ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠেও দিতে হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা, চাপে শিক্ষার্থীরা
সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনা সামলাবেন, নাকি নতুন করে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবই খুলবেনÑএমনই এক দোটানায় পড়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। আইনি জটিলতায় গত বছর স্থগিত হওয়া ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ফলে বর্তমান ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওপর দ্বিমুখী পড়াশোনার চাপ তৈরি হয়েছে।
গত বছর যারা পঞ্চম শ্রেণিতে ছিল, তারা বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। শিক্ষা বর্ষের মাঝামাঝি এসে হঠাৎ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে চার দিনব্যাপী এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে যারা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে, তাদের অনেকের কাছেই এখন পঞ্চম শ্রেণির বই বা নোট খাতা সংরক্ষিত নেই। হঠাৎ এই পরীক্ষার ঘোষণায় নতুন করে পুরনো ক্লাসের বই জোগাড় করে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে তাদের।
শ্যামনগরের নকিপুর সরকারি হরিচরণ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আলিফ হোসেন ও ছাত্রী তিসা জানায়, তারা গত বছর হায়নাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় বৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছিল। এখন তাদের একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনা করতে হচ্ছে, আবার পঞ্চম শ্রেণির প্রস্তুতির জন্য পুরনো স্কুলেও যেতে হচ্ছে। সামনে ষষ্ঠ শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা থাকায় চাপ আরও বেড়েছে।
অভিভাবকেরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে চরম চাপে রয়েছে। একদিকে মাধ্যমিকের নতুন কারিকুলাম ও পড়াশোনা, অন্যদিকে হুট করে আসা এই বৃত্তি পরীক্ষা তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীকে এখন একই দিনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক—উভয় স্কুলেই দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বৃত্তি পরীক্ষা মোট ৪০০ নম্বরের ওপর অনুষ্ঠিত হবে। শ্যামনগর উপজেলায় মোট ১ হাজার ১৫৮ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ১ হাজার ১১৩ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৪৩ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, “আইনি জটিলতার কারণে ২০২৫ সালের পরীক্ষাটি স্থগিত ছিল। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। পরীক্ষার সময়সূচি ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়কে কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষার এই দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষার্থীদের শিখন ফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরীক্ষার ক্ষেত্রে আরও পরিকল্পিত সময়সূচির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।









