বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: উপকূলের জলবায়ু উদ্বাস্তু ও পেশা বদল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: উপকূলের জলবায়ু উদ্বাস্তু ও পেশা বদল

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখন আর কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় মানুষের জীবনে তা এক নির্মম ও প্রাত্যহিক বাস্তবতা। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আশঙ্কাজনক হারে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে এই অঞ্চলের প্রাতাষ্ঠানিক ও ঐতিহ্যবাহী জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সিডর, আইলা, আম্পানের মতো একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন নতুন দুর্যোগ এসে উপকূলের মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। এই বহুমুখী সংকটের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে মানুষের পেশা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর, যা অবিলম্বে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের, বিশেষ করে কয়রা, পাইকগাছা, শ্যামনগর ও আশাশুনি এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি ও মৎস্য চাষ। কিন্তু জমিতে ও মিষ্টি পানির উৎসে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করার ফলে ফসলি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী ধান চাষ বা মিষ্টি পানির মাছ চাষ এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, টিকে থাকার তাগিদে উপকূলের মানুষ বাধ্য হয়ে তাঁদের আদি পেশা পরিবর্তন করছেন। জেলেরা মাছ ধরার ঝুঁকি ও আকাল দেখে ঝুঁকছেন কাঁকড়া বা কুঁচে চাষে। কৃষকেরা সনাতন চাষাবাদ ছেড়ে লবণ-সহিষ্ণু জাতের ধান কিংবা তরমুজ চাষের চেষ্টা করছেন। এমনকি পুরুষেরা কর্মহীন হয়ে পড়ায় নারীরা বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ বা কাঁকড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো কঠিন পরিশ্রমে যুক্ত হচ্ছেন। কিন্তু জলবায়ুর এই আগ্রাসী পরিবর্তনের সামনে এই স্থানীয় অভিযোজন কৌশলগুলোও দীর্ঘমেয়াদে টিকতে পারছে না।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যখন স্থানীয়ভাবে জীবনধারণের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন মানুষ বাধ্য হয় নিজের ভিটেমাটি ত্যাগ করতে। গত দুই দশকে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বিভাগীয় শহর ও ঢাকামুখী মানুষের স্রোত অভাবনীয় হারে বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া এই ‘জলবায়ু উদ্বাস্তুরা’ যখন শহরে আসছেন, তখন তাঁদের পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া কৃষিজ্ঞান বা মাছ ধরার দক্ষতা পুরোপুরি অর্থহীন হয়ে পড়ছে। গ্রামের একজন স্বাধীন ও দক্ষ কৃষক কিংবা খামারি শহরে এসে স্রেফ বেঁচে থাকার তাগিদে রিকশাচালক, ইটভাটার দিনমজুর কিংবা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে অত্যন্ত কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। খুলনা, ঢাকা বা চট্টগ্রামের বস্তিগুলোতে তাকালে দেখা যাবে, সেখানকার বাসিন্দাদের একটি বিশাল অংশ এসেছেন এই উপকূলীয় অঞ্চল থেকে। জলবায়ুর এই মরণকামড় কেবল তাঁদের সম্পদই কেড়ে নেয়নি, তাঁদের পেশাগত পরিচয় ও সামাজিক মর্যাদাটুকুও ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের চাল উৎপাদন ৮ শতাংশ এবং গম উৎপাদন ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও উপকূলের অর্থনীতিতে। বাংলাদেশ বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে, যার অগ্রভাগে আছে এই উপকূলের বাসিন্দারা। অথচ বিশ্বমঞ্চে কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা নগণ্য হলেও এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে।
এই চরম সংকট মোকাবিলায় কেবল ত্রাণ বিতরণ বা সাময়িক পুনর্বাসন কোনো টেকসই সমাধান নয়। প্রথমত, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা প্রতিরোধী কৃষি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সরকারি উদ্যোগে ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, টেকসই ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ফসলি জমিতে নোনা জলের প্রবেশ ঠেকানো যায়। তৃতীয়ত, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা জরুরি। বিশ্ব জলবায়ু তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। উপকূলের মানুষের এই নীরব কান্না ও পেশা হারানোর দীর্ঘশ্বাস বন্ধ করতে রাষ্ট্রকে এখনই সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

 

 

 

Ads small one

বিভিন্ন স্থানে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
বিভিন্ন স্থানে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদযাপন

সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলা ও স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে। ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বর্ণাঢ্য রথ শোভাযাত্রা, বিশেষ পূজা-অর্চনা, কীর্তন ও ভক্তিমূলক সংগীতের মধ্য দিয়ে জেলাজুড়ে এই উৎসব শুরু হয়। স্থানভিত্তিক সংক্ষিপ্ত সংবাদগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
পাটকেলঘাটা: পাটকেলঘাটায় শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের শুভ রথযাত্রা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় পাটকেলঘাটা বলফিল্ড রথ মন্দির থেকে শত শত নারী, পুরুষ ও শিশুর অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে শোভাযাত্রাটি কালীবাড়ি সড়ক, গোডাউন সড়ক ও বলফিল্ড সড়কসহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ ছাড়া উপজেলার খলিশখালী ও দলুয়া বাজারেও আনন্দঘন পরিবেশে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। দলুয়া বাজার মন্দির থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রাটি কৈখালী ও টিকরামপুর সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বাজারে এসে শেষ হয়। কুমিরা বাসস্ট্যান্ডেও রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। উৎসবের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 


শ্যামনগর: শ্যামনগরের গোপালপুর রাধাগোবিন্দ মন্দিরে মহাসমারোহে জগন্নাথদেব, বলদেব ও সুভদ্রা মহারানীর শুভ রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী।

উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি হাসান শাহরিয়ার রিপন ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
রাধাগোবিন্দ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ কৃষ্ণ সখা দাস ব্রহ্মচারীর পরিচালনায় আলোচনা সভা ও পূজা শেষে রথটান শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি গোপালপুর রাধাগোবিন্দ মন্দির থেকে বের হয়ে নকিপুর হরিতলা সার্বজনীন মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এ ছাড়া উপজেলার সোনামুগারী রাস মন্দির, বল্লভপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, হরিনগর সাধুপাড়া কৃষ্ণ মন্দির এবং বুড়িগোয়ালিনীতে রথ উৎসব উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করা হয়।
লাবসা: সাতক্ষীরা সদরের লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা পূর্বপাড়া সার্বজনীন কালী মন্দির (কর্মকর পাড়া) প্রাঙ্গণে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও লাবসার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ ম-ল, ইউপি সদস্য নজিবুর রহমান টুটুল, মন্দির কমিটির সভাপতি অমিত চক্রবর্তী, রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আনন্দ কর্মকর ও সদস্য সচিব অসীম কর্মকর।
ব্রহ্মরাজপুর: ব্রহ্মরাজপুর জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রহ্মরাজপুর রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার সাহার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুর রউফ। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাবেক সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা, সদর উপজেলা সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি গৌর দত্ত ও মন্দিরের অধ্যক্ষ ভীম বন্ধু দাস কৃষ্ণদাস অধিকারী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কানাইলাল সাহা।


তালা: তালায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার মাঝিয়াড়া শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্দির কমিটির সভাপতি প্রভাষক আহ্লাদ ঘোষের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বসু ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তালা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম শফি এবং তালা প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক এসএম নজরুল ইসলাম।
বুধহাটা: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা দ্বাদশ শিব ও কালী মন্দিরে রথযাত্রা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রথ শোভাযাত্রাটি মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে নওয়াপাড়া মন্দির, শ্বেতপুর মন্দির এবং বুধহাটা দক্ষিণপাড়া মন্দির প্রদক্ষিণ করে মাসির বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়।

 


কাটিয়া কর্মকারপাড়া: সাতক্ষীরা সদর উপজেলা (কাটিয়া কর্মকার পাড়া) সার্বজনীন পূজা মন্দিরের উদ্যোগে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি গৌর দত্ত, দীনবন্ধু মিত্র, কিরণ্ময় সরকার, মনোরঞ্জন কর্মকার মন্টু, স্বপন কুমার সাহা ও সমীর কুমার বসুসহ মন্দির কমিটির অন্যান্য সদস্য ও ভক্তবৃন্দ।

 


কলারোয়া: কলারোয়ায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মঙ্গল আরতি, গীতাপাঠ ও ভজনকীর্তনের মধ্য দিয়ে ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে। কলারোয়া পৌরসভার হরিতলা পূজাম-প, গোয়ালঘাটা পূজাম-প ও উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়া পূজাম-পে পৃথকভাবে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। রথযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার পাল জানান, গোয়ালঘাটা ও হরিতলা পূজাম-প যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করেছে। অন্যদিকে, উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়ায় কলারোয়া সনাতন ধর্ম স্বেচ্ছাসেবক পরিষদের উদ্যোগে এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সহযোগিতায় উৎসবের সূচনা হয়।

