বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা, মাদরা, তলুইগাছা ও হিজলদী বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গাঁজা, ঔষধ, শাড়ি ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার গেরাখালি ও কেরাগাছি হতে ৭ লাখ ৫২ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ ও শাড়ি আটক করে।

মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার উত্তর ভাদিয়ালী হতে ৩২ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। তলুইগাছা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার ভবানীপুর ও মজুমদারের খাল হতে ০১ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ ৬৫ হাজার ৪৫০ টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে।

এছাড়াও, হিজলদী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার গোবরাপোতা হতে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে ।
আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯ লাখ ১৯ হাজার ৪৫০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

 

 

Ads small one

শার্শায় চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগে থানায় মামলা: আটক ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
শার্শায় চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগে থানায় মামলা: আটক ১

বাগআঁচড়া (শার্শা) সংবাদদাতা: যশোরের শার্শায় চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনায় এজাহারভুক্ত ২নং আসামী মুকুল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শরিফুল ইসলাম মুকুলকে আটক করেন। আটক মুকুল হোসেন রুদ্রপুর গ্রামের আব্দুল ওহাব হোসেনের ছেলে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী শরিফুল ইসলাম ও বিবাদী আতিকুর রহমান, মুকুল হোসেন ও আব্দুল রশিদ ৫/৬ বছর পূর্বে মাছের ব্যবসা করত। ব্যবসায়িক বিভিন্ন লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আসামীদের সাথে শরিফুল ইসলাম বনিবনা না হওয়ার তাদের সাথে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে আসামীরা তার উপর শত্রুতা পোষণ করে আসছে।

 

গত ইংরেজি ১৯/০৪/২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭ টার সময় বাদী শরিফুল ভ্যানযোগে রাজমিস্ত্রীর কাজের উদ্দেশ্যে বাগআঁচড়ায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে থেকে শরিফুলকে ১ ও ২নং আসামী তাদের কাছে থাকা মোটরসাইকেল যোগে জোরপূর্বক রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তুলে আনে। সেখানে ৩নং আসামী আব্দুর রশিদ আগে থেকেই উপস্থিত ছিলো।

সেখানে ৩ নং আসামী আব্দুর রশিদের হুকুমে ১ ও ২ নং আসামীদ্বয় বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বাদী শরিফুল ইসলামের হাত পা বেধে বিবাদী ৩ জনের যোগসাজশে দুই লক্ষ টাকা চাঁদার দাবী করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বাদী শরিফুলকে বেধড়ক মারপিট করে জখম করে।

 

এসময় শরিফুল ইসলামের ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে বিবাদীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে শরিফুলকে উদ্ধার করে তার স্বজনরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শরিফুলকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। এঘটনায় শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে শার্শা থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করে।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনায় এজাহার ভুক্ত ২নং আসামী মুকুলকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকী আসামীদেরকে আটকের চেষ্টা চলছে।

শিকলে বন্দী মিতু- মানবিক সহায়তা পেলে ফিরতে পারে স্বাভাবিক জীবনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
শিকলে বন্দী মিতু- মানবিক সহায়তা পেলে ফিরতে পারে স্বাভাবিক জীবনে

{"data":{"source_platform":"mobile_2","pictureId":"b9cfa949cee04c3998ddbdd6dbeff509","appversion":"8.5.0","stickerId":"","filterId":"7580249178828180737","infoStickerId":"","imageEffectId":"","playId":"","activityName":"","os":"android","product":"retouch","originAppId":"7356","exportType":"","editType":"","alias":"","enterFrom":"enter_launch","capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]},"effect_type":"tool","effect_id":"filter#7580249178828180737"},"source_type":"hypic","tiktok_developers_3p_anchor_params":"{"client_key":"awgvo7gzpeas2ho6","template_id":"","filter_id":["7580249178828180737"],"capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]}}"}

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মোড়লপাড়ায় মানবিকতার এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। মিতু (২৪) নামের এক তরুণী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে পায়ে শিকল ও বেড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শৈশব থেকেই মিতু মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের দাবি, প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাধ্য হয়ে পায়ে শিকল পরানো হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থা তার জীবনের নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজি, যা তার চলাফেরাকে অত্যন্ত কষ্টকর করে তুলেছে। দীর্ঘদিন এভাবে শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
মিতুর মা হাসিনা বেগম বলেন, “মেয়েটি প্রায়ই এদিক-সেদিক চলে যায়-এই ভয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রাখতে হয়েছে। অভাবের কারণে তার চিকিৎসা করাতে পারিনি। তবে ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।”

পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট বছর আগে মিতুর বাবা আবুল মোড়ল মারা যান। বর্তমানে মা-ই তাকে দেখাশোনা করছেন। পরিবারে দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বড় বোন বিবাহিত, আর ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মরত। মাসে মাত্র ৮ হাজার টাকা আয় দিয়ে পুরো পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, “সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তালা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আরিফুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত মিতুকে হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কেউ এটিকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অনেকেই একে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত চিকিৎসা, সামাজিক সহায়তা ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে মিতুকে এই শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা জরুরি।

 

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে অনাবাদী জমি এখন তরমুজের ক্ষেত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে অনাবাদী জমি এখন তরমুজের ক্ষেত

নাজমুল শাহাদাৎ (জাকির): সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে এক সময় আমন পরবর্তী সময়ে শতশত হেক্টর জমি অনাবাদী পড়ে থাকত। কিন্তু সেই চিত্র এখন বদলে দিয়েছে পাঁচ শতকের ‘মিনি পুকুর’ প্রযুক্তি। বর্ষার বৃষ্টির পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তরমুজ খেতে সেচ দেওয়ার এই কৌশলটিই এখন আশাশুনি ও শ্যামনগরের প্রান্তিক চাষিদের ভাগ্য বদলের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে লোনা জমিতে তরমুজ চাষে সফল হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলায় ৪৭১ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায়। লোনা পানির প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ‘ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন’ প্রকল্পের আওতায় খনন করা মিনি পুকুরগুলোই এখন এসব উপজেলায় সেচের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে।

উপকূলের কৃষকদের কাছে এই মিনি পুকুর মূলত একটি ‘মিষ্টি পানির প্রাকৃতিক ব্যাংক’। এটি সাধারণত চাষযোগ্য জমির এক কোণে নিদিষ্ট একটি জায়গাজুড়ে খনন করা গভীর একটি বিশেষ জলাধার। বর্ষা মৌসুমে যখন উপকূলে বৃষ্টিপাত হয়, তখন সেই পানি প্রাকৃতিকভাবেই নিচু এই পুকুরগুলোতে গিয়ে জমা হয় এবং পুকুরগুলো মিষ্টি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। পরে শুষ্ক মৌসুমে এই জমানো মিষ্টি পানিই হয়ে ওঠে চাষিদের একমাত্র সম্বল। কৃষকরা পুকুরের এক কোণে ছোট সোলার পাম্প অথবা ডিজেল চালিত পাম্প বসিয়ে ফিতা পাইপের মাধ্যমে পানি ক্ষেতে নিয়ে যান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপকূলের লোনা জমিতে এখন সারি সারি তরমুজের খেত। অথচ স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগে এসব অঞ্চলের বিলগুলোতে আমন ধান কাটার পর বছরের লম্বা একটি সময় জমিগুলো পতিত পড়ে থাকত। মাটির ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে যেখানে পানির সেচ সংকট বেশি সেখানকার চাষিরা এই সময়ে বোরো আবাদে সাহস পান না। মূলত বোরো ধানের জন্য যে বিপুল পরিমাণ মিষ্টি পানির প্রয়োজন হয়, শুষ্ক মৌসুমে তা পাওয়া দুষ্কর। অন্যদিকে, তরমুজ একটি লবণসহিষ্ণু ফসল এবং এতে বোরোর তুলনায় পানির প্রয়োজন অনেক কম। ফলে মিনি পুকুরে জমানো সামান্য বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে বোরোর ঝুঁকি না নিয়ে চাষিরা এখন তরমুজকেই লাভজনক বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তরমুজ স্বল্পমেয়াদী ফসল হওয়ায় এটি তোলার পর জমি ফেলে না রেখে আরও একটি ফসল ফলানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চৈত্র বা বৈশাখের শুরুতে তরমুজ বাজারজাত করার পর চাষিরা সেই জমিতে আউশ ধান, পাট বা গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদের প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এতে করে উপকূলের এক ফসলি জমিগুলো এখন নিবিড় চাষাবাদের আওতায় আসছে।

বড়দল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সত্যরঞ্জন বৈরাগী জানান, গত বছর তরমুজে কৃষকদের ব্যাপক লাভ হতে দেখে এবার তিনি নিজেও ১০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর আমাদের এলাকার অনেক কৃষক বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করেছিলেন। সেই আগ্রহ থেকেই এবার বড়দলের বিলগুলোতে তরমুজের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এবার মজুরি, সার ও বীজের দাম কিছুটা বেশি, তবুও ফলন ভালো হওয়াতে আমরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।

