সম্পাদকীয়/ সংকটে কেশবপুরের অবোলা ঐতিহ্য: দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
যশোরের কেশবপুরের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান। অথচ প্রকৃতির এই সুন্দর সৃষ্টিগুলো আজ চরম খাদ্য সংকটে পড়ে অস্তিত্ব রক্ষায় দিশেহারা। লোকালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওদের আনাগোনা কিংবা মানুষের দুয়ারে গিয়ে আহত হনুমানের চিকিৎসার করুণ আকুতি কেবল খাবারের অভাবকেই তুলে ধরে না, বরং প্রাণী সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার এক বড় দুর্বলতা স্পষ্ট করে তোলে।
বনজ সম্পদের দ্রুত হ্রাস এবং সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে অবোলা প্রাণীগুলো লোকালয়ে এসে নিয়মিত দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার শিকার হচ্ছে। সরকারিভাবে দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ কলা, পাউরুটি, বাদাম ও সবজি বরাদ্দ দেওয়া হলেও চার শতাধিক হনুমানের চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো গণনা না হওয়ায় প্রয়োজনের সঠিক হিসাবও আড়ালে রয়ে যাচ্ছে। প্রাণী ও মানুষের সংঘাত এড়াতে অবিলম্বে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সেগুলো হলোÑ অবিলম্বে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে হনুমানের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ কয়েকগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। বসতবাড়ি ও ফলজ বাগান রক্ষায় নির্দিষ্ট অভয়ারণ্যে পর্যাপ্ত ফলদ গাছ রোপণ ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার। বিপজ্জনক বিদ্যুৎলাইন ও তারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যেন খাদ্যের খোঁজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আর কোনো হনুমানের প্রাণহানি না ঘটে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। কেশবপুরের কালোমুখো হনুমান রক্ষায় বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সময়মতো সঠিক উদ্যোগ না নিলে এই বিরল প্রজাতিটি আমাদের হাত থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।









