বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে আইনজীবীদের সহযোগিতা চাইলেন বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে আইনজীবীদের সহযোগিতা চাইলেন বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া

বদিউজ্জামান: অধস্তন আদালত মনিটরিং কমিটির খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া বলেছেন, বার ও বেঞ্চের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তা দূর করা এবং যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। এজন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা আড়াইটায় সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া বলেন, বর্তমানে মামলা নিষ্পত্তির হার আশানুরূপ নয়, যা উদ্বেগের বিষয়।

 

বিচারপ্রাপ্তির পথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকলে—তা বিচারক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কিংবা পদ্ধতিগত সমস্যা যাই হোক না কেন—সেসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। বেঞ্চের পক্ষ থেকে কোনো অসহযোগিতা থাকলে সেটিও জানাতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন, সরকারি কৌশলী অ্যাডভোকেট অসীম কুমার ম-ল, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুস সাত্তার, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, অ্যাডভোকেট সোমনাথ ব্যানার্জী, অ্যাডভোকেট মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু, অ্যাডভোকেট তারক কুমার মিত্র, অ্যাডভোকেট কু-ু তপন কুমার, অ্যাডভোকেট ফেরদৌসী আরা লুসি, অ্যাডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামান ও অ্যাডভোকেট আকবার আলীসহ আহ্বায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান সংকট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে ওই ট্রাইব্যুনালে চার হাজারেরও বেশি মামলা বিচারাধীন থাকলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেখানে কোনো বিচারক নেই। দ্রুত বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি আরও একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের দাবি জানান তারা।

এছাড়া অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের সময়ে নতুন আদালত সৃষ্টি হলেও প্রয়োজনীয় বিচারক, জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে বিচারিক কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩০টি বিচারকের পদ এবং শতাধিক সহায়ক কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বলে তারা জানান। বিচারিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক ও জনবল নিয়োগের দাবি জানান আইনজীবীরা।

সভায় আইনজীবী নেতৃবৃন্দ সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সামগ্রিক কর্মকা-ের প্রশংসা করে বলেন, দেড় বছর আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ঘুষ ও দুর্নীতি রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকা-ে গতিশীলতা এনেছেন। আদালতের অবকাঠামোগত সংস্কার ও বিচারাঙ্গনের সৌন্দর্যবর্ধনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া আইনজীবী নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে বিচারপ্রার্থীরা যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পান, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের ইতিবাচক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আইনজীবী সমাজের সহযোগিতা কামনা করেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরায় পৌঁছালে বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিকেলে তিনি জেলার কর্মরত বিচারকদের সঙ্গেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। পরে সন্ধ্যায় তিনি খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

 

 

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।