সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: গভীর সমুদ্রের জেলেদের হাহাকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: গভীর সমুদ্রের জেলেদের হাহাকার

বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে মৎস্য সম্পদ। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ উপেক্ষা করে যারা আমাদের পাতে রূপচাঁদা, ভোল বা লইট্যার মতো সুস্বাদু মাছ তুলে দেন, সেই মৎস্যজীবীদের জীবনের গল্পটি রূপকথার মতো সুন্দর নয়; বরং তা অভাব, অনিশ্চয়তা আর দাদনের জালে বন্দী। সম্প্রতি সাতক্ষীরার উপকূলীয় জেলেদের জীবনচিত্র নিয়ে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা আমাদের নীতিনির্ধারণী মহলের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।
সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। উদ্দেশ্য মহৎ-মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। কিন্তু এই মহৎ উদ্দেশ্যের বিপরীতে যে কয়েক লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন, তাদের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো অসম্পূর্ণ। সাতক্ষীরা জেলায় নিবন্ধিত ৪৯ হাজার জেলের মধ্যে মাত্র ১২ হাজার ৮৮৯ জন সরকারি খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ) পাচ্ছেন। অথচ বাস্তব চিত্র হলো, নিবন্ধনের বাইরে রয়েছেন আরও প্রায় লক্ষাধিক জেলে। এই বিশাল জনগোষ্ঠী নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো সহায়তা তো পাচ্ছেনই না, উল্টো জীবন কাটাতে হচ্ছে চরম ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে।
জেলেদের সংকটের তিনটি প্রধান দিক লক্ষণীয় তা হলোÑ সরকারিভাবে যে ৭৭.৩৩ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে, বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে তা একটি পরিবারের জন্য সমুদ্রের নোনা জলের মতো সামান্য। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, শুধু চাল দিয়ে সংসার চলে না; এর সঙ্গে তেল, নুন, ডাল ও নগদ অর্থের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। বছরের পর বছর সাগরে জীবন বাজি রাখলেও লক্ষাধিক জেলের নাম তালিকায় না থাকাটা বড় ধরণের প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এতে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গভীর সমুদ্রের জেলেরা শুধু প্রকৃতির সাথে লড়েন না, তাদের লড়তে হয় দস্যু বাহিনীর সাথেও। মইন বা জাহাঙ্গীর বাহিনীর মতো জলদস্যুদের মুক্তিপণের দাবি উপকূলীয় পরিবারগুলোকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্যে কিছু আশার আলো দেখা গেছে। চালের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের যে প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন মহলে পাঠানো হয়েছে, তার বাস্তবায়ন জরুরি। জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলা এবং সরকারি পুকুরগুলো ইজারার ক্ষেত্রে জেলে সমিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তাদের দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব।
মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার সময়ে জেলেরা যেন অনাহারে না থাকেন এবং তাদের সন্তানদের যেন শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, সরকার দ্রুত অনিবন্ধিত জেলেদের তালিকাভুক্ত করে তাদের ডাটাবেজ তৈরি করবে এবং শুধু চাল নয়, বরং ‘পূর্ণাঙ্গ রেশনিং ও সুরক্ষা প্যাকেজ’ প্রবর্তন করবে। উপকূলের এই সাহসী সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা ও অন্নের নিশ্চয়তা দিতে না পারলে আমাদের বিশাল সমুদ্র জয় বা ‘ব্লু ইকোনমি’র স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে।

Ads small one

শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী ভাঙন পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী ভাঙন পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দূর্গাবাটী-মাদীয়া সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ড. মোঃ মনিরুজ্জামানসহ বিএনপির উপজেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০ টার দিকে তারা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

 

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সোলাইমান কবির, আশেক ইলাহী মুন্না, পদ্মাপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, সাবেক সেনা সদস্য বুড়গোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী জিএম রুস্তম আলী, ইউনিয়ন যুবদলপর সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহবায়ক ওহিদুজ্জামান প্রমুখ।

এসময় নদী ভাঙনের কারণে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ, বসতভিটা ও ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন নেতৃবৃন্দ। এলাকাবাসী জানান, খোলপেটুয়া নদীর তীব্র স্্েরাত ও জোয়ারের চাপে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকা। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

পরিদর্শনকালে ড. মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

সর্বশেষ পানিউন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় বালু ভর্তি জিও বস্তা ডাম্পিং করছেন, বিষয়ে তাদেরকে ধন্যবাদ জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা। পরিদর্শন শেষে দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

গাইবান্ধায় ট্রাক চাপায় সাবেক দায়রা জজ নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
গাইবান্ধায় ট্রাক চাপায় সাবেক দায়রা জজ নিহত

অনলাইন ডেস্ক: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ট্রাক চাপায় আউয়াল সরকার নামের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকালে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।

 

রোববার (২৪ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দরগঞ্জ-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বামনডাঙ্গা ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

আউয়াল সরকারের বাড়ি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনিরাম গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী সরকারের ছেলে। তিনি সাবেক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ। পেশাজীবনে তিনি রংপুর, লালমনিরহাট, বাগেরহাট, গাজীপুর, ঢাকা ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরি শেষে তিনি গাইবান্ধা জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করছিলেন।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানান,গতকাল রোববার রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে গাইবান্ধা শহর থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন।

 

পথে বামনডাঙ্গা ফিলিং স্টেশন এলাকায় এলে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গেলে ট্রাকটি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

 

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, লাশ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ট্রাকটি আটক করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

চোর গেল জেলে, আলামত গরু নিয়ে বিপাকে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ি!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
চোর গেল জেলে, আলামত গরু নিয়ে বিপাকে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ি!

জি আমিনুল হক: অনলাইন জুয়া খেলে সব হারিয়ে অবশেষে মাঠ থেকে গরু চুরি করে হাটে বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ল চোর। বিজ্ঞ আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠালো, কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে মামলার ‘আলামত’ হিসেবে এখন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আটক রয়েছে একটি কালো রংয়ের এড়ে গরু।

গত ২১ মে দুপুরের পরে গরুটাকে দেবনগর গ্রাম থেকে চুরি করে ব্রহ্মরাজপুর অস্থায়ী কুরবানির পশুর হাটে বিক্রি করা হয়। পরে পাশ করার সময় কতৃপক্ষসহ স্থানীয়দের সন্দেহ হলে বিক্রেতা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার বরজো পাটুরি গ্রামের আদর আলী গাজীর ছেলে মোঃ রাজু হোসেনকে জিজ্ঞাসা করলে সে চুরির কথা স্বীকার করে। বাজার কতৃপক্ষ গরুসহ তাকে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাড়ীতে সোপর্দ করেন।

 

বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে দেবনগর গ্রামের গরীব ভ্যানচালক আবুল কাশেম এসে গরুটি তার বলে সনাক্ত করেন। পরে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্জ এসআই হাবিবুর রহমানের সহযোগিতায় সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার আলামত হিসেবে একমাত্র গরুটি এখন পুলিশ হেফাজতে আছে। আইনি জটিলতায় অবলা গরুর ঠাঁই হয়েছে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাড়ীতে।