আইনমন্ত্রীর আশ্বাসের পর দ্রুত পদায়ন: প্রায় এক বছর পর বিচারক পেল সাতক্ষীরা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল
কর্মজীবনের শুরুতেই সাতক্ষীরায় ছিলেন নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন
বদিউজ্জামান: দীর্ঘ প্রায় এক বছর বিচারকশূন্য থাকার পর অবশেষে বিচারক পেল সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনকে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আইন ও বিচার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এ পদায়নের কথা জানানো হয়।
সাতক্ষীরার বিচারাঙ্গনের জন্য এ নিয়োগের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনের বিচার বিভাগীয় কর্মজীবনের শুরুই হয়েছিল সাতক্ষীরা থেকে। ২০০৬ সালের ১৫ মার্চ সহকারী জজ হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দিয়ে তিনি সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করেন। পরের বছর ২৪ নভেম্বর ২০০৭ সালে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের শুরুর সেই সাতক্ষীরাতেই দীর্ঘ দুই দশক পর এবার তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে ফিরছেন।
প্রায় এক বছর ধরে বিচারক না থাকায় সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। বর্তমানে এ আদালতে প্রায় পাঁচ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার পাশাপাশি আদালতটি শিশু আদালত ও মানব পাচারসংক্রান্ত মামলার দায়িত্বও পালন করে। বিচারক না থাকায় এসব মামলার কার্যক্রমেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।
বিচারক নিয়োগের দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকেও ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৩০ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ বিচারকশূন্য আদালতগুলোতে দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক, সাতক্ষীরার উদ্যোগে এবং মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বিচারক নিয়োগের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছেও লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। গত ২৩ আগস্ট করা ওই আবেদনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত একজন বিচারক পদায়নের দাবি জানানো হয়।
এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাতক্ষীরা সফরে এসে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিচারকশূন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। মতবিনিময় শেষে আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সংকট নিরসনে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
আইনমন্ত্রীর ওই আশ্বাসের মাত্র চার দিনের মধ্যেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আরো একজন বিচারক পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় সাতক্ষীরার বিচারাঙ্গনে স্বস্তি ফিরেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের দাবির পর নতুন বিচারক নিয়োগ হওয়ায় এখন নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথ সুগম হলো। তবে আরো নয়জন বিচারকের পথ শূন্য থাকায় অতি দ্রুত সেসব পদে বিচারক পদানের দাবি রয়েছে আইনজীবীদের।
নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন ১৫ মার্চ ২০০৬ সালে সহকারী জজ হিসেবে বিচার বিভাগীয় চাকরিতে যোগ দেন। এরপর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর ওই পদে দায়িত্ব পালনের তথ্যও সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।
দীর্ঘদিন পর সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগ হওয়ায় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নবনিযুক্ত বিচারক দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম শুরু করলে প্রায় পাঁচ হাজার বিচারাধীন মামলার জট ধীরে ধীরে কমবে এবং দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা নারী, শিশু ও অন্যান্য বিচারপ্রার্থীরা বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আশার আলো দেখবেন।












