মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

নিরাপদ খাদ্যের শ্যামল ভান্ডার : আমাদের সাতক্ষীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
নিরাপদ খাদ্যের শ্যামল ভান্ডার : আমাদের সাতক্ষীরা

আখলাকুর রহমান

ইছামতীর বুক ছুঁয়ে আসা ভোরের বাতাস যখন বেতবনের পাতা কাঁপিয়ে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ মাঠে গিয়ে আছড়ে পড়ে, তখন মনে হয় এ যেন মহান রবের এক অসীম নেয়ামতের চাদর। যে মাটিতে হাত রাখলেই রিজিকের সন্ধান মেলে, সেই মাটিকে বিষমুক্ত রেখে মানুষের পাতে খাঁটি ও হালাল খাবার তুলে দেওয়ার এক নীরব সাধনা আজ এই অঞ্চলের প্রতিটি ধূলিকণায় লুকিয়ে আছে।

এই মাটির একটা নিজস্ব ভাষা আছে, যা আমরা রাসায়নিকের তীব্র গন্ধে প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। কিন্তু আবার সময় এসেছে আল্লাহ তাআলার দেওয়া সেই আদি ও অকৃত্রিম রূপটিকে ফিরিয়ে আনার। আমাদের সাতক্ষীরার যে ঐতিহ্যবাহী ধান, তা আজ অতিরিক্ত কীটনাশকের বিষাক্ত বলয় থেকে মুক্তি পেতে চাইছে।

 

প্রকৃতির বুকেই লুকিয়ে আছে শস্য রক্ষার অদ্ভুত সব কুদরতি দাওয়াই। প্রাচীনকালের সেই আলোক ফাঁদ কিংবা ক্ষেতের মাঝে ডালপালা পুঁতে পাখি বসার যে পার্চিং পদ্ধতি, তা কেবল আদিম কোনো নিয়ম নয়। এটি প্রকৃতির সাথে মিতালির এক সুন্দর উপায়। ধানক্ষেতে যখন ক্ষতিকর পোকা দমনে বন্ধু পোকারা আপনমনে কাজ করে, তখন কোনো কৃত্রিম বিষের প্রয়োজন পড়ে না। নিমপাতার রস কিংবা মেহগনির ফলের নির্যাস দিয়ে তৈরি ভেষজ বালাইনাশক যখন ধানের গায়ে ছিটানো হয়, তখন ধানের শিষগুলো যেন বিষমুক্ত বাতাসে শান্তিতে মাথা দোলায়।

মাধবকাটি কিংবা ইন্দিরার মতো উর্বর পলিমাটির অঞ্চলগুলোতে গেলে চোখ জুড়িয়ে যায় সবুজ সবজির সমারোহ দেখে। পটোল, বেগুন আর ঝিঙের সেই আদি স্বাদ ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের রাসায়নিক সারের মোহ ত্যাগ করতেই হবে। গোবর, খড়কুটো আর কচুরিপানা পচিয়ে তৈরি করা কেঁচো কম্পোস্টের ব্যবহারে মাটির পুষ্টি ফেরে চিরচেনা উপায়ে।

 

বিষাক্ত কীটনাশকের বদলে আধুনিক উপায়ে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে যখন ক্ষতিকর পোকা দমন করা হয়, তখন সবজির লতাগুলো কোনো বিষের দাগ ছাড়াই বেড়ে ওঠে। ইন্দিরার মাঠের সেই তাজা বেগুন কিংবা মাধবকাটির পটোলে যখন কোনো ক্ষতিকর উপাদানের ছোঁয়া থাকে না, তখন তা কেবল খাদ্য থাকে না, হয়ে ওঠে মহান আল্লাহর দরবার থেকে আসা পবিত্র এক উপহার।

সাতক্ষীরার মূল চালিকাশক্তি লুকিয়ে আছে তার সাদা মাছের বিল আর চিংড়ির ঘেরগুলোতে। লোনা আর মিঠা পানির এই মিলনমেলায় রূপালী ফসলের যে জৌলুস, তাকে বাঁচাতে হবে মানুষের লোভের আগ্রাসন থেকে। চিংড়িতে ক্ষতিকর পুশ করে অধিক মুনাফা লাভের যে অনৈতিক প্রবণতা, তা আসলে আমাদের নিজেদের সমাজ ও বিশ্বাসকেই ধ্বংস করছে। ঘেরের পানিতে যত্রতত্র রাসায়নিক সার না ঢেলে যদি প্রাকৃতিক উপায়ে শৈবাল তৈরির জন্য খৈল বা কম্পোস্ট ব্যবহার করা হয়, তবে মাছ তার স্বাভাবিক নিয়মেই পুষ্ট হয়ে ওঠে।

 

সাদা মাছের চাষে কোনো কৃত্রিম হরমোন বা অ্যান্টিবায়োটিকের আশ্রয় না নিয়ে, জলাশয়ের চারপাশে নিমগাছ রোপণ করে পানির গুণাগুণ প্রাকৃতিকভাবে রক্ষা করা সম্ভব। ঘেরের পাড়ে যখন আপনমনে ডালিম কিংবা সজনে গাছ বেড়ে ওঠে, তখন তার ছায়ায় মাছেরা কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক ছাড়াই বুক ভরে অক্সিজেন নেয়।

সাতক্ষীরা কেবল একটি মানচিত্রের নাম নয়, এটি এক পরম আমানতের নাম। কপোতাক্ষ আর ইছামতীর জলহাওয়া দিয়ে সৃষ্টিকর্তা যে মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাদের দায়িত্ব এখন এই মাটির সততাকে রক্ষা করা। আমাদের ঘরের সন্তানটি যেন বিষহীন এক মুঠো ভাত আর রাসায়নিকমুক্ত এক টুকরো মাছ খেয়ে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সেই সুন্দর ও পুণ্যময় সমাজ গঠনই হোক আজকের সাতক্ষীরার আসল প্রতিজ্ঞা। লেখক : উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা : আসিফা

Ads small one

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মিসরকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মিসরকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

প্রথমার্ধে এক গোলে পিছিয়ে, পেনাল্টি মিস, প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের একের পর এক দুর্দান্ত সেভ। তার পর দ্বিতীয়ার্ধেও গোল হজম! দুই গোলে পিছিয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। পড়ে যায় বিদায়ের শঙ্কার মুখে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন তারা। যারা শেষ মুহূর্তেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। রুদ্ধশ্বাস লড়াই উপহার দিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের শেষভাগে ৪ মিনিটের ব্যবধানে মেসি ম্যাজিকে ম্যাচে ফেরে তারা। দুই গোল শোধ দিয়ে সেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও ম্যাচের ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে এগিয়ে যায় মিসর। শর্ট কর্নার থেকে আতিয়ার ক্রসে নিখুঁত হেডে গোল করেন ইব্রাহিম। এর মধ্য দিয়ে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল হজম করে আর্জেন্টিনা।

২১ মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল লিওনেল স্ক্যালোনির দল। পেনাল্টি আদায় করলেও স্পট কিক থেকে গোল করতে পারেননি লিওনেল মেসি। তার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক শোবাইর।

এরপর ২৮ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের নিখুঁত ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেডও রুখে দেন শোবাইর। ৩৯ মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে হুলিয়ান আলভারেজের প্রথম ছোঁয়ার শটও দুর্দান্ত সেভে পোস্টের বাইরে পাঠিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক। প্রথমার্ধ শেষে তাই ১-০ গোলের লিড নিয়েই মাঠ ছাড়ে মিসর।

দ্বিতীয়ার্ধে ৬৭ মিনিটে জিকোর গোল আরও বড় আঘাত হয়ে আসে আলবিসেলেস্তে শিবিরে। শঙ্কা জাগে এখানেই কি শেষ আর্জেন্টিনার? কিন্তু শেষভাগে ম্যাচের চেহারাই বদলে দেয় আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো।

চার মিনিট পরই আসে মেসি ম্যাজিক। মিসরের ডিফেন্ডারদের ভুলে গনসালো মন্তিয়েলের পাস পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জোরালো শট নেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। শোবাইর বলটি স্পর্শ করলেও সেটি ক্রসবারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। তাতেই ২-২ সমতায় ফেরে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

নাটকীয়তার শেষটা লিখেছেন এনসো ফার্নান্দেস। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তার গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে মেসির দল।

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: কপোতাক্ষের মাটি লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: কপোতাক্ষের মাটি লুট

জাতীয় স্বার্থ ও পরিবেশগত সুরক্ষাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পাটকেলঘাটার কাটাখালি অঞ্চলে কপোতাক্ষ নদের খননকৃত মাটি অবৈধভাবে বিক্রি ও পাচারের যে খবর সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খননের মূল উদ্দেশ্য যেখানে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, সেখানে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করতে এই প্রকল্প এখন স্থানীয়দের জন্য উল্টো কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন-রাত ট্রাক ও ট্রলিযোগে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে একদিকে যেমন সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে কপোতাক্ষ তীরের গ্রামগুলোতে আসন্ন বর্ষায় ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী, খননকৃত মাটি নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধ শক্তিশালী করতে বা সরকারি নির্দেশনানুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই সেই মাটি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটা, বাড়ি ও বেসরকারি জমি ভরাটের কাজে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই পুরো অবৈধ বাণিজ্যের নেপথ্যে রয়েছে। জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ব্যক্তি ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে এভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কপোতাক্ষ তীরের বাসিন্দাদের এই ক্ষোভ ও আশঙ্কা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

নদী অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে টিকে থাকে। তার ওপর ভরা বর্ষা মৌসুমে যখন নদীর পানি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বেড়িবাঁধ বা নদীর তীর থেকে এভাবে মাটি সরানো চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এর ফলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে; তলিয়ে যেতে পারে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘের।

আমাদের বক্তব্য স্পষ্টÑ কেবল মুখের আশ্বাস বা তদন্তের আনুষ্ঠানিকতায় সাধারণ মানুষের এই গভীর উৎকণ্ঠা দূর হবে না। তালা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ঘটনাস্থলে পাঠানোর উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই, তবে মাঠপর্যায়ে এর দৃশ্যমান ও কঠোর প্রতিফলন দেখতে চায় কপোতাক্ষপাড়ের মানুষ।

আমরা মনে করি, অবিলম্বে এই মাটি পাচার চক্রের অবৈধ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। কপোতাক্ষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই লুটেরা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে, বর্ষার তীব্রতা বাড়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো সংস্কারে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। কপোতাক্ষ তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে প্রশাসন অতি দ্রুত কঠোর ও আপসহীন ভূমিকা পালন করবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এক গোল শোধ করল আর্জেন্টিনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
এক গোল শোধ করল আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ১ : ২ মিসর
আর্জেন্টিনার হয়ে এক গোল শোধ করলেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।