শ্যামনগরে শিলাবৃষ্টির তা-ব, বজ্রপাতে প্রাণহানি
সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে আকস্মিক কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার ঈশ্বরীপুর, কৈখালী, রমজাননগর ও মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। বড় আকৃতির শিলার আঘাতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো করে ধেয়ে আসে ঝড়ো হাওয়া। ঈশ্বরীপুরের শিক্ষক কৃষ্ণ দাস মাঝি জানান, ধূমঘাট, শ্রীফলকাটি ও মানিকখালীসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বড় বড় শিলা পড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে ধূমঘাট আদর্শ স্কুল মাঠসহ আশপাশের এলাকা শিলার স্তূপে সাদা হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদি হাসান বলেন, “এর আগে এত বড় মাপের শিলাবৃষ্টি খুব কমই দেখা গেছে।”
প্রকৃতির এই রুদ্ররোষে প্রাণ হারিয়েছেন নূরনগর ইউনিয়নের কুলতলি এলাকার ইয়াকুব আলী (৫৫)। বিকেলে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় তিনি খোলা স্থানে থাকায় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হঠাৎ এই শিলাবৃষ্টিতে কপালে ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন কুমার মন্ডল জানান, এই সময়ে শিলাবৃষ্টির কারণে মাঠের বোরো ধান, তরমুজ ও আমের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তিনি বলেন, “বোরো ধান এখন ফলার মুখে। এই অবস্থায় শিলার আঘাতে ধানের শীষ ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি দানা চিটা হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আম ও তরমুজ চাষিরাও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।” বসন্তের শেষে এমন দুর্যোগ উপকূলীয় এই অঞ্চলের মানুষের সোনালি স্বপ্নের ওপর বড় এক আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগ বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে।









