রে আগুণ লাগিয়ে ৩০ হাজার টাকার মালামাল ক্ষতি করে। পরে আগুন নিভিয়ে দেওয়া হয়। মাগরিবের নামাজের পর আসামীরা বাড়িল বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে দিয়ে সুমাইয়ার কাছ থেকে চাবি না নিয়ে পশ্চিম পাশের্^র ঘরের তালা ভাঙে। ঘরের মধ্যে তখন ফারাজানার সন্ধান মেলেনি।

 

রাত সোয়া সাতটার দিকে আবারো বাড়ির আলো বন্ধ করে ওই ঘরের আলো নিভিয়ে আবারো তল্লাশি চালায় আসামীরা। এ সময় কোন প্রকারে কাঠের জানালার পাল্লা লাগিয়ে রাখা ওই ঘরের দেয়াল আলমারির ড্রয়ারে রাখা হাত-পা বাঁধা সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করে আসামীরা। এরপর বারান্দায় অবস্থানকারি পুলিশের কাছ থেকে সুমাইয়াকে আসামীরা ছিনিয়ে নিয়ে চড় ও থাপ্পড় মারতে মারতে উঠানে চিৎ করে ফেলে দিয়ে ইট ও হাতুড়ি দিয়ে মুখম-ল, মাথা ও গলাসহ বিভিন্নস্থান থেঁতেলে দেয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে ইন্দ্রনগর মোড়ে যেয়ে অবস্থান করে। পাশবিক নির্যাতনে সুমাইয়ার কয়েকটি দাঁত ছাড়িয়ে পড়ে যায়। রাত সাড়ে আটটার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার করে।

 

পুলিশ সুমাইয়ার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরদিন সুমাইয়ার লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সুমাইয়ার লাশ এলাকায় দাফন করতে দেওয়া হবে না মর্মে প্রভাবশালীরা হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ২২ জুলাই রাত ১১টার দিকে মর্গ থেকে সুমাইয়ার লাশ নিয়ে রাত সাড়ে ১২টার পর কলুইমেদে খালপারে দাফন করা হয়। মর্গ থেকে লাশ নেওয়ার সময় মৃত্যসংক্রান্ত কাগজপত্র চাইলে থানা ও প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে নিতে হবে বলে তাদেরকে জানানো হয়।

 

প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য হামিদ মোড়লসহ কয়েকজনকে সুমাইয়া হত্যার দায় থেকে বাঁচাতে তাদেরকে ফারজানা হত্যা মামলার সাক্ষী বানিয়ে সুমাইয়ার ভাই আল মামুনকে আসামী করা হয়। যাতে সুমাইয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা না করা হয় সেজন্য লতিফ শেখ, তার ভাই রবিউল শেখকে হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। মামলা করলেও ওই প্রভাবশালি জনপ্রতিনিধির কথার বাইরে কারো নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করা যাবে না মর্মে জানতে পেরে আব্দুল লতিফ রবিবার আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে আব্দুল লতিফকে নিজ অফিসে ডেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে থানায় গেলে অজ্ঞাতনামা আসামীদের মামলা হয়ে যাবে বলে জানিয়ে দেন ওই জনপ্রতিনিধি।

মামলায় (সিআর-৬২১/২৬ নং কালিঃ) আরো উল্লেখ করা হয়, ফারজানার মৃত্যু সংক্রান্ত সুমাইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে তার কোন প্রকার সম্পৃক্ততার সত্যতা না পাওয়া স্বত্বেও উল্লেখিত আসামীগণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিকটিম সুমাইয়ার বসতঘরসহ বসতঘরে রক্ষিত উল্লেখিত জিনিসনপত্রাদি ভাংচুর করে এবং একপর্যায়ে আগুণ দিয়া জ¦ালাইয়া দেয়। ফারজানার মৃত্যু সংক্রান্ত ঘটনায় সুমাইয়ার সম্পৃক্ততার সুষ্ঠু বিচারের জন্য আইনে সোপর্দ না করে আসামীরা নিজেদের হাতে আইন তুলে নিয়ে নির্দয় ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে আইনতঃ শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। মেয়ের উপর সহিংসতার বর্ণনা দেওয়ার একপর্যায়ে সুমাইয়া ও ফারজানা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন লতিফ শেখ।

অপরদিকে প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি জানতে পারেন যে, লতিফ শেখ আদালতে রবিবারে মামলা করবেন জানতে পেরে ও কালিগঞ্জ থানার পুলিশের সঙ্গে কথা বলে তড়িঘড়ি করে নিহত সুমাইয়ার স্বামী আমিরুল ইসলামকে শনিবার সন্ধ্যায় থানায় পাঠান। লাশ দাফন নিয়ে বিপাকে পড়া, ঘরপোড়ানা ও খুনের সহিংসতার কথা না লিখে প্রকৃত ঘটনার তথ্য গোপন করে সাক্ষী ও আসামীর নাম উল্লেখ না করে রাতেই একটি হত্যা মামলা (জিআর-১৬৮/২৬ কালিঃ) দায়ের করানো হয়। মামলায় আমিরুল উল্লেখ করেছে, গত ২৯ জুন থেকে মাদারীপুরে রং মিস্ত্রীর কাজ করে সে। ২০ জুলাই সকালে স্ত্রী তাকে কিস্তির টাকা পরিশোধ করার জন্য ফোন করে জানায়। টাকা না দিলে তাকে হেনস্তা করা হতে পারে। সে এক হাজার টাকা পাঠানোর কথা বলে। একই দিনে ফেইসবুকের মাধ্যমে স্ত্রীকে হত্যা করার খবর পান। স্ত্রীকে অজ্ঞাতনামা লোকজন মারপিট করে হত্যা করেছে। ভাংচুর করা হয়েছে চার লাখ টাকার মালামাল।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোসলেমউদ্দিন বলেন, ফারজানার হত্যার বিপরীতে সুমাইয়াকে মব সৃষ্টি করে হত্যা ন্যয় বিচার ও আইনের পরিপন্থি।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, মোঃ আব্দুল লতিফ শেখকে থানায় এসে মামলা করার ব্যাপারে নির্ভয় দেওয়া হয়। এরপরও এ ধরণের স্পর্শকাতর হত্যাকা-ে নিহতের পিতাকে না পেয়ে নিহতের স্বামী আমিরুল ইসলাম বাদি হয়ে শনিবার থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তভার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামানের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। দুটি হত্যাকা-ে পুলিশ তদন্ত করছে। ফারজানা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল আমিনের রিমা- শুনানী আগামি মঙ্গলবার।