মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

হারানো উৎসব, বদলে যাওয়া আশাশুনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
হারানো উৎসব, বদলে যাওয়া আশাশুনি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: সাতক্ষীরা-বাংলার গ্রামীণ জনপদ একসময় ছিল উৎসব, ঐতিহ্য আর মানবিক বন্ধনের এক অপূর্ব মিলনস্থল। সেই চিরচেনা গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি স্পষ্টভাবে দেখা যেত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়। নবান্নের আনন্দ, নৌকাবাইচের উল্লাস, যাত্রাপালার আবেগ কিংবা বৈশাখী মেলার প্রাণচাঞ্চল্য-সব মিলিয়ে এটি ছিল এক জীবন্ত সংস্কৃতির আধার। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আজ সেই ঐতিহ্য যেন হারিয়ে যাওয়ার পথে। এক সময় আশাশুনির গ্রামগুলোতে অগ্রহায়ণ এলেই শুরু হতো নবান্নের উৎসব। নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি হতো নানা রকম পিঠা-পুলি। বাড়ি বাড়ি চলত আদান-প্রদান, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত উৎসবের আমেজ। আনুলিয়া ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল গফুর (৭৫) স্মৃতিচারণ করে বলেন, আগে নবান্ন মানেই ছিল উৎসব। তিন-চার দিন ধরে পিঠা বানাতো বাড়ির মেয়েরা। এখন আর সেই পরিবেশ নেই, সব কিছুই ছোট হয়ে গেছে। বর্তমানে নবান্ন পালিত হলেও তা অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ। নতুন প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্বও কমে গেছে। বর্ষা মৌসুমে কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীতে বসত নৌকাবাইচের আসর। শত শত বৈঠার ছন্দে নদী মুখরিত হতো, দুই পাড়ে হাজারো দর্শকের ভিড় জমত। বুধহাটা এলাকার মাঝি হাশেম আলী (৬০) বলেন, “আগে বর্ষা মানেই নৌকা বাইচ। এখন নদীতে পানি নাই, আয়োজনও নেই। ছেলেপুলেরা আর আগ্রহ দেখায় না।” নদীর নাব্যতা সংকট, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং আধুনিক বিনোদনের কারণে এই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তপ্রায়। শীতের রাত মানেই ছিল যাত্রাপালা। গ্রামের খোলা মাঠে বসত আসর, যেখানে মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা মগ্ন থাকত। একইভাবে পুঁথি পাঠ, বায়োস্কোপ, সাপ খেলা, লাঠিখেলা ছিল গ্রামীণ বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। বুধহাটার ব্যবসায়ী গৌতম ব্যানার্জী বলেন, আমরা ছোটবেলায় যাত্রা না দেখে শীত কাটাইনি। এখন বাচ্চারা মোবাইলেই ব্যস্ত, যাত্রা কী-তাই জানে না। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আশাশুনির বিভিন্ন স্থানে বসত বৈশাখী মেলা। হালখাতা, গ্রামীণ পণ্যের দোকান, লোকজ খেলাধুলা-সব মিলিয়ে এটি ছিল একটি সার্বজনীন উৎসব। বড়দল বাজারের নিতাই চন্দ্র বলেন, আগের মেলায় মানুষের ভিড়, আনন্দ-সবই ছিল আলাদা। এখন মেলা হয় ঠিকই, কিন্তু সেই প্রাণটা আর নেই। বর্তমানে মেলাগুলো অনেকটাই বাণিজ্যিক হয়ে গেছে, হারিয়েছে ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও টেলিভিশনের প্রসার মানুষের জীবনধারায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। সহজেই মানুষ বিদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে স্থান করে নিচ্ছে স্থানীয় সংস্কৃতির জায়গায়। আশাশুনির কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী রুবেল হোসেন বলেন, আমরা এখন অনলাইনে বেশি সময় কাটাই। গ্রামের পুরোনো খেলাধুলা বা উৎসবগুলো তেমন আকর্ষণ করে না। এই পরিবর্তন শুধু সংস্কৃতিতেই নয়, সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। আগে যেখানে উৎসব মানেই ছিল সম্মিলিত অংশগ্রহণ, এখন সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বেড়েছে। সংস্কৃতি রক্ষায় প্রয়োজন সচেতনতা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ। স্থানীয়ভাবে নিয়মিত লোকজ উৎসব আয়োজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করা এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। আশাশুনি উপজেলা সাংস্কৃতিক কর্মী অসিম দত্ত বলেন, “আমরা যদি এখনই উদ্যোগ না নিই, তাহলে আগামী প্রজন্ম শুধু বইয়ে পড়ে এসব জানবে। বাস্তবে কিছুই থাকবে না।” সংস্কৃতি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়। আশাশুনির হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য শুধু একটি অঞ্চলের ক্ষতি নয়, এটি পুরো বাঙালি জাতিসত্তার জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি আমাদের শিকড়কে ধরে রাখতে হবে। আজ প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস-তবেই হয়তো আবার নবান্নের গন্ধে ভরে উঠবে গ্রাম, নদীতে ফিরবে নৌকাবাইচের ঢেউ, আর আশাশুনি ফিরে পাবে তার হারানো প্রাণ।

Ads small one

জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, অন্যায়ের কাছে সাতক্ষীরার মানুষ কখনো মাথা নত করেনি এবং ভয় দেখিয়েও তাঁদের দমানো যাবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল্লাহ মোনার সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মো. জিয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম ও পৌর জামায়াতের আমির মো. জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। সম্প্রতি সংসদে সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, পৌরসভার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক কাঠামোর উন্নয়নের দাবি তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দত্তনগর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে যায়। বিষয়টি গত শুক্রবার উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিয়াজান আলীকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেলা কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে অবহিত করেন। জেলা কমান্ড্যান্টের পরামর্শে আনসার সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দলনেতা তালিব হোসাইন ও ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের দলনেতা আলী হোসেন প্লাটুনভুক্ত ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা মেরামত ও পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।
এ সময় উপস্থিত থেকে সাধুবাদ জানান সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা। আনসার-ভিডিপির এই স্বেচ্ছাশ্রম ও সামাজিক কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মিয়াজান আলী জানান, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে তাঁর দল ও সদস্যরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’-এর জুলাই মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় সাতক্ষীরার প্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি হৃদয় ম-লের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সাতক্ষীরা ইউনিটের লাইব্রেরি ইনচার্জ মো. আতিকুজ্জামান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরজাহান খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আফরিন, বোর্ড সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা।
সভার শুরুতে সংগঠনের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে তরুণদের সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা স্থানীয় জনজীবন, কৃষি, শিক্ষা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে শিগগিরই একটি মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবির পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।