মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

কপোতাক্ষের ভাঙনে তালার ৪ গ্রামে আতঙ্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
কপোতাক্ষের ভাঙনে তালার ৪ গ্রামে আতঙ্ক

তিন দিন ধরে বাঁধ আগলে আছে মানুষ, প্রশাসনের দেখা নেই!

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা: ঝুড়ি ভর্তি মাটি, হাতে কোদাল। রাত জেগে নদীর পাড়ে পাহারা। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের মানুষ এখন এভাবেই দিন কাটাচ্ছে। কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় জোয়ারের পানির চাপে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বালিয়া, শুভংকরকাঠি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের হাজারও মানুষ।

গত শনিবার রাতে জোয়ারের পানির তীব্র চাপে বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। বিলের মধ্যে থাকা মৎস্যঘেরের মালিকেরা প্রথমে বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত গ্রামে এসে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন। ঘুম ভেঙে গ্রামের নারী-পুরুষ-শিশু ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে ছুটে যান নদের পাড়ে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাঁরা ভাঙা অংশ সাময়িকভাবে মেরামত করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ ঠেকান। সেদিন রক্ষা পেলেও বিপদ কাটেনি।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধের আরও দুটি স্থানে নতুন করে ফাটল ধরেছে। পানি চুঁইয়ে ভেতরে ঢুকছে। তিন দিন ধরে গ্রামের মানুষ পালা করে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন এবং দুর্বল স্থানগুলো মাটি দিয়ে শক্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনবল ও উপকরণের অভাবে তা কতক্ষণ টিকবে, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন সবাই।

ভুক্তভোগী নাজমিন আক্তার উল্লেখ করেন, শনিবার রাতে সময়মতো না গেলে এতক্ষণে ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের লোনা পানিতে তলিয়ে যেত। নতুন করে ফাটল ধরার পর তিন দিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনকে ফোন দেওয়া হলেও কেউ এসে দেখেনি। এই বাঁধ ভেঙে গেলে বালিয়াসহ পাশের শুভংকরকাঠি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হবে এবং তলিয়ে যাবে বিস্তীর্ণ মাছের ঘের ও কৃষি জমি। ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান গাজী ও জামাল উদ্দীন জানান, প্রায় ১২-১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ নদ খনন শুরু হলে এলাকাবাসী সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদ খননের দাবি জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রথমে দুই দিন সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কাজ করার পর তা বন্ধ করে দেয়। এরপর চলমান গতিতে খনন করায় কপোতাক্ষ নদ তার নিজস্ব গতিপথ থেকে সরে এসে বালিয়া গ্রামের জনবসতির কাছে চলে আসে। এর ফলে বালিয়া অংশে নদের গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

 

একই সময়ে এই এলাকায় টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় নদ আরও খরস্রোতা হয়ে ওঠে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে কোনো স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করেনি। ফলে প্রতিবছর জোয়ারের পানির চাপে টিআরএম সংযোগ খালের পাশে দুটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে কৃষক ও ঘেরমালিকদের কোটি টাকার ক্ষতি হয়। বারবার লিখিত দরখাস্ত, সভা ও মানববন্ধন করেও আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু জানান, বালিয়া গ্রামের বাঁধের একাধিক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো এলাকা লোনা পানিতে ডুবে যাবে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গ্রামবাসীর একটাই দাবি, অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা এবং কপোতাক্ষ নদের বালিয়া অংশ সিএস ম্যাপ অনুযায়ী পুনরায় খনন করে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, বালিয়া এলাকার বাঁধের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত এবং ইতিপূর্বে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে সেখানে গিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া গেলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারা দেশে বর্তমানে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত সেখানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে বাঁধের কাজ করা সম্ভব হবে।

Ads small one

সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়নবিষয়ক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়নবিষয়ক কর্মশালা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) কমপ্লেক্সে সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, মৎস্য চাষ, গবাদিপশু ও জীবিকার ওপর স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় এবং যৌথ পরিকল্পনাবিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়ন: স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় ও যৌথ পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে কেয়ার বাংলাদেশের নেতৃত্বে ‘নবপল্লব’ কনসোর্টিয়াম ও কর্ডএইড।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেয়ার বাংলাদেশের রিজিওনাল ম্যানেজার লুৎফা পারভীন ও কর্ডএইডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মাসুদ রানা।
কর্মশালায় বক্তারা সুন্দরবন উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান (নেচার-বেসড সলিউশনস) গ্রহণের ওপর জোর দেন। জলবায়ু অভিযোজন ও স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারি দপ্তর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।

কলারোয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

 

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার মানিকনগর গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভিটেবাড়ি দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সোমবার রাতে কলারোয়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, একই গ্রামের তিন নারী ও কপিল উদ্দিন গাজী দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে তাঁর পরিবারকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। তাঁদের অত্যাচারের কারণে মানিকনগরের বাড়ি ছেড়ে বর্তমানে খোর্দ্দ বাজারে দাদার বাড়িতে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন।
উজ্জ্বল হোসেন জানান, ২০১৪ সালে তাঁদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হলেও তা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পরবর্তীতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩০ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। এর মধ্যে সর্বশেষ মামলায় ২ নম্বর আসামি হিসেবে তাঁর মামা শামিনুর রহমানকে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে সোনাবাড়িয়া বাজার থেকে কলারোয়া থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ ও জখমের হুমকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জেলা কালচারাল অফিসার অন্বেষার সঙ্গে মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
জেলা কালচারাল অফিসার অন্বেষার সঙ্গে মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মৌচাক সাহিত্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিস কক্ষে উপস্থিত হয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি মৌচাক সাহিত্য পরিষদের বিভিন্ন কর্মকা- সম্পর্কে অবহিত হন এবং সংগঠনের কবি-সাহিত্যিকদের খোঁজখবর নেন। এ সময় মৌচাক সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষাকে শুভেচ্ছা স্মারক, ‘মৌচাক’ পত্রিকা এবং মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুল ওহাব আজাদের লেখা তিনটি বই প্রদান করা হয়।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুল ওহাব আজাদ, সহসভাপতি প্রভাষক মহিনুর ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মো. মছরুর রহমান, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুন্না ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।