রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চুকনগর গণহত্যা: ভদ্রা নদীর রক্তস্রোত আর এক ‘সুন্দরী’র বেঁচে থাকার ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
চুকনগর গণহত্যা: ভদ্রা নদীর রক্তস্রোত আর এক ‘সুন্দরী’র বেঁচে থাকার ইতিহাস

সরদার এম এ মজিদ
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজার। ১৯৭১ সালের ২০ মে এই জনপদেই সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও বৃহত্তম গণহত্যা। ভারতে আশ্রয় নেওয়ার উদ্দেশ্যে আসা ১০ থেকে ১৫ হাজার শরণার্থী সেদিন ট্রানজিট হিসেবে চুকনগর বাজারে জড়ো হয়েছিলেন। বাগেরহাটের রামপাল, মোড়লগঞ্জ, কচুয়া, শরণখোলা, মংলা এবং খুলনার দাকোপ, বটিয়াঘাটাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ঘরবাড়ি, জমিজমার মায়া ত্যাগ করে স্রেফ প্রাণ বাঁচাতে এখানে এসেছিলেন।
১৯ মে রাত থেকেই চুকনগরের পাতাখোলা বিল, কাঁচাবাজার, চাঁদনী ফুটবল মাঠ, কালীমন্দির ও ভদ্রা নদীর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় তিল ধারণের জায়গা ছিল না। কেউ দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে, কেউ নৌকায় বা গাড়িতে এসে কেবল একটু জিরিয়ে নিচ্ছিলেন। কেউ খাচ্ছিলেন চিঁড়ে-মুড়ি, কেউবা দুপুরের রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী এই বিপুল জমায়েতের খবর পৌঁছে দেয় সাতক্ষীরার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে।
২০ মে সকাল নয়টার দিকে একটি ট্যাংক ও একটি সাজোঁয়া জিপ নিয়ে সাতক্ষীরা-চুকনগর মহাসড়ক ধরে মালতিয়া মোড়ের ঝাউতলায় এসে থামে পাকিস্তানি সেনারা। গাড়ির শব্দ থামায় পাশে পাটক্ষেতে কর্মরত মালতিয়া গ্রামের বৃদ্ধ চিকন আলী মোড়ল (৭০) উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। মুক্তিযোদ্ধারা ওঁৎ পেতে আছে ভেবে পাকিস্তানি সেনারা তাৎক্ষণিক চিকন আলীকে গুলি করে হত্যা করে।
ওই গুলির শব্দে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও দিক-বিদিক ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। আর তখনই নির্বিচারে ব্রাশফায়ার শুরু করে হানাদাররা। যুবক, বৃদ্ধ, নারী কিংবা শিশু—কারো প্রতি দয়া দেখায়নি তারা। প্রাণভয়ে শত শত মানুষ ভদ্রা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়লে, নদীর বুকেও গুলি চালানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে ভদ্রা নদীর পানি রক্তে লাল হয়ে যায়। দোকানপাটের অলিগলি বা কালভার্টের নিচে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি অনেকের। মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার এই তা-বে চুকনগর পরিণত হয় এক বিশাল লাশের স্তূপে।
গণহত্যার পরদিন, অর্থাৎ শুক্রবার সকালে মালতিয়া গ্রামের এরশাদ আলী মোড়ল তাঁর নিহত বাবা চিকন আলীর লাশের সন্ধানে ওই বধ্যভূমিতে যান। প্রতিটি লাশের মুখ দেখার সময় হঠাৎ তাঁর চোখ আটকে যায় এক মর্মস্পর্শী দৃশ্যে। তিনি দেখেন, এক মৃত মায়ের লাশের ওপর পড়ে আছে আনুমানিক ৫-৬ মাসের এক কন্যাসন্তান, যে তখনও মায়ের স্তন চোষার চেষ্টা করছে।
চোখের জল মুছতে মুছতে এরশাদ আলী সেই পরিচয়হীন শিশুটিকে কোলে তুলে বাড়ি নিয়ে যান এবং আদর করে নাম রাখেন ‘সুন্দরী’।
লোকমুখে কুড়িয়ে পাওয়া এই শিশুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কেশবপুর থানার মঙ্গলকোটের কালিয়া গ্রামের নিঃসন্তান মাদার দাস দম্পতি শিশুটিকে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক কারণে এরশাদ আলী ও স্থানীয়রা শিশুটিকে মাদার দাসের হাতে তুলে দেন।
মাদার দাসের ঘরেই সুন্দরী আস্তে আস্তে বড় হয়ে ওঠেন। ১৫ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয় চুকনগরের মালতিয়া গ্রামের দিনমজুর বাটুল দাসের সঙ্গে। অত্যন্ত দরিদ্র বাটুল দাসের ঘরে সুমনের মা ও ডেভিড দাসের মা হিসেবে সুন্দরীর চরম অর্থকষ্টের সংসারজীবন শুরু হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যম, সাংবাদিক ও গবেষকদের লেখালিখির মাধ্যমে চুকনগর গণহত্যার এই জীবন্ত সাক্ষীর কথা দেশজুড়ে জানাজানি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে সুন্দরীর স্থায়ী বাসস্থানের জন্য চুকনগরের নন্দী বাড়ির পেছনে ১১ শতক জমি ও একটি বাড়ি উপহার দেওয়া হয়।
আজ স্বামী, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে সেই সরকারি বাড়িতেই সুন্দরীর দিন কাটছে। তিনি আজ শুধু একজন সাধারণ নারী নন, বরং ১৯৭১ সালের ২০ মে চুকনগরের সেই ভয়াবহ নৃশংসতার এক জীবন্ত ও ঐতিহাসিক সাক্ষী। বিশ্বের ইতিহাসে এই মর্মন্তুদ দিনটি যেন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে এবং সুন্দরীর জীবনসংগ্রাম যেন ইতিহাসের পাতায় যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হয়Ñআজকের দিনে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

