সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুন্দরবনে বনবিভাগের ছোড়া গুলিতে কাঁকড়া আহরণকারী জেলের মৃত্যুর অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে বনবিভাগের ছোড়া গুলিতে কাঁকড়া আহরণকারী জেলের মৃত্যুর অভিযোগ

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বাসিন্দা আকসেদ গাজীর ছেলে আমিনুর রহমান (৪৫) নামে এক কাঁকড়া জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৮ মে) সকালে সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শতমুখি খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সঙ্গে থাকা জেলেরা।

সহযোগী জেলেদের দাবি, তারা সুন্দরবনের শতমুখি খালে কাঁকড়া ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বনবিভাগের খুলনা স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যরা তাদের ডাক দেন। জেলেরা কাছে না গেলে বনবিভাগের সদস্যরা গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে আমিনুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান সঙ্গীরা।

ঘটনার বিষয়ে বনবিভাগের কাছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে খবর পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। বনবিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “সুন্দরবনের ভেতরে বর্তমানে বনদস্যু নির্মূলে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। সেখানে বনবিভাগ, কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য বাহিনী একযোগে দায়িত্ব পালন করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, তিনি ইতোমধ্যে খুলনার ডিএফও, সাতক্ষীরার এসিএফ, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, “বনবিভাগের ডিএফও আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা

আরিফ মাহমুদ: আধুনিক ইমারতের যুগে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা ঘর। সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় শূন্য হয়ে পড়ছে গ্রাম বাংলার নিদর্শন ধানের গোলা।

কয়েক যুগ আগেও গ্রামাঞ্চলের অনেকের কৃষকের বাড়িতে ধান রাখার জন্য ধানের গোলা থাকতো। সেটি এখন অনেকটা স্মৃতি। মাঠের পর মাঠ ধান ক্ষেত থাকলেও অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে নেই ধান মজুদ করে রাখা বাঁশের তৈরী গোলাকৃতির ধানের গোলা। একসময় কন্যা পাত্রস্থ করতে বর পক্ষের বাড়িতে ধানের গোলার খবর নিতো কন্যা পক্ষের বাড়ির লোকজন। যা এখন শুধু রূপকথা।

প্রবীন ব্যক্তি আনোয়ার হোসেন, রহিমা খাতুনসহ অনেকে জানান, গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ-চটা দিয়ে গোল আকৃতির তৈরী করা ধানের গোলা উঁচুতে বসানো হতো। গোলার মাথায় থাকতো টিন বা খড়ের ছাউনি। ছাউনি দেয়া হতো পিরামিড আকৃতির টাওয়ারের মতো। সর্বোচ্চ দুই হাতের মতো ছোট চতুর্ভূজ আকৃতির গোলার প্রবেশ মুখ বা দরজা রাখা হতো। সেটাও আবার গোলার উপরের দিকে, যেন কেউ সহজে চুরি করতে না পারে। ওই মুখ বা দরজা দিয়ে গোলার ভিতরে শুকনো ধান রাখা হতো ও পরবর্তীতে বাহির করা হতো।

তারা আরো জানান, সেসময় ধানের গোলা তৈরীর জন্য বিভিন্ন এলাকায় দক্ষ কারিগর ছিল। এখন গোলাও নেই, বাধ্য হয়ে গোলা নির্মানের কারিগরও সেই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন।

তারা বলেন, গোলা সংষ্কারের জন্য বাঁশ-চটার চেয়ে কারিগর পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ায় ধানের গোলা অবশিষ্ট থাকছে না। যাদের গোলা ছিলো এখন তাদের কেউ কেউ সেটি ব্যবহার বা স্মৃতি হিসেবে রাখলেও বেশির ভাগ পরিবারেই ধানের গোলা ভেঙ্গে অপসারণ করে ফেলেছে। এখন আর কেউ গোলায় ধান রাখে না। এর পরিবর্তে ইট-বালু-সিমেন্টের তৈরী পাকা ঘরে ধান রাখে বা আড়তদারদের নিকট বিক্রি করে দেয়।

তবে কালের সাক্ষী হয়ে আজও ধান রাখার গোলা রেখে স্মৃতি বহন করছেন যারা তাদেরই মধ্যে কলারোয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মোড়ল বাড়ির কৃষকরা। ওই গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, ‘আমার দাদা, তারপর আমার বাপ-চাচারা ধানের গোলায় ধান রাখলেও এখন গোলার চলন নেই। তবে আমরা সেই গোলার স্মৃতি বহন করে চলেছি। এখন আর ধান গোলায় রাখা হয় না, বস্তাভর্তি করে গুদাম ঘরে রেখে দেয়া হয়।’

আগামি প্রজন্মের কাছে ধানের গোলা ঘর স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে। আধুনিক গুদাম ঘর ধান-চাল রাখার জায়গা দখল করছে। ফলে গোলা ঘরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।

 

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

পত্রদূত ডেস্ক: সোমবার (১৮ মে ২০২৬) সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কল্যাণ সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম।

কল্যাণ সভায় পুলিশ সুপার সকল পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং অধিকাংশ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানসহ বাকি সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। পুলিশ সুপার সকল অফিসার ফোর্সদের উদ্দেশ্যে সার্ভিসরুলস মেনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে ডিউটি করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। মেসে উন্নত খাবার পরিবেশন, ড্রেসরুলস মেনে পোশাক পরিধান করা, ছুটি ও টিএ বিলে ন্যায্যতা রাখা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, ব্যক্তিগত ও আবাসস্থলের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বিদ্যুৎ এর সঠিক ব্যবহার এবং জনসাধারণের সাথে উত্তম ব্যবহারসহ বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

পরবর্তীতে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

এরআগে সভার শুরুতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শাহীনুর চৌধুরী বিগত মাসের কার্যবিবরণীর গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করেন এবং চলতি মাসে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন আবেদনসমূহ উপস্থাপন করেন।


সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এসএম রাজু আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোঃ আমিনুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মোঃ রাজীব, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) মোঃ বায়েজীদ ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (তালা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নূরুল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) খালিদ মোঃ আরাফাত, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মোঃ ইমরান খান, ডাঃ আবু হোসেনসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ, ডিআইও-১, টিআই (অ্যাডমিন) এবং জেলা পুলিশের সকল পদমর্যাদার সদস্যবৃন্দ।

সাতক্ষীরা ৩৩ প্রাইমারী শিক্ষার্থীর জাতীয় পর্যায়ের শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ২:০৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা ৩৩ প্রাইমারী শিক্ষার্থীর জাতীয় পর্যায়ের শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জন

সংবাদদাতা: বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ কাব স্বীকৃতি ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে সাতক্ষীরা জেলার ৩৩ জন কাব স্কাউট। ২০২৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের মূল্যায়নে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ গৌরব অর্জন করে।

 

বাংলাদেশ স্কাউটসের কাব শাখায় অসামান্য দক্ষতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও সমাজসেবামূলক কর্মকা-ে অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পারদর্শিতা ব্যাজ অর্জন এবং সাঁতার দক্ষতাসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেই কাব স্কাউটরা এ স্বীকৃতি লাভ করে।

 

জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, শ্যামনগর ও তালা উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ বছর শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার সিলভার জুবিলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামালনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেহালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইটাগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।

 

কলারোয়া উপজেলার কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এছাড়া শ্যামনগরের খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী এ সম্মাননা পেয়েছে। তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হরিশ্চন্দ্রকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তালিকায় স্থান পেয়েছে।

 

শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলছেন, এ অর্জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে আরও উৎসাহ জোগাবে। একই সঙ্গে জেলার স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত সাতক্ষীরা সদরের শিক্ষার্থীরা: আয়েশা সিদ্দিকা, অদিতি রায়, রিজিত মজুমদার ঋদ্ধি, আরিফ বিল্লাহ, জারিন সুবাহ, রনবীর দত্ত, ফারিদুত তাসনীম, জান্নাতুল ফেরদৌস, জান্নাতুল তাসনিয়া, মো. সাদিক হাসান, মোছা. জান্নাতী ও মাহির মুস্তাহিদ শান।

কলারোয়া: আজমাইন আদিল রাইয়্যান, রাশীদ আরিফ, নাসিফ এস মাহী ও মোছা. তাসনিম জারিন।
শ্যামনগর: সুবাইতা মারজানা, ওয়ারদা সাবাহাত, সানজিদা মাহমুদ, মরিয়াম ইসলাম, শারফিয়া মরিয়ম, মারিয়াম হোসেন, মো. মিয়ারাজ হোসেন ও সাজ্জাদুল শরীফ সেজান।

তালা: মো. জোহাইর আলফি, ফাহিম মুনতাছির তাসিন, দামিনী হালদার, মো. তাওহিদ মাসুম, টুসু সরকার, অজিত কুমার মন্ডল, সুবীদ কুমার মন্ডল, হিমেশ মন্ডল ও সৌমী পাল।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন বলেন, “শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা জেলার জন্য গর্ব বয়ে এনেছে। স্কাউটিং শিশুদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের এ ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে কাজ করা হবে।”