গ্রীষ্মের খরতাপে শরতের শুভ্রতা: সাতক্ষীরায় অসময়ে ফুটেছে কাশফুল
oplus_0
প্রকৃতির পঞ্জিকা বলছে এখন গ্রীষ্মকাল। কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। ঠিক এই সময়েই সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা হাবুকুড় এলাকায় দেখা মিলল এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের। শরতের চিরচেনা শুভ্র কাশবনের ছোঁয়া লেগেছে বৈশাখের তপ্ত দুপুরে। প্রকৃতির এই খেয়াল দেখে অবাক স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাধারণত ভাদ্র-আশ্বিন মাসে নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর নদীর ধারে কাশফুলের দোলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় শরতের আগমনী বার্তা। কিন্তু ইটাগাছা হাবুকুড়ের এই প্রান্তরে এখন সবুজের মাঝে ধবধবে সাদা কাশফুলগুলো বাতাসের তালে দুলছে। গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ দুপুরে এই দৃশ্য যেন এক চিলতে প্রশান্তি নিয়ে এসেছে ক্লান্ত পথচারীদের মনে।
সাতক্ষীরার এই কাশবন নিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, এটি কেবল একটি দৃশ্য নয়, যেন প্রকৃতির এক রূপক কবিতা। গ্রীষ্মের অগ্নিস্নাত আকাশের নিচে যেখানে ধূ ধূ মরুভূমি হওয়ার কথা, সেখানে কাশফুলের এই মেলা যেন বলছে—প্রকৃতি কোনো বাঁধাধরা নিয়ম মানে না। এটি যেন “বৈশাখের রুদ্রে শরতের চাদর”।
উদ্ভিদবিদদের মতে, অনেক সময় মাটির গুণাগুণ, আর্দ্রতা এবং বিশেষ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেও কোনো কোনো ফুল ফুটতে পারে। তবে সাতক্ষীরার এই অসময়ের কাশফুল স্থানীয়দের কাছে এক বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিকেলের হালকা রোদে এখন অনেকেই এই শুভ্রতার মাঝে কিছুটা সময় কাটাতে ভিড় করছেন ইটাগাছা হাবুকুড় এলাকায়। অনেকেই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। তারা বলছেন— “ঋতুরাজ বসন্ত বিদায় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু গ্রীষ্মের তাপদাহে শরত যেন নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে সাতক্ষীরার এই সবুজ প্রান্তরে।”
— ছবি ও লেখা এসএম শহীদুল ইসলাম







