সাতক্ষীরায় কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
পত্রদূত ডেস্ক: নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, আইনগত সহায়তা কার্যক্রম জোরদার ও মানবাধিকার রক্ষায় সাতক্ষীরায় নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নেটওয়ার্কের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরিতে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্লাস্ট খুলনা ইউনিটের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট অশোক কুমার সাহা। ব্লাস্টের ল’ইয়ার সৈয়দ তানভীর আজমের সঞ্চালনায় এতে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বি. এম. মিজানুর রহমান পিন্টু ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম বক্তব্য দেন। সভায় উপস্থিত বক্তারা নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় এবং আইনি সহায়তা প্রদানে সহজ যোগাযোগের ওপর জোর দেন।
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ মনির উদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খলিলনগর আমিনিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার ও ছয়ঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার আমির ও মাদ্রাসার সহকারী সুপার মাওলানা মোশারফ হোসেন, কাথন্ডা আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল গফফার বক্তব্য দেন।
বদিউজ্জামান: ‘ন্যায়বিচার কোনো বিত্তবান মানুষের একক অধিকার নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন বিচারপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই লিগ্যাল এইড কাজ করছে।’
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা। লিগ্যাল এইড শুধু বিনামূল্যে আইনজীবী দেওয়ার ব্যবস্থা নয়; এটি অসহায় মানুষের পাশে রাষ্ট্রের দাঁড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আইনি পরামর্শ, মামলা পরিচালনা, মধ্যস্থতা ও বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে লিগ্যাল এইড মানুষের বিচার পাওয়ার পথকে সহজ করে।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বলেন, আদালতে মামলা করাই সব সমস্যার সমাধান নয়। যেখানে সম্ভব, পারস্পরিক সমঝোতা ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে সময় ও অর্থের সাশ্রয়ের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কও রক্ষা করা সম্ভব। লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতা কার্যক্রম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, একজন দরিদ্র মানুষ যখন আইনি সহায়তার মাধ্যমে তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পান, তখন শুধু একজন ব্যক্তিই উপকৃত হন না; ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থাও আরও শক্তিশালী হয়। সমাজের প্রান্তিক মানুষকে আইনের আওতায় এনে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই লিগ্যাল এইডের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
সভায় তিনি লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে সরকারি আইনগত সহায়তার সুযোগ পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. জাকারিয়া হোসেন, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর রহমান চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু এবং জিপি অসীম কুমার মন্ডল।
উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি শেখ আলমগীর আশরাফ, জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম, প্যানেল আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান, অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান, এনজিও প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান, সাকিবুর রহমান বাবলা প্রমুখ।
সভায় বিচার বিভাগ সাতক্ষীরার বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞ বিচারক, প্যানেল আইনজীবী এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিভিল জজ) লিটন দাস।