 


কালীগঞ্জ: কালীগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দকাটিতে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী। তিনি গোবিন্দকাটির রথযাত্রা মন্দির প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং আয়োজক কমিটি, সেবায়েত ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তা ও সুবিধা নিয়ে কথা বলেন। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি হাসান শাহরিয়ার রিপন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলী আহসান খান হাবলু এবং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী প্রমুখ। পরিদর্শনকালে অ্যাডভোকেট ইফতেখার আলী সবাইকে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।

 

ঝাউডাঙ্গায় মন্দিরের জমি দখল ও চুরির ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
ঝাউডাঙ্গায় মন্দিরের জমি দখল ও চুরির ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভ

সংবাদদাতা: সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা জগন্নাথদেব মন্দিরে সকাল থেকেই গীতাপাঠ ও শ্রীকৃষ্ণের জীবনী নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল তিনটায় ঝাউডাঙ্গা জগন্নাথদেব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
সভায় বিশিষ্ট ধর্মীয় আলোচক গোষ্ঠী বিহারী ম-ল ও সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন এবং মন্দির ও হিন্দুদের জায়গা জবরদখলের চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, ঝাউডাঙ্গা জগন্নাথ মন্দিরের ৯৬ শতক জমির একটি অংশ জোরপূর্বক ভুয়া ডিসিআর দেখিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি পরানদহে কানাই সরদার ও বিপ্লব সরদারের জমি জবরদখলের চেষ্টা এবং শ্যামনগরে মন্দির ও হিন্দুদের জমি দখলের ঘটনা ঘটছে।
নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি, সরকারপাড়ায় চুরি এবং শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে মায়ের মুকুট চুরির ঘটনায় পুলিশ কার্যকর কোনো ক্লু বা চোরদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনকি মিথ্যা অভিযোগ এনে বল্লী ও আশাশুনির কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের চেষ্টার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় বিচার না পেয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুদের অবদান অনস্বীকার্য। ঝাউডাঙ্গা জগন্নাথদেব মন্দিরের এক ইঞ্চি জায়গাও জবরদখল করতে দেওয়া হবে না, কেউ দখল করার চেষ্টা করলে কড়া হাতে তা মোকাবিলা করা হবে। পরে তিনি ফিতা কেটে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন।

সাতক্ষীরায় এক সপ্তাহে সবজির দাম দ্বিগুণ, চরম বিপাকে নি¤œ আয়ের ক্রেতারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় এক সপ্তাহে সবজির দাম দ্বিগুণ, চরম বিপাকে নি¤œ আয়ের ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার স্থানীয় বাজারে হঠাৎ করেই সবজির দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও সীমিত আয়ের মানুষ। তবে বাজারে পর্যাপ্ত সবজি সরবরাহ থাকার পরও এই মূল্যবৃদ্ধিকে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না ক্রেতারা। অন্যদিকে আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা চড়া দামে সবজি বিক্রি করলেও উৎপাদনকারী কৃষকেরা কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাতক্ষীরা শহরতলীর কদমতলা ও সুলতানপুর বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম দ্বিগুণ হয়েছে। বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি করল্লা ও উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। একইভাবে আগের সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পটল ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা এবং ঢেঁড়শ ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ গত সপ্তাহের ৬০ টাকার পরিবর্তে এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া গোল আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস ৩০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
পাইকারি বাজারেও একই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। আড়তে প্রতি কেজি করল্লা ও উচ্ছে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা। টমেটো পাইকারি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা, পটল ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা এবং গাজর ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া পাইকারিতে ঢেঁড়শ ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, আলু ২১ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে আসা সবজি চাষিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাজারে পর্যাপ্ত সবজি সরবরাহ থাকলেও তাঁরা উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। মধ্যস্বত্বভোগী আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে কম দামে সবজি কিনে বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন। চাষিরা আরও জানান, চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত বর্ষায় ঘের এলাকার বেড়িবাঁধের সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার ওপর সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁদের উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়েছে। বাজারে যদি কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য না পান, তবে তাঁদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।