ভোমরা কাস্টম হাউসে বড় রাজস্ব ঘাটতি: লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৫০ কোটি টাকা কম আদায়
এম শফিকুল ইসলাম: সদ্য সমাপ্ত ২০২২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টম হাউসে বড় অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত ২০৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ১১১৪ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা। ফলে অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫০ কোটি ৬৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা। কাস্টম হাউসের জনপ্রশাসন দপ্তর থেকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় এবার রাজস্ব আদায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। কাস্টম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈশ্বিক মন্দা, দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েনে আমদানি হ্রাস, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এবং শুল্কায়ন কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অবশ্য কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, শুল্ক ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি ও উন্নত পরিকল্পনার কারণে সম্ভাব্য আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এদিকে বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে ভোমরা বন্দরের বাণিজ্য খাত। ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, এলসি (ঋণপত্র) খোলায় জটিলতা এবং ডলার সংকটের কারণে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা কাটছে না। ফলে সামগ্রিক বাণিজ্য সক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ভোমরা কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বহুমুখী সমস্যায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসা কমে যাওয়ায় রাজস্ব খাতে এই বড় ধাক্কা লেগেছে। ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এখন সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন।
ভোমরা কাস্টম হাউসের কমিশনার জানিয়েছেন, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন বাজেটের আওতায় ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগের পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








