সাতক্ষীরার মানুষ কি শুধু ভোট দেবে, নাকি উন্নয়নের হিসাবও চাইবে?
গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
স্বাধীনতার পর থেকে সাতক্ষীরার মানুষ বিভিন্ন সময়ে তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ওপর আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে। জনগণের সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বহুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জেলার বিভিন্ন আসনের জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আজও জনমনে ঘুরপাক খায়-সাতক্ষীরা এর বিনিময়ে কতটা কাক্সিক্ষত উন্নয়ন পেয়েছে?
একজন সংসদ সদস্যের প্রধান দায়িত্ব শুধু নির্বাচিত হওয়া নয়; বরং সংসদে নিজ এলাকার মানুষের দাবি, সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরা। অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্পায়নের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখাই জনগণের প্রত্যাশা।
বর্তমানে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই একই রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও জেলার বহু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ করে রেলপথ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দৃশ্যমান নয় বলে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত সাতক্ষীরা রেলপথ প্রকল্প এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও এ প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি বা গুরুত্বের প্রতিফলন না পাওয়ায় জেলার মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। একইভাবে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, শিল্প স্থাপন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।
জনগণ জানতে চায়-তাদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সাতক্ষীরার দাবিগুলো কতটা গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন। কেন আজও রেলপথ বাস্তবায়ন অনিশ্চিত? কেন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জনগণের অধিকার।
গণতন্ত্রে ভোট শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যম নয়; এটি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অন্যতম শক্তিশালী উপায়। তাই দলীয় আবেগ বা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এখন সময় এসেছে উন্নয়নের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে বাস্তব অগ্রগতির হিসাব চাওয়ার।
সাতক্ষীরার মানুষ কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরোধিতা নয়, বরং জেলার সার্বিক উন্নয়ন দেখতে চায়। তারা চায় আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, কার্যকর রেলসংযোগ, উন্নত সড়ক, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং একটি সম্ভাবনাময় সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা।
সাতক্ষীরার মানুষের ভোটের মূল্য আছে। সেই ভোটের যথাযথ মর্যাদা দিতে হলে উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা—দুটিই নিশ্চিত করতে হবে। লেখক: কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ












