বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ইছামতির বাঁকে বাঁকে: জল ও জীবনের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
ইছামতির বাঁকে বাঁকে: জল ও জীবনের লড়াই

দীপঙ্কর বিশ্বাস

নদীমাতৃক বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক চিরচেনা ও ঐতিহাসিক নদী ইছামতি। এই নদীকে ঘিরেই যুগ যুগ ধরে গড়ে উঠেছে কতশত জনপদ, সভ্যতার বিকাশ আর হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা। বিশেষ করে ইছামতির দুই পাড়ে বসবাসকারী মৎস্যজীবীদের কাছে এই নদী কেবলই একটি জলধারা নয়; এটি তাদের অন্নদাতা, তাদের সুখ-দুঃখের পরম সঙ্গী। কিন্তু সময়ের আবর্তে আজ কেমন আছে ইছামতির সেই মৎস্যজীবীরা? তাদের জীবন-জীবিকার হালচালই বা কী?

ভোর হওয়ার আগেই যখন চারপাশ কুয়াশায় বা মৃদু অন্ধকারে ঢাকা থাকে, তখনই ইছামতির বুকে শোনা যায় বৈঠার শব্দ। ছৈওয়ালা নৌকায় বসে জাল গোছাতে গোছাতে মৎস্যজীবীরা জপতে থাকেন এক অজানা প্রার্থনা-আজ যেন নদীর বুক থেকে কিছু রূপালি ফসল ঘরে তোলা যায়।

বংশপরম্পরায় এই পেশায় টিকে থাকা জলদাস বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবন ইছামতির জোয়ার-ভাটার মতোই চঞ্চল। খেপলা জাল, কারেন্ট জাল কিংবা ঝাঁকি জাল ছুঁড়ে দিয়ে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। মাছ বলতে কখনো চিংড়ি, আবার কখনো বেলে, ট্যাংরা বা পারশে। এই মাছ বিক্রি করেই চলে তাদের সংসারের চাল-ডাল কেনা, সন্তানের স্কুলের খরচ আর বুড়ো মা-বাবার ওষুধের টাকা।

সংকটের চোরাবালি: বিপন্ন ইছামতি, বিপন্ন জীবন
সোনালী অতীতের গল্প এখন রূপকথা মনে হয়। বর্তমান সময়ে ইছামতির মৎস্যজীবীরা নানামুখী সংকটের মুখোমুখি। সাংবাদিক হিসেবে মাঠপর্যায়ে তাকালে কয়েকটি বড় ধাক্কা স্পষ্ট চোখে পড়ে,

১. নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগের মতো গভীরতা নেই, ২.কমে গেছে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র। ৩. কৃষিজমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক ধুয়ে এসে পড়ছে ইছামতিতে। ফলে মাছের মড়ক এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। ৪. ইছামতির একটি বড় অংশ বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা নির্ধারণ করে। সীমানা জটিলতা ও কড়া নজরদারির কারণে মৎস্যজীবীরা অনেক সময় স্বাধীনভাবে মাছ ধরতে পারেন না। অনিচ্ছাকৃত সীমান্ত লঙ্ঘনের ভয়ে আতঙ্কে কাটে তাদের দিন।

যখন নিষেধাজ্ঞার মেঘ নামে
মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে সরকারিভাবে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ইলিশের প্রজনন মৌসুম বা জাটকা রক্ষার এই উদ্যোগ পরিবেশের জন্য দারুণ হলেও, বিকল্প কর্মসংস্থানহীন মৎস্যজীবীদের পেটে তখন চড়া চাবুক পড়ে। সরকারের দেওয়া চালের বরাদ্দ অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল কিংবা পৌঁছাতে দেরি হয়। ফলে দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন তারা। এই ঋণের জাল থেকে তারা আর সহজে বের হতে পারেন না।
“নদী আমাদের মা। মা কি কখনো সন্তানকে না খেয়ে মারে? নদী ঠিকই মাছ দিত, কিন্তু মানুষই তো নদীটারে মেরে ফেলল।” -একজন প্রবীণ মৎস্যজীবীর আক্ষেপ।

বাঁচিয়ে রাখার দায় আমাদেরই
ইছামতি নদী এবং এর ওপর নির্ভরশীল মৎস্যজীবীদের জীবন বাঁচাতে হলে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

১. শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

২. মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে মৎস্যজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত ও সঠিক সময়ে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের (যেমন- হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প) প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।

৩. মহাজদের কবল থেকে বাঁচাতে সরকারি ব্যাংক বা সমবায় সমিতির মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের স্বল্প সুদে বা সুদহীন ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত।

ইছামতি নদী শুধু এক ফালি জলরেখা নয়, এটি হাজার হাজার মৎস্যজীবী পরিবারের ধমনী। এই ধমনী শুকিয়ে গেলে কিংবা দূষিত হলে থমকে যাবে একটি আস্ত জনপদের জীবনস্পন্দন। ইছামতির রূপালি মাছ আর মৎস্যজীবীদের মুখের অমলিন হাসি টিকিয়ে রাখতে হলে নদীকে ভালোবাসতে হবে, নদীকে বাঁচাতে হবে। কারণ, ইছামতি বাঁচলে, বাঁচবে মৎস্যজীবী; আর মৎস্যজীবী বাঁচলে টিকে থাকবে আমাদের চিরন্তন বাংলার রূপ।

 

 

Ads small one

পাইকগাছায় শহীদ এম এ গফুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় শহীদ এম এ গফুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় শহীদ এম এ গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আগামী তিন বছরের জন্য গঠিত নতুন ম্যানেজিং কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে বিদ্যালয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নবনির্বাচিত সভাপতির হাতে এই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ। এ সময় কমিটির নতুন সভাপতি ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রুহুল কুদ্দুস, সহসভাপতি মো. রবিউল ইসলাম এবং সদস্য সচিব ও প্রধান শিক্ষক সেলিনা পারভীনসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পাটকেলঘাটায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি, তিন হোটেলকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি, তিন হোটেলকে জরিমানা

খলিষখালি (তালা) প্রতিনিধি: তালার পাটকেলঘাটা বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রির অভিযোগে তিনটি হোটেলকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে বাজারের ‘মক্কা বিরিয়ানি হাউজ’কে ১ হাজার টাকা, ‘বিসমিল্লাহ হোটেল অ্যান্ড সুইটস’কে ৩ হাজার টাকা এবং ‘মেসার্স আব্বাস হোটেল’কে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় এই জরিমানা আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারের অন্য দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

শতবর্ষী আব্দুল কাদেরের জীবন চলে নাতনির ভিক্ষার টাকায়, মেলেনি সরকারি ঘর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
শতবর্ষী আব্দুল কাদেরের জীবন চলে নাতনির ভিক্ষার টাকায়, মেলেনি সরকারি ঘর

0-4064x3074-0-0#

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ফয়জুল্যাপুর গ্রামে এক জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে চরম অভাব আর অনাহারে দিন কাটছে শতবর্ষী বৃদ্ধ আব্দুল কাদের সরদারের। কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় প্রতিবন্ধী নাতনির ভিক্ষার টাকা এবং সামান্য সরকারি ভাতায় চলছে তিন সদস্যের এই পরিবারের জীবনসংগ্রাম।
ফয়জুল্যাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের বয়স একশ বছর পেরিয়ে গেছে। ১৫-১৬ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান। তিন কন্যাসন্তান থাকলেও তারা সবাই দরিদ্র এবং স্বামীর সংসারে থাকেন। বর্তমানে বিদ্যুৎহীন একটি ছোট্ট পলিথিনের ছাউনি দেওয়া ঘরে কাদেরের সঙ্গে থাকেন তার প্রতিবন্ধী নাতনি আহ্লাদী ও নাতনির দুই বছরের এক কন্যাসন্তান। ভাঙা ঘরে রোদ-বৃষ্টির মধ্যেই তাদের বাস করতে হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল কাদেরের নামে মাসে ৬০০ টাকার বয়স্ক ভাতা এবং তার নাতনির নামে ৮৩৩ টাকার প্রতিবন্ধী ভাতা রয়েছে। এই সামান্য টাকায় চাল, ডাল, ওষুধ ও শিশুর খাবার কেনা সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবার এবং নাতনি আহ্লাদীর ভিক্ষার আয়ের ওপরই তাদের টিকে থাকতে হচ্ছে। টাকার অভাবে এই ঘরে আজ পর্যন্ত বিদ্যুতের কোনো সংযোগও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আব্দুল কাদেরের কপালে কোনো ঘর জোটেনি। জীবনের শেষ সময়ে এসে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই, দুমুঠো অন্ন আর ঘরের আলোর আকুতি জানিয়েছেন এই বৃদ্ধ।
ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান জানান, আব্দুল কাদেরকে ইতিমধ্যে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি ঘরের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে বরাদ্দ কম থাকায় কিছুটা সময় লাগছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিদের নানা প্রতিশ্রুতি দেখা গেলেও এই অসহায় পরিবারের পাশে টেকসই সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসেনি। বৃদ্ধ আব্দুল কাদেরের শেষ জীবনটা একটু শান্তিতে কাটানোর জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিত্তবান ও প্রশাসনের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তাকে ‎সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: ‎নাম: আব্দুল কাদের সরদার, ‎গ্রাম: ফয়জুল্যাপুর, ডাক: ব্রহ্মরাজপুর, ‎উপজেলা: সাতক্ষীরা সদর, জেলা: সাতক্ষীরা, ‎মোবাইল: ০১৩১১০৫৪৮৩৫ (নগদ)।