Ads small one

গাড়িতে গুলির ঘটনায় আসিফ আকবরের মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
গাড়িতে গুলির ঘটনায় আসিফ আকবরের মামলা

রাজধানীর মগবাজারে নিজের গাড়িতে গুলির ঘটনায় মামলা করেছেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে হাতিরঝিল থানায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এখনো এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর পৌনে ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না; বিশাল সেন্টারে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয় বা স্টুডিওতে ছিলেন। গাড়িতেও অন্য কেউ ছিলেন না। ফলে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে গাড়িটির পেছনের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় এসে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পরে তিনি ওই অটোরিকশায় করেই মালিবাগের দিকে পালিয়ে যান।

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ৫ জেলায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ৫ জেলায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা

বঙ্গোপসাগরে ক্রমেই শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ, যা রূপ নিতে পারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস, আগামী ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে এটি। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় এরই মধ্যে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি জোরদার করেছে ওডিশা সরকার। ঝুঁকি বিবেচনায় রাজ্যের পাঁচ জেলায় ২৮ ও ২৯ অক্টোবর স্কুল, কলেজ ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে আবহাওয়াবিষয়ক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ওডিশার গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজ্য সরকার জেলা কালেক্টর, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করে প্রস্তুতি ও জরুরি কার্যক্রম তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি দুর্যোগ মোকাবিলায় জননিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং দ্রুত জরুরি সাড়া দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে রাজ্য সরকার।

আইএমডির পূর্বাভাসে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ ও উপকূলীয় ওডিশায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের আগে ও পরে আশপাশের এলাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

ধেয়ে আসছে ‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব’, কখন কোথায় আঘাত হানবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
ধেয়ে আসছে ‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব’, কখন কোথায় আঘাত হানবে?

বঙ্গোপসাগরে তৈরি গভীর নিম্নচাপকে ঘিরে ভারতের পূর্ব উপকূলে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, সিস্টেমটি এখনো গভীর নিম্নচাপ অবস্থায় থাকায় একে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বলা যাচ্ছে না। এটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে সিস্টেমটি স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। সম্ভাব্য স্থলভাগে প্রবেশের এলাকা কালিঙ্গপটনমের কাছাকাছি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

অর্থাৎ, বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থলভাগে ঢোকার আগে সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই একে এখনই ‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব’ বলা ঠিক নয়। উত্তর ভারত মহাসাগরে কোনো সিস্টেম ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেই ‘অর্ণব’ নামটি ব্যবহার করা হবে।

গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করবে। সম্ভাব্য এলাকা বিশাখাপত্তনম থেকে গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূল, বিশেষ করে কালিঙ্গপটনমের আশপাশ।

আইএমডির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিস্টেমটি বুধবার রাতেই উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সমুদ্র তখনো উত্তাল থাকবে এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে খুবই খারাপ সমুদ্র পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।

উপকূলের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ আরও বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ভারতের উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ উড়িষ্যা ও উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

দক্ষিণ উড়িষ্যায় ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কোরাপুট, গজপতি ও গঞ্জামসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে রাজ্যের একাধিক জেলায় স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম ও গজপতিতে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মালকানগিরিতে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনও প্রস্তুতি জোরদার করেছে। কোথাও জরুরি দল মোতায়েন করা হয়েছে, কোথাও সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও রায়ালসীমার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

শ্রীকাকুলাম ও বিজয়নগরম জেলায় ভারী বৃষ্টির কারণে বুধবার স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে অতিবৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে। এ কারণে সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি।

সরাসরি স্থলভাগে আঘাতের কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ নয়। তবে সিস্টেমটির প্রভাবে রাজ্যের উপকূলীয় জেলাগুলোতেও ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইএমডি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও ঝোড়ো আবহাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের সিস্টেমটির বাইরের ঘূর্ণাবর্ত স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মিশে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির মাত্রা বাড়াতে পারে।

পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তাল থেকে অতি উত্তাল থাকতে পারে। উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থলভাগে ঢোকার পর এই সিস্টেমের প্রভাব শুধু উপকূলীয় রাজ্যগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিহারেও ২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রপাত, বজ্রঝড় ও শক্তিশালী বাতাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আইএমডির পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ও শুক্রবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ও রোববার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘অর্ণব’ নামে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে, এমনটা নিশ্চিত নয়। আবহাওয়া বিভাগ বলছে, বঙ্গোপসাগরের বর্তমান সিস্টেমটি গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা বেশি।