বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

অবহেলার অন্ধকারে সাতক্ষীরার লোকজ অমৃত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
অবহেলার অন্ধকারে সাতক্ষীরার লোকজ অমৃত

আখলাকুর রহমান

বিকেলের ম্লান রোদটুকু যখন বাঁশবাগানের মাথার ওপর এসে থমকে দাঁড়ায়, তখন গ্রামীণ নিস্তব্ধতার বুক চিরে এক তীব্র উদাসীনতার সুর কানে বাজে। রূপসী বাংলার এই নিভৃত কোণে, যেখানে সুন্দরবনের নোনা বাতাস আর পলিমাটির সুবাস মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, সেই সাতক্ষীরার মেঠোপথের ধারে কতশত অবহেলিত ইতিহাস লুকিয়ে আছে, তার খবর শহরতলির মানুষ কোনোদিন জানতেও পারে না। একসময় আমাদের শৈশবের দিনগুলো জড়িয়ে থাকত গ্রামের ঝোপঝাড়ে, সাপের উপদ্রব উপেক্ষা করে নিবিড় কোনো বাঁশবনের কোণে। সেখানে অযতেœ, অবহেলায় কত বিচিত্র ফলের মেলা বসত। টক-মিষ্টি স্বাদের টুকটুকে লাল বৈঁচি ফল, হলদেটে ডেউয়া, ডালপালার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সুমিষ্ট কাউফল কিংবা উঠোনের কোণের সেই জীর্ণ আতা গাছটি—এরা তো কেবল ফল ছিল না, ছিল বাংলার শ্বাশত রূপের একেকটি চিরচেনা অবয়ব।

আজকের নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ইট-পাথরের খাঁচায় বসে ল্যাপটপের পর্দায় কত কী দেখে, কিন্তু বৈঁচি ফলের সেই অম্ল-মধুর স্বাদ কিংবা কাউফলের গন্ধ তাদের চেনা জগতের অনেক বাইরে রয়ে গেল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দেশীয় ফলগুলো ছিল গ্রামীণ মানুষের পুষ্টির এক অফুরন্ত এবং সহজলভ্য উৎস। অথচ বড় বেদনার সাথে লক্ষ্য করতে হয়, প্রকৃতির এই অমূল্য দানগুলোকে পরম যতেœ বাঁচিয়ে রাখার, কিংবা এদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি প্রয়াস আজ চোখে পড়ে না। যেন এক অলিখিত নিয়মে আমরা আমাদের শেকড়কে ভুলে যাওয়ার উৎসবে মেতে উঠেছি।

শুধু কি বুনো ফল? এই জনপদের মানুষের হাতের ছোঁয়ায় কত কী যে অমৃত হয়ে উঠত, তা ভাবলে অবাক হতে হয়। বর্ষার জলে ভেসে আসা সাতক্ষীরার খাল-বিলের আদি খৈলশা কিংবা পারশে মাছের সেই সোঁদা গন্ধযুক্ত শুঁটকি, সুন্দরবনের গহীন অরণ্য থেকে মৌয়ালদের বুকভাঙা পরিশ্রমে সংগৃহীত খাঁটি পদ্মমধু, কিংবা গোয়াল ঘরের গরুর দুধ জ্বাল দিয়ে পরম যতেœ তৈরি করা খাঁটি গাওয়া ঘি—এসবের স্বাদে ও গুণে যে অনাবিল তৃপ্তি ছিল, তা আজকের নামী-দামী সুপারশপের চকচকে মোড়কের খাবারে মেলা ভার। কিন্তু বড় দুঃখ হয় যখন দেখি, সঠিক বিপণন ও আধুনিক ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে এই অসাধারণ পণ্যগুলো দেশের মূল ধারার বাজারে নিজেদের যোগ্য আসনটি আজও ফিরে পেল না। প্রচারের আলো থেকে বহুদূরে, গ্রামীণ হাটের ধুলোবালি আর অবহেলার অন্ধকারে এরা যেন নিজেদের অস্তিত্বের শেষ স্পন্দনটুকু টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে একটা দেশের প্রাণস্পন্দনও স্তিমিত হয়ে আসে। আমাদের মাটির এই সোঁদা গন্ধ, আমাদের এই নিজস্ব ফল আর লোকজ সম্পদগুলোকে যদি আমরা হারিয়ে যেতে দিই, তবে ভবিষ্যৎ এক চরম রিক্ততার মুখোমুখি দাঁড়াবে। এখনো সময় আছে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং আমাদের এই সুপ্ত গৌরবকে বাঁচিয়ে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সাতক্ষীরার এই নিজস্ব সম্পদগুলোর গায়ে আধুনিকতার রঙ চড়িয়ে যদি দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তবেই হয়তো প্রকৃতির এই পরম উপহারের সঠিক মূল্যায়ন হবে। মেঠোপথের ধারের ওই নামহীন কাউফল গাছটি কিংবা অবহেলিত শুঁটকির ডালি যেন ফিসফিসিয়ে আমাদের বিবেককে ডেকে বলছে, তোমরা আধুনিক হও, কিন্তু নিজেদের হারিয়ে ফেলে নয়।

 

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।