আর্থিক লাভের ক্ষেত্রে জামালনগর গ্রামের আফছার গাজীর গল্পটি এখন এলাকার কৃষকদের মুখে মুখে। গত মৌসুমে তিনি ১৬ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। তার মোট খরচ হয়েছিল ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা এবং তিনি প্রায় ১২ লক্ষ টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি করেন। এক মৌসুমে ৮ লক্ষাধিক টাকা মুনাফা করায় তাকে দেখে এলাকার অনেক চাষি এখন নিজ উদ্যোগে মিনি পুকুর খনন করছেন।

আফছার গাজী বলেন, লবণাক্ততার কারণে আগে এসব জমিতে কিছুই হতো না। কিন্তু মিষ্টি পানির ব্যবস্থা হওয়ায় এখন লোনা মাটিতেও সোনা ফলছে।

বড়দল ইউনিয়নের আরেক বড় চাষি মাসুম সরদার এবার ৭০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। তিনি জানান, বিঘা প্রতি তরমুজের গড় উৎপাদন ৭০০ থেকে ৮০০টি। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ফলন ও বাজার দর ভালো থাকলে প্রতি বিঘা তরমুজ ৭০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়। এ থেকে একজন কৃষক বিঘা প্রতি প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভ করতে পারেন।

তরমুজ চাষের এই কর্মযজ্ঞ উপকূলীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি করেছে। প্রতিদিন কয়েকশ নারী ৪০০ টাকা মজুরিতে চারা পরিচর্যার কাজ করছেন।

ঝর্ণা রানী নামের এক নারী শ্রমিক জানান, তরমুজ চাষ শুরু হলে এলাকার ৩ থেকে ৪ শত নারী প্রায় দুই মাস কাজের সুযোগ পান। তিনি বলেন, আগে এই সময়ে আমাদের কোনো কাজ থাকত না সে অর্থে। এখন তরমুজের খেতে কাজ করে আমরা সংসারে বাড়তি টাকা দিতে পারছি।

শ্যামনগর উপজেলার চিত্রও একই রকম। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শ্যামনগরে ১৫২ হেক্টর জমি তরমুজ চাষের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে কৈখালী ইউনিয়নে ১০৫ হেক্টর, কাশিমাড়ীতে ২০ হেক্টর এবং ঈশ্বরীপুরে ২১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে শ্যামনগরে চাষ হয়েছিল ১০০ হেক্টর জমিতে। জাম্বু গ্লোরি, ড্রাগন, পাকিজা ও ওয়ার্ল্ড কুইনের মতো উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ এখন উপকূলের মাঠে দেখা যাচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের চাষি আব্দুল মজিদ জানান, লোনা পানির কারণে এই সময়ে আগে তাদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হতো। তিনি বলেন, আগে আমন কাটার পর আমরা বোরো আবাদ করতে পারতাম না, কারণ নদী-খালের পানি তখন বিষের মতো লোনা হয়ে যায়। এখন ছোট পুকুরগুলোতে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রেখে আমরা তরমুজ চাষ করছি। এই ফসলটি লোনা মাটি সহ্য করতে পারে এবং ধানের চেয়ে তিনগুণ বেশি লাভ দেয়। তরমুজ তোলার পর আমরা আবার সেই জমিতে আউশ বা সবজি লাগানোর সুযোগ পাচ্ছি।

কাশিমাড়ী এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, বোরো ধানে যে পরিমাণ সেচ আর সময় লাগে, তাতে আমাদের উপকূলে লাভ করা খুব কঠিন। কিন্তু তরমুজ লবণসহিষ্ণু হওয়ায় এবার ১৫ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। বাজার ভালো থাকলে বোরোর চেয়ে অনেক বেশি টাকা ঘরে আসবে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার লোনা মাটি তরমুজের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মাটির লবণাক্ততা সত্ত্বেও ‘ক্লাইমেট স্মার্ট’ প্রযুক্তির মাধ্যমে মিষ্টি পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা লোনা মাটিকেও চাষোপযোগী করে তুলেছে। বিশেষ করে রবি মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে খনন করা মিনি পুকুরগুলোই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।

তিনি আরও জানান,বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় আবাদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় অনেকাংশে বেড়েছে। প্রকল্পের আওতায় আমরা চাষিদের প্রশিক্ষণ, সোলার পাম্প ও সেচ সরঞ্জাম সরবরাহ করছি। সরকারি পর্যায়ে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং পচনশীল ফসল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করা গেলে তরমুজ চাষ এই অঞ্চলের স্থায়ী অর্থনৈতিক ভিত্তি হতে পারে।