শ্যামনগরে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, দিশাহারা কৃষক
রমজাননগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ও রমজাননগর ইউনিয়নে টানা চার দিনের শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে বোরো ধানসহ মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একদিকে তীব্র তাপদাহ, অন্যদিকে আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সোনালি ফসল হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় এই অঞ্চলের কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা দুর্যোগে মাঠের পাকা ধান এখন পানির নিচে। বিশেষ করে ব্রি-২৮ জাতের ধান ও কাটার পর শুকানোর জন্য প্রস্তুত রাখা ধান সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় কৃষকদের চোখেমুখে এখন শুধুই হতাশার ছাপ।
রমজাননগর ইউনিয়নের কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমার কয়েক বিঘা ব্রি-২৮ ধান এখনো পানির নিচে ডুবে আছে। কাটার পরেও ধান ঘরে তুলতে পারিনি।” একই এলাকার কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, ধানের থোড় আসার সময় একবার ঝড়ে ক্ষতি হয়েছিল। অনেক কষ্টে ওষুধ ছিটিয়ে ফসল কিছুটা রক্ষা করলেও এখন কাটার শেষ সময়ে এসে সব পানিতে তলিয়ে গেল।
ধানের পাশাপাশি বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে উপকূলের জনপ্রিয় ফল তরমুজ চাষেও। চাষিরা জানান, দীর্ঘ খরা ও তীব্র তাপদাহের কারণে এবার তরমুজের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। কৈখালী ইউনিয়নের যে তরমুজ সারা দেশে সরবরাহ করা হতো, এবার সেই ফলন না হওয়ায় এবং যা হয়েছিল তা ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে কৃষকদের। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আতিয়ার রহমান, শাহাজান সিরাজ ও মিজানুর রহমানসহ অনেকেই জানান, সারের দোকান ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তাঁরা চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল ঘরে না তুলতে পারায় সেই ঋণ শোধ করা নিয়ে তাঁরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
কৃষকদের দাবি, এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারি সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা না পেলে অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি আগামীতে চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নিরূপণ করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।







