আশাশুনিতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জাল ওয়ারেশ সনদ দেওয়ার অভিযোগ
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে জাল ওয়ারেশ সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথি ও পূর্বের রেকর্ড উপেক্ষা করে অতিরিক্ত দুই ব্যক্তির নাম সংযুক্ত করে এই সনদ দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, খাজরা ইউনিয়নের রাওতাড়া গ্রামের মৃত খগেন্দ্রনাথ মন্ডলের পাঁচ ছেলে হলেন—গোবিন্দ মন্ডল, মহিন্দ্র মন্ডল, রবিন মন্ডল, রঞ্জন মন্ডল ও সুশান্ত মন্ডল। ১৯৮২ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক আলী মোড়ল এবং পরবর্তীতে ২০১৬ ও ২০২৩ সালে সাবেক চেয়ারম্যান এসএম শাহানেওয়াজ ডালিম প্রদত্ত ওয়ারেশ সনদে এই পাঁচজনকেই বৈধ ওয়ারেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, গত ৫ জুন বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু পূর্বের সব সরকারি রেকর্ড উপেক্ষা করে একটি নতুন ওয়ারেশ সনদ ইস্যু করেন। সেখানে মৃত খগেন্দ্রনাথ মন্ডলের পিতার নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি অনিতা মন্ডল ও দুর্গা রানী মন্ডল নামের আরও দুই নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে মোট সাতজনের নামে সনদ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী রবিন মন্ডল অভিযোগ করেন, কয়েক দশক ধরে সরকারি নথিতে পাঁচজনের নাম থাকলেও মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বর্তমান চেয়ারম্যান নতুন দুজনকে যুক্ত করেছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে সরকারি নথিপত্র পরিবর্তন করা হলে ভবিষ্যতে জমিজমা নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এর আগে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঈদুল ফিতরের সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য তাহমিনা খাতুনের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতেই এই ওয়ারেশ সনদ দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি।









