স্কুলছাত্রী ধ*র্ষ*ণ: ৭ মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামি হৃদয়, প্রকাশ্যে ঘোরাফেরার অভিযোগ
পত্রদূত ডেস্ক: মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তির ১৬ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীকে একা পেয়ে ধর্ষণ এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলার অন্যতম আসামি হৃদয় ঘোষকে গত সাত মাস ছয় দিনেও গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। বর্তমানে সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি প্রধান আসামি দেবাশীষের সঙ্গে ওই ছাত্রীকে কলেজে যাওয়ার পথে আবারো অপহরণের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আসামি হৃদয় ঘোষ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুলতিয়া গ্রামের জগবন্ধু ঘোষের ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদরের বুধহাটা ইউনিয়নের এক কলেজছাত্রীকে (ঘটনার সময় স্কুলছাত্রী) পূর্বে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ধর্ষণ করে কুলতিয়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী দেবাশীষ মণ্ডল। ধর্ষণের সময় বাধা দেওয়ায় ওই ছাত্রীকে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দেবাশীষ তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে সহযোগিতা করে একই গ্রামের বাসিন্দা ও কলেজছাত্র হৃদয় ঘোষ এবং হাবিব । মেয়েটি বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানালে দেবাশীষ ও তার সহযোগীরা ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গত ২৩ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় দেবাশীষ ও হৃদয়কে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় র্যাব সদস্যরা গঙ্গারামপুর এলাকা থেকে দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই দিন রাতেই (১০টা ৪১ মিনিটে) হৃদয় ঘোষ আবারো ভুক্তভোগীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ২৯ জানুয়ারি দেবাশীষ মণ্ডল সাতক্ষীরার বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা মণ্ডলের কাছে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সে অপরাধের সাথে নিজের এবং হৃদয় ঘোষের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে।
মামলার বাদীর অভিযোগ, দেবাশীষ মণ্ডল জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও তার মেয়েকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করছে। মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তার না করে নানা আইনি অজুহাত দিচ্ছেন। ফলে হৃদয় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। গত ১৪ আগস্ট সকালে ভুক্তভোগী কলেজে যাওয়ার সময় জামিনে থাকা দেবাশীষ ও হৃদয় ঘোষ তাদের দুই সহযোগীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে তাকে অপহরণের চেষ্টা করে। এ ঘটনাটি বিচারককে অবহিত করা হলে দেবাশীষের জামিন স্থায়ী করা হয়নি। এরপর গত ২৪ আগস্ট ভুক্তভোগীর মা দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার, র্যাব-৬ এর অধিনায়ক, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট আবেদন করেন। বাদীর দাবি, হৃদয়ের মোবাইল থেকে নগ্ন ভিডিও প্রকাশের প্রমাণ (স্ক্রিনশট) ও দেবাশীষের স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির পরিবারের কাছ থেকে অনুচিত সুবিধা নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করছেন না।
তবে প্রধান আসামি দেবাশীষ মণ্ডল ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়া ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই হাবিবুর রহমান জানান, ফরেনসিক প্রতিবেদন না আসায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে হৃদয় হাইকোর্ট থেকে কোনো আগাম জামিন নেয়নি এবং সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে—এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেননি।








