মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: গভীর সমুদ্রের জেলেদের হাহাকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: গভীর সমুদ্রের জেলেদের হাহাকার

বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে মৎস্য সম্পদ। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ উপেক্ষা করে যারা আমাদের পাতে রূপচাঁদা, ভোল বা লইট্যার মতো সুস্বাদু মাছ তুলে দেন, সেই মৎস্যজীবীদের জীবনের গল্পটি রূপকথার মতো সুন্দর নয়; বরং তা অভাব, অনিশ্চয়তা আর দাদনের জালে বন্দী। সম্প্রতি সাতক্ষীরার উপকূলীয় জেলেদের জীবনচিত্র নিয়ে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা আমাদের নীতিনির্ধারণী মহলের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।
সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। উদ্দেশ্য মহৎ-মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। কিন্তু এই মহৎ উদ্দেশ্যের বিপরীতে যে কয়েক লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন, তাদের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো অসম্পূর্ণ। সাতক্ষীরা জেলায় নিবন্ধিত ৪৯ হাজার জেলের মধ্যে মাত্র ১২ হাজার ৮৮৯ জন সরকারি খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ) পাচ্ছেন। অথচ বাস্তব চিত্র হলো, নিবন্ধনের বাইরে রয়েছেন আরও প্রায় লক্ষাধিক জেলে। এই বিশাল জনগোষ্ঠী নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো সহায়তা তো পাচ্ছেনই না, উল্টো জীবন কাটাতে হচ্ছে চরম ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে।
জেলেদের সংকটের তিনটি প্রধান দিক লক্ষণীয় তা হলোÑ সরকারিভাবে যে ৭৭.৩৩ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে, বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে তা একটি পরিবারের জন্য সমুদ্রের নোনা জলের মতো সামান্য। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, শুধু চাল দিয়ে সংসার চলে না; এর সঙ্গে তেল, নুন, ডাল ও নগদ অর্থের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। বছরের পর বছর সাগরে জীবন বাজি রাখলেও লক্ষাধিক জেলের নাম তালিকায় না থাকাটা বড় ধরণের প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এতে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গভীর সমুদ্রের জেলেরা শুধু প্রকৃতির সাথে লড়েন না, তাদের লড়তে হয় দস্যু বাহিনীর সাথেও। মইন বা জাহাঙ্গীর বাহিনীর মতো জলদস্যুদের মুক্তিপণের দাবি উপকূলীয় পরিবারগুলোকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্যে কিছু আশার আলো দেখা গেছে। চালের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের যে প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন মহলে পাঠানো হয়েছে, তার বাস্তবায়ন জরুরি। জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলা এবং সরকারি পুকুরগুলো ইজারার ক্ষেত্রে জেলে সমিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তাদের দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব।
মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার সময়ে জেলেরা যেন অনাহারে না থাকেন এবং তাদের সন্তানদের যেন শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, সরকার দ্রুত অনিবন্ধিত জেলেদের তালিকাভুক্ত করে তাদের ডাটাবেজ তৈরি করবে এবং শুধু চাল নয়, বরং ‘পূর্ণাঙ্গ রেশনিং ও সুরক্ষা প্যাকেজ’ প্রবর্তন করবে। উপকূলের এই সাহসী সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা ও অন্নের নিশ্চয়তা দিতে না পারলে আমাদের বিশাল সমুদ্র জয় বা ‘ব্লু ইকোনমি’র স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় অ্যাডভান্স ও ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট কোর্সের পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় অ্যাডভান্স ও ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট কোর্সের পরীক্ষা শুরু

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ বছর মেয়াদী অ্যাডভান্স সার্টিফিকেট ইন ফাইন আর্টস, কম্পিউটার টেকনোলজি ও ফিজিক্যাল এডুকেশন কোর্সের জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০২৬ সেশনের প্রথম পর্ব ও ভেটেরিনারি জুলায়-জুন ২০২৫-২০২৬ সেশনে দ্বিতীয় পর্বের সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষাটি শুরু হয়। এ কেন্দ্রে মোট ৩৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।

কেন্দ্র সচিব ফেরদাউস আরেফিন জানান, সকাল থেকেই সুন্দর ও শান্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার সকল কার্যক্রম বোর্ডের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা ক্রিয়েটিভ ট্রেনিং এন্ড ভেটেরিনারি ইন্সটিটিউটের পরিচালক ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, আমার সব শিক্ষার্থী যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আশা করছি তারা ভালো ফলাফল করবে।

 

কয়রায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
কয়রায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য রেলি বের হয়। সেটি উপজেলার সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদর্শন করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মৃন্ময় কুমারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নির্বাচন অফিসার মোঃ আকবর হোসেন, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ, মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শহিদ সারোয়ার স্বর্ণকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল আমিন প্রমুখ।

৩০ বছর পর সরকারি জমি উদ্ধারে নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
৩০ বছর পর সরকারি জমি উদ্ধারে নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুর পৌরসভা ভবন সংলগ্ন পাবলিক লাইব্রেরির পাশে প্রায় সাত শতক সরকারি জমি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর দখলমুক্ত করেছে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ওই জমি উদ্ধার করা হয়।দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিটি বিভিন্ন দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের অভিযানের পর জমিটি দখলমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় নাগরিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর ভবন সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, পাবলিক লাইব্রেরি ও সরকারি প্রভাতি বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়। গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করায় দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের দিকে প্রভাবশালী একটি মহল নামমাত্র ডিসিআর নিয়ে প্রায় সাত শতক সরকারি জমি দখল করে সেখানে মুরগি, মুদি, মিষ্টি ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিল। পরবর্তীতে নাগরিকদের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট ডিসিআর বাতিল করে সরকার জমিটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ওই জমির একটি অংশ পুনরায় দখল করে পাঁচটি টিনশেড দোকান নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কয়েকজনকে এসব দোকান ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মুরগির দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানো এবং পাশেই অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চা ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। সরকারি জমি দখলমুক্ত করার জন্য নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সুতারং দখলমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং উপজেলা প্রশাসন প্রশাংসায় ভাষছে ।